সিনেমার শুরুতেই মার্গো রবি প্রশ্ন করেন, ‘তোমরা কি কখনো মৃত্যুর কথা ভাবো?’ বাস্তব নারীতে পরিণত হওয়ার যাত্রায় তার চরিত্র যে অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি হয়, এটি ছিল তারই অন্যতম মুহূর্ত। সিনেমাটি বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। রীতিমতো ক্রিস নোলানের ওপেনহাইমারকেও পেছনে ফেলে দেয় সিনেমাটি। কিন্তু তিন বছর পর দৃশ্যপট যেন বদলে গেছে। সিনেমাটির সিকুয়াল হওয়া নিয়ে নানা রকম সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, বারবির পরবর্তী কিস্তির চুক্তি নিয়ে আলোচনা থমকে গেছে। ফলে সিনেমাটির সিকুয়াল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। নানা রকম সমস্যা মোকাবেলা করছে সিনেমাটি। প্রথমত ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির প্রধান হিসেবে ডেভিড জাসলাভের সম্ভাব্য শেষ কয়েক মাস চলমান। তিনি সৃজনশীল দলের পারিশ্রমিকের দাবির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সব ধরনের কাজেই এক ধরনের অচলাবস্থা দেখা যাচ্ছে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সৃজনশীল দলের নেতৃত্বে রয়েছেন গ্রেটা গারউইগ। ২০২৩ সালে ১৪০ কোটি ডলার আয় করে বারবি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে সফল নারী পরিচালক হয়ে ওঠেন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহচিত্রনাট্যকার নোয়া বমবাক, প্রধান অভিনেতা রায়ান গসলিং এবং প্রযোজক ও অভিনেত্রী মার্গো রবি। তিন বছরে স্টুডিও এ সিনেমা বিষয়ে ছয়টি প্রস্তাব দিলেও সিনমার টিম রাজি হয়নি।
চলতি বসন্তের শেষ দিকে ওয়ার্নারের সৃজনশীল টিমকে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবটিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের দেয়া সর্বোচ্চ প্রস্তাব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সৃজনশীল দল বলছে এটা দলের জন্য ভালো প্যাকেজ হতে পারে, ব্যক্তিগত পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে না।
গণমাধ্যম ভ্যারাইটি জানাচ্ছে, গারউইগ ও বামবাকের ইচ্ছা আছে সিকুয়াল আনার। চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত তারা সে ভাবনার সামান্যতম অংশও প্রকাশ করতে রাজি নন।
আরো কিছু সূত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্গো রবি, রায়ান গসলিং, গারউইক ও বামবাক আর্থিক বিষয়ে যেসব দাবি করেছেন তা পূরণ করা কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে অগ্রিম পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং ব্যাক-অ্যান্ড অংশীদারত্বে বড় ধরনের বাড়তি সুবিধা। গসলিং তার অস্কার মনোনীত কেইন চরিত্রে ফেরার জন্য ২ কোটি ডলার পারিশ্রমিক চাইছেন বলে অনেকে তথ্য দিচ্ছেন। প্রথম সিনেমায় গারউইগও কয়েক কোটি ডলার আয় করেছিলেন।
চলমান এসব অবস্থার মধ্যে অন্য স্টুডিও গ্রেটার কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেছে। তবে গ্রেটা এখানে তাদের কোনো ইতিবাচক উত্তর দেননি। সব মিলিয়ে তাই মনে হচ্ছে সিনেমাটি একটা জটিল অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে কীভাবে বারবি টু নির্মাণ হবে তা নিয়ে কারোর পক্ষেই স্পস্ট কোনো মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না।
অথচ হলিউড বক্স অফিস এখন সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে। সামনেও ভালো ব্যবসা করার সম্ভাবনা আছে। এ অবস্থায় বারবির সিকুয়াল এলে তা নির্মাতা, দর্শক ও বক্স অফিসের জন্য মুনাফাই নিয়ে আসত। কিন্তু বিষয়টি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: ভ্যারাইটি