ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’। এর আগে একই নির্মাতার শিল্পধর্মী চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ তুমুল বাণিজ্যিক সাফল্য পায়, যা ঢাকাই সিনেমার নতুন ধারা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নাজিফা তুষি দুটি সিনেমায় ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। নির্মাতা ও অভিনেত্রী সম্প্রতি সেসব গল্পই জানিয়েছেন বণিক বার্তাকে।
‘হাওয়া’র পরে এল ‘রইদ’, প্রকৃতির উপাদানগুলোকে নিয়েই কি আপনি একটি সিকুয়েল করার চেষ্টা করছেন?
সুমন: না। বিষয়টা তেমন নয়। নির্মাতা হোক, মিউজিশিয়ান হোক কিংবা পেইন্টার হোক, তাদের একটা নিজস্ব স্টাইল থাকে। আরেকটা বিষয় হলো প্রথাগত জায়গা থেকে সিনেমা বানানো। আমি যখন ‘হাওয়া’ করেছি, তখন এর পূর্বের কাজগুলোর মধ্যেও আমি যে বিষয়গুলো এনেছি, বিশেষ করে ‘মিথ’, এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, সেটা আমার সব কাজেই আছে। তবে এমন নামের জায়গাটা কিছুটা কাকতালীয়ই। কিন্তু সামনে এটাকে ধরেই আরও কিছু করব কিনা, হয়ত করব, কিন্তু আলাদাভাবে এটা ভেবে আমি সিনেমা বানাচ্ছি না। ‘হাওয়া’ নামটা দেয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। সিনেমায় নামকরণের সার্থকতায় আমি বিশ্বাস করে না। আমার সিনেমাকে বোঝানোর জন্য একটা নাম দরকার। এবং সেখানে ফিলসফিক্যাল আসপেক্ট থাকতে হবে। ‘রইদ’ও ওরকম একটা জায়গা থেকেই এসেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে। আমরা যে উষ্ণতার গল্প বলি। যে প্রেমটা, নিরবতাটা হারিয়ে ফেলি, আমি সেই নীরবতাটাকে মনে করাতে চাই।
‘রইদ’-এর গল্প তো ভিন্নধর্মী। কোন অনুপ্রেরণা থেকে এই গল্পটা নির্মাণ করলেন?
সুমন: রইদ আমার আম্মুর গল্প। তার মুখেই শুনেছি। করোনার শুরুর দিকে তখন একদিন দুপুরবেলায় আমি আর আম্মু খাচ্ছিলাম সেই মুহূর্তে এই গল্পটার বিস্তারিত আম্মুর মুখে শুনেছিলাম। এর আগেও আমি এই দুই চরিত্র সাদু এবং সাদুর বউ এদের কথা জানতাম, চিনতাম। আম্মুর কাছেই শুনেছিলাম। আমার নানু বাড়িতে ওই দুজন থাকতেন। আমার আম্মুর সাথে তারা বেড়ে উঠেছেন। তাই তাদের আমি ভালোভাবেই চিনতাম। আমার সাথে সাদুর ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। আমি কলেজে পড়ার সময় উনি মারা যান। কিন্তু স্পেসিফিক যেই বিষয়টা নিয়ে আমি সিনেমা বানিয়েছি, সেটা আমি জানতাম না। সেদিন দুপুরে সাদু ও তার বউকে নিয়ে অনেক গল্প আম্মু করেছে। আমার মনে হয়েছে আম্মু সিনেমার মতই বলছে। সেদিন আমি আম্মুকে না জানিয়েই তার কথাগুলো রেকর্ড করেছিলাম। শুয়ে শুয়ে গল্প করতে করতে প্রায় খুঁটিনাটি অনেক কিছু আমি জানার চেষ্টা করি। ওখান থেকেই রইদের গল্পটা এসেছে।
‘হাওয়া’-র গুলতি আর ‘রইদ’-এর সাধুর বউয়ের মধ্যে কোন চরিত্রটা বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল?
