চলচ্চিত্রের গ্ল্যামার আর আলোকচ্ছটার মাঝেও ৯৮তম অস্কারের মঞ্চ বারবার ফিরে গেছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘটে চলা রাজনৈতিক বাস্তবতায়। এবারের আসরে জিমি কিমেলের তীর্যক মন্তব্যে উঠে এসেছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, হাভিয়ের বারদেম সোচ্চার হয়েছেন ফিলিস্তিনের পক্ষে, আর জাফর পানাহি তার উপস্থিতিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে শিল্পীর সংগ্রামের কথা।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকা জিমি কিমেল বরাবরের মতোই তার রাজনৈতিক ধারালো মন্তব্যে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন। বাক-স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএস-এর নাম উল্লেখ করেন, যেটি গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের পর স্টিফেন কোলবার্টের শো বন্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া ডকুমেন্টারি বিভাগের পুরস্কার প্রদানের সময় ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঠাট্টা করে বলেন, ট্রাম্প হয়তো রেগে যাবেন যে তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি!’
জিমি কিমেল। ছবি- এপি
সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করতে এসে স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ডমেন’ খ্যাত এই অভিনেতা সরাসরি যুদ্ধের বিরোধিতা করে বলেন, ‘না, যুদ্ধের নয়; স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে আমরা।‘ গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিগত কয়েক বছর ধরেই বারদেম ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছেন।
জাফর পানাহি। ছবি- রয়টার্স
ইরানি পরিচালক জাফর পানাহির সিনেমা ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ পুরস্কার না জিতলেও অস্কারের আঙিনায় তার উপস্থিতি ছিল এবারের আসরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থার দমন-পীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নির্মিত এই সিনেমাটির জন্য পরিচালককে গত বছরই এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। অস্কার শেষে দেশে ফিরলেই হয়তো তাকে সরাসরি কারাগারের পথ ধরতে হবে। তার এই সাহসী উপস্থিতি অস্কারের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাঝেও বিশ্ব রাজনীতির তিক্ত বাস্তবতাকে সবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।