হলিউডে ঝুঁকির মুখে মৌলিক গল্প

ধারণার চেয়েও বেশি লোকসানে টম ক্রুজের ‘ডিগার’

সিনেমাটির পক্ষে হলিউডের একাধিক তারকা প্রচারণা চালালেও বক্স অফিসে তার প্রভাব পড়েনি। অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেন ফন্ডা, গিয়ের্মো দেল তোরো ও ম্যান্ডি প্যাটিনকিনের মতো তারকারা ‘ডিগার’-এর পক্ষে কথা বলেছেন এবং দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন

হলিউড তারকা টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’-এর বক্স অফিস আয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে সিনেমাটির টিকিট বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর পূর্বাভাস, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি থেকে সিনেমাটির লোকসান দাঁড়াতে পারে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ব্যর্থতার পাশাপাশি সর্বকালের সবচেয়ে বেশি লোকসান করা সিনেমাগুলোর তালিকায়ও জায়গা করে নিতে পারে ‘ডিগার’। খবর ভ্যারাইটি।

টম ক্রুজ ও পরিচালক আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতুর সিনেমাটি পরিবেশবিষয়ক ডার্ক কমেডি। প্রথম সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮০ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ডলার আয় করেছিল ‘ডিগার’। তখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স ধারণা করেছিল, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি থেকে তাদের লোকসান ১৫-২০ কোটি ডলারের মধ্যে থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে টিকিট বিক্রি কমে যাওয়ায় লোকসানের অঙ্ক আরো বড় হচ্ছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।

সিনেমাটির পক্ষে হলিউডের একাধিক তারকা প্রচারণা চালালেও বক্স অফিসে তার প্রভাব পড়েনি। অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেন ফন্ডা, গিয়ের্মো দেল তোরো ও ম্যান্ডি প্যাটিনকিনের মতো তারকারা ‘ডিগার’-এর পক্ষে কথা বলেছেন এবং দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পুরো সময়ে ‘ডিগার’-এর বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৫ কোটি ডলারে থামবে। অথচ খরচ তুলে আনতে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫ কোটি ডলার আয় করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা। এর কারণ, টিকিট বিক্রির আয়ের প্রায় অর্ধেকই পেয়ে থাকেন প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা। তবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এক মুখপাত্র এ হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, সিনেমাটির খরচ তুলে আনার সীমা ৩০ কোটি ডলার।

‘ডিগার’-এ টম ক্রুজ অভিনয় করেছেন ধনকুবের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে, যার কোম্পানির কর্মকাণ্ড সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতিতে বড় বাজেটের মৌলিক গল্পনির্ভর সিনেমা হিসেবে শুরু থেকেই এটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স প্রথমে সিনেমাটির জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজেট অনুমোদন করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে নির্মাণ চলায় বাজেট বেড়ে ১৬-১৮ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্বব্যাপী প্রচারণায় আরো ১০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে স্টুডিওটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব হিসাবের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড ইভেন্টের প্রচারণার খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই।

টম ক্রুজের মতো বড় তারকা ও প্রশংসিত পরিচালক থাকায় সিনেমাটির জন্য অস্কারকেন্দ্রিক প্রচারণায় প্রায় দেড় কোটি ডলার ব্যয় হতে পারত। তবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে সেই প্রচারণা সীমিত করা হতে পারে। সিনেমাটির পর্যালোচনাগুলো এতটাই নেতিবাচক ছিল যে ওয়ার্নার ব্রাদার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচারণাও চালিয়েছে, যেখানে দর্শকদের নিজেদের বিচারেই সিনেমাটি দেখার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

অবশ্য অনেক সিনেমাই শুধু প্রেক্ষাগৃহের আয় থেকে লাভ করতে পারে না। তবে বক্স অফিসের আয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ওপর নির্ভর করে টেলিভিশন, পে-ওয়ান ও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে পরবর্তী সময়ে স্বত্ব বিক্রির চুক্তিগুলো। ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে লাভের মুখ দেখতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ টম ক্রুজের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় স্টুডিওর খরচ উঠে আসার আগেই তিনি আয়ের একটি অংশ পাবেন।

প্যারামাউন্টের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আগে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এককভাবে মুক্তি দেয়া শেষ সিনেমা ‘ডিগার’। প্রতিষ্ঠানটির জন্য চলতি বছরের হতাশাজনক বক্স অফিস পরিস্থিতিকে আরো দীর্ঘায়িত করেছে এটি। ‘দ্য ব্রাইড’ ও ‘সুপারগার্ল’-এর মতো বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ সিনেমাগুলোর কারণে এরই মধ্যে প্রেক্ষাগৃহ থেকে লোকসানের পরিমাণ বাড়ছিল।

গত শুক্রবার ‘ডিগার’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার সময়ই ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সহপ্রধান মাইক ডি লুকা ও পাম অ্যাবডি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যান। ২০২৫ সালে তাদের নেতৃত্বে ‘সিনার্স’, ‘আ মাইনক্রাফট মুভি’ ও ‘ওয়েপনস’-এর মতো সিনেমা দিয়ে ঐতিহাসিক বক্স অফিস সাফল্য পেয়েছিল ওয়ার্নার ব্রাদার্স। কিন্তু চলতি বছরের জন্য বড় বাজেটের কয়েকটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নেয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির কোনো সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ কোটি ডলার আয় করতে পারেনি।

তবে ডিসেম্বরে ডেনি ভিলনভ পরিচালিত ‘ডৃন: পার্ট থ্রি’ মুক্তি পেলে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বক্স অফিস পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন টিমোথি শ্যালামে, জেন্ডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসন।

আরও