তুষি: দুটি দুইরকম চরিত্র। আমি যখন হাওয়া করি, সেটা আমার প্রথম কোনো চরিত্র প্লে করা। ওই সময়ের জন্য সেটা ছিল আমার হাতেখড়ি। হাওয়ার জার্নি থেকেই আমি আসলে অভিনেতার রাস্তাটা কেমন হয়, তাদের জীবনযাপন কেমন হয়, এ ধরনের একটা বোধের ভেতর দিয়ে গিয়েছি। তারপর সেটা নিয়ে আমি চর্চা করেছি। আর রইদ এমন সময় করলাম, যে সময় আমি আমার ঐ চর্চাটার অ্যাপ্লিকেশন করেছি। তাই আমাকে অভিনেত্রী বা মানুষ হিসেবে আলোচনা-সমালোচনা যেটাই হোক, রইদ দেখে করলে আমি খুশি হব। রইদের যে সাদুর বউ, সেটা নিঃসন্দেহে খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। চরিত্রটাকে খুঁজে পেতে আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। এক বছরের মত একটা জার্নির ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে চরিত্রটা হয়ে উঠতে। যেকোনো চরিত্র করতে গেলে, আপনি যত সময় সেখানে দেবেন, তত ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। সাদুর বউ আসলে একটা পাগলের চরিত্র। স্বাভাবিক মানুষের জন্য পাগলের চরিত্র করা তো কঠিন হবেই। এর মধ্যে আবার সে এমন একটা চরিত্র যাকে দেখলে বোঝা যাবে না, কিন্তু কথা বললে বা ওর সাথে একটু মিশলে বোঝা যাবে। এই পার্থক্যটা ধরাটা ছিল আমার জন্য কঠিন।
হাওয়ার নাজিফা তুষি আর রইদের নাজিফা তুষি, দুই চরিত্রের মধ্যে কতটা পরিবর্তন দেখলেন?
সুমন: অভিনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব জনপ্রিয়, নিয়মিত পর্দায় কাজ করে এমন কাউকে দেখে আমি কাস্ট করি না। আমি অভিনেতাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি সামনেও তাই করব। তুষি যখন হাওয়াতে এসেছিল, আমি ওর মাঝে সেই জিনিসটা খুঁজে পেয়েছিলাম। প্রথমে যখন ওর অডিশন নিলাম, প্রথম অডিশনটা আমাদের ভালো লাগেনি। এরপর তুষি আমাদেরকে ফোন করে নিজেই সেকেন্ড অডিশন দিতে চায়। সেটা আমার ভালো লেগেছে যে ও ১৫ দিন পর প্রপারেশন নিয়ে এসেছে। এই ১৫ দিন সে কাজও করেছে। ছোট্ট একটা ডায়লগের অংশ ওর বাসার বিভিন্ন জায়গায় প্র্যাক্টিস করেছে, সেই ভিডিওগুলোও নিয়ে এসেছিল। এই ডেডিকেশনটা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আর রইদে তুষি পরিণত। ও অনেকগুলো কাজের ভেতর দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু চরিত্রকে ধরার যে ইমোশন, সেক্ষেত্রে প্রফেশনাল অভিনেতারা অনেক বেশি কনফিডেন্ট হয়ে যায়। সেই কনফিডেন্সটা চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর। তুষি এখনও কনফিডেন্স লেস। এইটা ইন্টারেস্টিং লেগেছে। একজন পারফরমারের সবচেয়ে বড় সমস্যা ইগো। যখন সে পর্দায় এসে মনে করে আমি বেশি ভালো বুঝি, তখন অভিনয়টা খারাপ হয়। কিন্তু যখন সে মনে করবে আমি কি আদৌ পারছি? তখন সে ভালো অভিনয় করবে।
অনেক সময় কোন চরিত্র করলে সেটার রেশ অভিনেতার ভেতরে অনেকদিন থেকে যায়। সাদুর বউয়ের রেশ কতটা থেকেছে আপনার ভেতরে?
তুষি: আমি যে কয়েকটি চরিত্রই করেছি, কোন চরিত্রই কখনও তোমাকে ছেড়ে চলে যায় না। কিছু না কিছু থেকেই যায়। আবার অনেকগুলো চরিত্রের কিছু কিছু মিলে আমার যে ব্যক্তিত্ব সেখানেও পরিবর্তন আসে। অনেক সময়ই আমার এমন হয়, আমি ভাবি আমি আসলে কোন মানুষটা। রইদ করার পর আমি আরেকটা সিনেমা করেছি। তারপরে ‘প্রেশার কুকার’ করলাম। আমার খুব ভালো লাগে যখন একটা চরিত্রকে করার আগে আমি যথেষ্ট সময় পাই। আমি খুব আরামে সেই চরিত্রটা ধারণ করার সময় পাই। আর কম সময় থাকলে কিছু ট্রিকস অ্যান্ড টিপস অ্যাপ্লাই করে অভিনয়টা করতে হয়। এটা আমার পছন্দ না, কিন্তু বেশিরভাগ সময় এভাবেই কাজ করতে হয়। সেটা আবার মানুষ পছন্দও করে। কিন্তু যে চরিত্রগুলোর ভেতর দিয়ে আমি অনেকটা সময় থাকি, সেগুলো থেকে বেরোতেও অবশ্যই একটু সময় লাগে। আমি নিজেকে খুব পুশ করি না। আমার যেটাতে আনন্দ হয়, আমি সেভাবেই করি।
এই যে অনেকটা সময় একটা চরিত্র লালন করে তারপর অভিনয়টা করা, অর্থনৈতিক জায়গা কিন্তা করলে সেই সুযোগটা কি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আছে?
