নতুন বছরের শুরুতেই নতুন নাটক নিয়ে মঞ্চে আসছে নাট্যদল সমতল। তাদের প্রযোজনা নাটকের নাম লুৎফার প্রদীপ। নাটকটি লিখেছেন তানভীর মোকাম্মেল এবং নির্দেশনা দিয়েছেন সগীর মোস্তফা। এ নাটকে একক অভিনয়ে দেখা যাবে অভিনেত্রী চিত্রলেখা গুহকে। মঞ্চে এটি তার প্রথম একক অভিনয়।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে সন্ধ্যা ৬টায় লুৎফার প্রদীপ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন রাত ৮টা ৫ মিনিটে মঞ্চস্থ হবে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী।
নাটকের গল্পে উঠে এসেছে পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার করুণ পরিণতির ইতিহাস। নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার পর তার মরদেহ ভগীরথী নদীর অপর পাড়ে খোশবাগে নবাব আলিবর্দী খানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা, যিনি লুৎফা নামে পরিচিত, স্বামীর প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে প্রতি সন্ধ্যায় তার কবরে প্রদীপ জ্বালাতেন। নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই প্রদীপ জ্বালিয়ে গেছেন। নাটকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই প্রদীপ কি কেবল এক বিধবা নারীর প্রেমের প্রকাশ, নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো অর্থ।
নাট্যকার তানভীর মোকাম্মেলের মতে, সিরাজের কবরে জ্বালানো প্রদীপটি ছিল এ দেশের স্বাধীনতার আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রতীক। ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, ভালো শাসকদের টিকতে দেয়া হয়নি। দেশি দালালদের সহায়তায় বিদেশী শক্তি বাংলার মসনদ ও সম্পদ দখল করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে লুৎফার প্রদীপ হয়ে ওঠে পরাধীন এক জাতির স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতীক।
নির্দেশক সগীর মোস্তফা জানান, ইতিহাস সাধারণত বিজয়ীদের কথাই বলে। কিন্তু বিজিতদের বেদনা, ত্যাগ আর দীর্ঘশ্বাস অনেক সময় অজানা থেকে যায়। লুৎফার প্রদীপ কেবল শেষ স্বাধীন নবাবের পরাজয়ের কাহিনি নয়, এটি সিরাজ-পত্নী লুৎফুন্নেসার একনিষ্ঠ প্রেম, অসীম ধৈর্য এবং আজীবন বহন করা শোকের জীবন্ত উপাখ্যান।
অভিনেত্রী চিত্রলেখা গুহ বলেন, লুৎফার প্রদীপ নাট্যদল সমতলের প্রথম প্রযোজনা। গল্পটি তার কাছে অসাধারণ লেগেছে। নির্দেশকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তিনি। অভিনয়জীবনে এই প্রথমবার মঞ্চে একক অভিনয় করছেন চিত্রলেখা গুহ। চার বছর পর নতুন কোনো মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অভিজ্ঞতাটি তার জন্য বিশেষ বলে জানান তিনি এবং দর্শকদের নাটকটি দেখার আমন্ত্রণ জানান।
নাটকটির শিল্প নির্দেশনা ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন উত্তম গুহ। আবহসংগীত ও শব্দ পরিকল্পনা করেছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু। পোশাক পরিকল্পনায় আছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি।