ম্যাকলমোরের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ট্যুর শুরু—বললেন ‘শব্দ দুটি এখন অনেকের কাছে হুমকি’

গ্র্যামিজয়ী এ সংগীতশিল্পী ডাবলিনের থ্রিঅ্যারেনায় প্রায় ১৩ হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করেন। কনসার্টে আরো অংশ নেন আইরিশ গায়ক হোজিয়ার, বেলফাস্টের র‍্যাপ গ্রুপ ‘নিক্যাপ’ এবং ফোক ব্যান্ড ‘বেওগা’। এর মধ্যে বেওগা ম্যাকলমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগেই এড শিরানের ট্যুর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে কনসার্টের মাধ্যমে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ট্যুর শুরু করেছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়ে এড শিরানের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার পর এ সংগীতযাত্রায় বেরোলেন তিনি।

ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সমর্থন নিয়ে কথা বলেন ম্যাকলমোর। দুটি শব্দকে ‘ভালোবাসা ও মুক্তির’ আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন এ র‍্যাপার।

গ্র্যামিজয়ী এ সংগীতশিল্পী ডাবলিনের থ্রিঅ্যারেনায় প্রায় ১৩ হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করেন। কনসার্টে আরো অংশ নেন আইরিশ গায়ক হোজিয়ার, বেলফাস্টের র‍্যাপ গ্রুপ ‘নিক্যাপ’ এবং ফোক ব্যান্ড ‘বেওগা’। এর মধ্যে বেওগা ম্যাকলমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগেই এড শিরানের ট্যুর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল।

শোর সব টিকিট মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। এটি ছিল তার তিন দিনের ইউরোপীয় সফরের প্রথম কনসার্ট। ২৯ অক্টোবর প্যারিস এবং ৩০ অক্টোবর লন্ডনে পরবর্তী শো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ট্যুর।

‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ মন্তব্যের পক্ষে ম্যাকলমোরের বক্তব্য

ডাবলিনের কনসার্টে এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে কথা বলেন ম্যাকলমোর। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ছয় সপ্তাহ আগে এটি ছিল কেবল দুটি শব্দ। মাত্র দুটি শব্দই ছিল এর পেছনে। দুটি শব্দ যার মূল নিহিত রয়েছে ভালোবাসা ও মুক্তিতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে নয়, বিভাজন তৈরি করার জন্য নয়, কিংবা ঘৃণার আহ্বানেও নয়। বরং আমাদের যৌথ মানবতাকে স্বীকৃতি দেয়ার একটি আহ্বান। ফ্রি প্যালেস্টাইন! আমি বলেছিলাম, ফিলিস্তিন স্বাধীন করো!’

ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কণ্ঠস্বর চেপে ধরার চেষ্টার তীব্র সমালোচনাও করেন এই র‍্যাপার।

তিনি বলেন, ‘অথচ এই দুটি শব্দ কিছু মানুষের কাছে এতটাই হুমকিস্বরূপ মনে হয়। তারা শব্দ দুটির প্রকৃত অর্থ মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে একে নীরব করে দিতেই বেশি পছন্দ করে। কারণ যে স্বাধীনতা অন্য কোনো মানুষের নিপীড়নের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তা আদৌ কোনো স্বাধীনতা নয়।’

গত ১৪ সেপ্টেম্বর এড শিরানের মার্কিন ট্যুর থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেয়া হয়। ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি পারফরম্যান্সের সময় তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে সুর তোলেন, যার জের ধরে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ওই সময় একটি কনসার্টে তিনি দর্শকদের বলেছিলেন, এত বড় স্টেডিয়ামের দর্শকদের সামনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলতে পারাই ছিল তার এই ট্যুরে যোগ দেয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

পরবর্তীতে ম্যাকলমোর নিজের একক ট্যুরের ঘোষণা দেন এবং জানান, কনসার্টগুলো থেকে অর্জিত সমস্ত অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় নিয়োজিত ১২টি সংস্থায় দেয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ান্স, প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড ও গাজা সুপ কিচেন।

ডাবলিনে ম্যাকলেমোরের সঙ্গে যোগ দিলেন হোজিয়ার ও নিক্যাপ

ডাবলিনের কনসার্টটি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়া বেশ কয়েকজন শিল্পীকে এক মঞ্চে নিয়ে আসে। নিক্যাপ এবং বেওগা ব্যান্ডের সঙ্গে পারফর্ম করেন 'টেক মি টু চার্চ' এবং 'টু সুইট' গানের জন্য পরিচিত শিল্পী হোজিয়ার।

এছাড়া ফিলিস্তিনি গায়িকা লিনা মাখুল এবং ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ডিজে ও প্রযোজক হাবিবিয়েটস পারফর্ম করেন। 'গেম অব থ্রোনস'-এ ডাভোস সিওয়ার্থ চরিত্রে অভিনয় করা আইরিশ অভিনেতা লিয়াম কানিংহাম শোর মাঝে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।

কানিংহাম বলেন, ‘আজ রাতের কনসার্ট উপভোগ করা মানে গাজার মানুষের দুঃখ-কষ্টকে ভুলে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো ফিলিস্তিনিরা তাদের জীবন ও মানবতাকে রক্ষা করতে যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে উদযাপন করা।’

অ্যারেনার বাইরে কনসার্টে আসা দর্শকদের কেফায়া পরতে এবং ফিলিস্তিন ও আয়ারল্যান্ডের পতাকা বহন করতে দেখা যায়।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাওয়ার অঙ্গীকার ম্যাকলমোরের

কনসার্টে ম্যাকলমোর বলেন, যে মানবিক সংকট বা কষ্টের কারণে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতে হয়েছে, তার চেয়েও স্লোগানটি এখন বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘যে কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে এই শব্দগুলোর জন্ম, কোনোভাবে সেই শব্দগুলোই আজ সেই কষ্টের চেয়ে বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ইতিহাসজুড়ে সংগীত মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে, শোক ভাগাভাগি করতে এবং সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে পথ দেখিয়েছে।

কনসার্টে ম্যাকলমোর জনপ্রিয় গান 'থ্রিফট শপ', 'সেম লাভ', 'গ্লোরিয়াস' এবং 'ক্যান্ট হোল্ড আস'-এর পাশাপাশি গত সপ্তাহে লেখা তার নতুন গান 'হোয়ার ইজ আওয়ার লাভ?' পরিবেশন করেন। গানটিতে গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন নীতি, সুদান ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সহিংসতা নিয়ে তুলে ধরা হয়।

কনসার্ট শেষে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এই মঞ্চে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা এই সম্মিলিত মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

আরও