তুষি: আমি শুরুতে কভিডের আগে পর্যন্ত ভাগ্যবান ছিলাম যে আমাকে পরিবারের কোন দায়িত্ব নিতে হয়নি। তখন আমি নিজের মতো করে করেছি। নিজের যখন ভালো লেগেছে কাজ করেছি। এখন আমি সেটা চিন্তাই করতে পারি না। বয়সের সাথে দায়িত্ববোধ চলে আসে। এখন পরিবারের অনেক দায়িত্বও নিতে হয়। এখন প্যাশন তো অবশ্যই আছে, তার সাথে সাথে অর্থনৈতিক দিকটাও চিন্তা করতে হয়। এটা আসলে জীবন শিখিয়ে দেয়। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, আমি আমার মনের কাজটা করতে পেরেছি। আমি শুরু থেকেই মেনেই নিয়েছি ভালো কাজ করতে গেলে একটু কম্প্রোমাইজ করতে হবে। ঠিক কম্প্রোমাইজও না, আমার মনে হয় একটু দেরিতে আসবে। যে গাড়িটা আজ কিনতে পারতাম, সেটা পাঁচবছর পর কিনছি। এর বেশি কিছুই না।
আপনার সিনেমার লোকেশন সব সময়ই অন্যরকম হয়। আমাদের এখানে ধারণা আছে ভালো লোকেশন মানেই বিদেশে যেতে হবে। আপনি দেশেই এই লোকেশনগুলো কীভাবে খুঁজে বের করেন?
সুমন: আমি আসলে লোকেশন এক্সপ্লোর করি তা না। হাওয়া একটা সমুদ্রের গল্প ছিল। আমাদের মিডিয়ায় একটা কথা আছে ‘সিনেম্যাটিক’। একই ক্যামেরায় শুট করে কারোটা সিনেম্যাটিক লাগে, কারোটা লাগে না। কারণ এটা আসলে ক্যামেরায় না। এটা চিন্তায়। দেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাওয়ার কথা যখন ভাবছিলাম সবার প্রথমেই ভেবেছি এটা তো সমুদ্রের গল্প। আমার আশপাশের সবাই বলেছে সমুদ্রে গিয়ে শুট করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমি দেখছিলাম সমুদ্র ছাড়া সম্ভব নয়। আমি তো আমার গল্প বলতে চাই। আমাকে সমুদ্রে যেতেই হবে। সম্ভব কি সম্ভব না, সেটা বিষয় না। আমাদের সমুদ্র পাড়ের গল্প অনেক আছে, কিন্তু গভীর সমুদ্রের গল্প একটাও নেই। এমনকি ভারতবর্ষের গভীর সমুদ্রের গল্প স্টুডিওতে করা। আমি চাইনি হাওয়া স্টুডিও হয়ে যাক। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার কারণ আমার অভিনেতাদের মধ্যে আমি সেই জীবনটা দেখতে চেয়েছি। সেটা মানুষের কাছে নতুন লেগেছে।
রইদ করতে গিয়ে আমি সাদু আর পাগলির নিজস্ব দুনিয়া রচনা করতে চেয়েছি। তাদের নিজস্ব গ্রহ। এটা যদি কারো সাথে মিলে যায়, তাহলে আর নিজস্ব গ্রহ হবে না। এখানে আদম হাওয়া আছে, গন্ধম ফল আছে। এটা একটা হাজার হাজার বছরের পুরোনো গল্প। এটা তো আসলে রেগুলার দেখা একটা গ্রামে হলে হবে না। সাদুর বাড়ির পাশে একটা নদী দরকার। তারপর দরকার একটা লেক। এরপর দরকার তারা এমন জায়গায় থাকে যার আশেপাশে কিচ্ছু থাকতে পারবে না। আমি এমনই একটা জায়গা খুঁজে বের করেছি। এই লোকেশন আমরা দুইবছর ধরে খুঁজেছি। এটার জন্য আমাদের একটা টিম ছিল। আমার যে লাইন প্রডিউসার বাবলু বোস, ও হাওয়ার নৌকাটাও খুঁজে বের করেছিল। ও আমার টেস্ট জানে। দুই আড়াই বছর ধরে ও যখনই একটু ফ্রি সময় পেয়েছে, রইদের লোকেশন খুঁজতে বেরিয়ে গেছে। এভাবেই খুঁজে বের করেছি।
সিনেমার সেটে নির্মাতা সুমন কেমন?
