স্টিভেন স্পিলবার্গের ১৯৭৫ সালের সিনেমা ‘জওস’। যারাই সিনেমাটি দেখেছেন মুগ্ধ হয়েছেন। সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে তিনটি পুরস্কার জিতেছিল। এর মধ্যে রয়েছে সেরা সম্পাদনা, সেরা মৌলিক নাটকীয় দৃশ্য ও সেরা শব্দ। কিন্তু এটি মুক্তির প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে এ নিয়ে অপরাধবোধে ভোগার কথা জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত এ পরিচালক। মূলত তার সিনেমার মাধ্যমে হাঙরদের ক্ষতি হয়েছে এবং এর বাইরে বিশ্বব্যাপী হাঙরের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে স্পিলবার্গ এ নিয়ে আফসোসে ভোগেন।
হাঙর বরাবরই একটি ‘ভয়ানক প্রাণী’ হিসেবেই মানুষের কাছে পরিচিত। রক্তের স্বাদ পেলে তারা হিংস্র হয়ে ওঠে। সমুদ্রে গোসল বা আমোদ করতে যাওয়া মানুষের পা ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো নানা গল্প হাঙর সম্পর্কে প্রচলিত। এর মধ্যে কিছু সত্যিও। এসব কারণে হাঙরের প্রতি মানুষের একদিকে আছে ভীতি, অন্যদিকে হাঙর শিকারির অভাব নেই। নেচার পত্রিকার একটি গবেষণা অনুসারে সত্তরের দশকের তুলনায় বিশ্বে বর্তমানে হাঙর ৭১ শতাংশ কমে গেছে। এর কারণ অতিরিক্ত হাঙর শিকার ও হত্যা।
এসব কিছুর কারণে স্টিভেন স্পিলবার্গ তার সিনেমার বক্তব্য ও সিনেমাটি নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন। সম্প্রতি বিবিসি রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে নানা কথার মধ্যে এ প্রসঙ্গটিও আসে। তিনি বলেন, ‘হাঙর হত্যা ও তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আজও সিনেমাটি নির্মাণ নিয়ে আফসোস করি। সত্যিই আফসোস করি।’ এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক লরেন ল্যাভার্ন অবশ্য তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কতগুলো হাঙর আপনাকে ঘিরে আছে এমন হলে আপনার কেমন লাগবে?’ জবাবে স্পিলবার্গ জানান, এটা এখনো তার দুঃস্বপ্নের মধ্যে অন্যতম।
স্পিলবার্গের এ সিনেমা নিয়ে অপরাধবোধে ভোগার কারণ সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর পরই সত্তরের দশকে হাঙর শিকারের পরিমাণ বেড়ে যায়। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের তথ্য অনুসারে, সব প্রজাতির হাঙরই হুমকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে মহাসাগরের হাঙরদের এক তৃতীয়াংশ এ হুমকির ক্ষেত্রে শীর্ষে । তবে সিনেমাটি আসলে এর জন্য কতটা দায়ী, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। যেমন প্লিমাউথ শার্ক ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী পল কক্স এ নিয়ে বলেন, ‘সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পরবর্তী সময়ে হাঙর শিকার বাড়লেও এজন্য সিনেমাকে দায়ী করা যায় না।’ কেননা সিনেমা ও বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য আছে। তার মতে, মাছ শিকারিদের কোনো নীতিমালা না মেনে শিকার করাই এর মূল কারণ। তবে স্পিলবার্গ যেভাবে বিষয়টি নিয়ে নিজের অনুতাপের কথা জানিয়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন কক্স। স্পিলবার্গের মতো একজন জনপ্রিয় পরিচালকের এমন শুভ চিন্তা মানুষকে প্রভাবিত করবে বলেই তিনি মনে করেন।
এর আগে আরেকটি সাক্ষাৎকারে স্পিলবার্গ জানিয়েছিলেন যে মানুষকে ভুল পথে নেয়া উচিত নয় সিনেমা নির্মাতাদের। তিনি বলেন, ‘একজন নির্মাতার কখনই দর্শককে ভুল পথে চালিত করা উচিত নয়। স্বীকার করছি, আমি একবার জওস সিনেমায় সে কাজটি করেছিলাম।’ এখানে স্পিলবার্গ অবশ্য একথা বলছেন না যে তিনি দর্শককে হাঙর শিকারে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তবে হাঙর সম্পর্কে মানুষের ভয়ের বিষয়টি তিনি সিনেমায় বিশেষায়িত করেছিলেন। এ কারণেই স্পিলবার্গের এ দুশ্চিন্তা।
সূত্র ও ছবি: দ্য গার্ডিয়ান