তুষি: সেটে আমি কখনো ওনাকে উত্তেজিত হতে দেখিনি। আমি বলব, যারা অভিনেতা এবং অভিনয়ের একটা জার্নির ভেতর দিয়ে যেতে চায়, তারা ওনার সাথে কাজ করলে সেই মজাটা পাবে। ওনার সেটে একটা হারমোনি আছে, আমি সেটা অনুভব করেছি। সেটা শুধু মানুষের নয়, প্রকৃতির সাথে মানুষের। টিমের ক্রু থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে এক ধরনের সিম্ফনি কাজ করে। সেই জায়গাটাতে উনি নিয়ে যায়। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রী নয়, সবাইকে নিয়ে যায়। সেটা একটা অদ্ভুত মজা। একটা স্পিরিচুয়াল কমিউনিকেশন হয় সবার মাঝে। এটাই ওনার ম্যাজিক।
আমরা এখন খুব তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে ‘জেনজি’ জেনারেশন এখন আলোচনার শীর্ষে। আপনার এ ধরনের ধীরগতির সিনেমা কি এই জেনারেশন নিতে পারবে?
সুমন: আমি তো বাণিজ্যিক সফলতার জন্য সিনেমা বানাই না। আমার বয়স যখন বিশ-বাইশ তখন আমিও তো সেই সময়কার জেনজি। আমি তো সেই সময় তারকাভস্কি দেখেছি, আমি ফেলিনি দেখেছি, সত্যজিৎ দেখেছি, ঋত্বিক ঘটক দেখেছি। এখন এসে আমি যাদের ঠিকঠাক জেনজি পাই, তারা কিন্তু বেলা তার দেখে। ক্রিস্টোফার নোলান দেখছে এক ধরনের দর্শক, আবার কিম কি-দুকও কিন্তু দেখে। ভালো সিনেমা জেনজিরা দেখে। সবচেয়ে বড় কথা, যে আধুনিক হয়, সে আধুনিক সিনেমার ভাষা খুঁজতে থাকে। আবার সব সিনেমা সবার জন্য না। যেমন একটা গান হিট হওয়া মানেই সেটা ভালো না। সেটা বাণিজ্যিক সফলতা। আমি আসলে ঐ হিট হওয়া নিয়ে ভাবিনা কখনো।
আপনি একেবারে আমাদের মাটির গল্প বলেন, আমাদের ‘মিথ’ নিয়ে সিনেমা বানান। বহির্বিশ্বে বাংলা সিনেমাকে পৌঁছে দিতে এটার ভূমিকা কী হবে? তারা কি আমাদের লোকজ গল্পের সাথে কানেক্ট করতে পারবে?
সুমন: এটা ছাড়া তো বিশ্বের কাছে যাওয়ার আর কোনো রাস্তা নেই। ওনারা কেন আমাদের মিথের সাথে কানেক্ট করবে না? আমরা করি না? আমরাও তো ওদের লোকজ গল্প দেখি, বুঝি। দেশ যাই হোক, গল্পটা তো মানুষের। আমি আমার গল্পটা যদি সেখানে নিয়ে যায়, সমাদরটা বেশিই পাওয়া যায়। কারণ আমার গল্পও দেখতে চাইবে। ওর গল্পটাও আমি দেখতে চাইব। আমি যদি ইউরোপের মতো গল্প বানাতে চাই, যেটা অনেকেই বানায়, সেটা কিন্তু ধার করা গল্প। আমার কাছে মনে হয়, তুমি নিজের হও। নিজের দিকে তাকাও। আমরা আমাদের অঞ্চলের গল্পই নিয়ে যাব। আমরা যখন সিনেমা বানাই, আমরা ছোট দেশ তো, আমাদের কনফিডেন্স কম। হয় আমরা ভারতের দিকে তাকাই, আর না হলে হলিউড। দুটিই আমাদের জন্য সমস্যা।
নায়িকা মানে পর্দায় গ্ল্যামারাস দেখাতে হবে এমন ভাবা হয়। রইদে নিজেকে পাগলের চরিত্রে দেখতে কেমন লেগেছে? দর্শক কীভাবে নেবে বলে মনে করেন আপনি?
তুষি: ওটা তো একটা চরিত্র। ব্যক্তি জীবনে তো আমাকে নায়িকার মতোই থাকতে হয়। দর্শকের চাহিদার কারণে না চাইলেও থাকতেই হয়। এটা একেক নির্মাতার একেকরকম চাওয়া থাকে। কোন নির্মাতা চায় গ্ল্যামারাস দেখাতে, আবার কেউ চায় বাস্তবধর্মী চরিত্র। আমাদের নারীদের এমনিই ‘লুক শিফট’ করার সুযোগ কম। আমাদের দাড়ি গজায় না, চুল কাটতে পারি না। হয় মেকআপ বা মেকআপ ছাড়া, এই দুইটাই অপশন। চরিত্রের জন্য আমার বাস্তব জীবনের একেবারে বিপরীতভাবে আমাকে পর্দায় আসতে হলে আমি বরং নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করি।