এগুলোর কোনো ছবি সাদাকালো, কোনোটি রঙিন। তবে সম্প্রতি সামনে এল সত্যজিৎ রায়ের ১২৫টি রঙিন ছবি। এগুলো এর আগে খুব বেশি সামনে আসেনি। ছবিগুলো নিমাই ঘোষের তোলা। সত্যজিৎ যেমন চলচ্চিত্রের মায়েস্ত্রো ছিলেন, নিমাই তেমনি স্থিরচিত্রের। তার তোলা সত্যজিৎ রায়ের ছবিগুলো নিয়ে ৮ মে থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত একটি প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল দিল্লি আর্ট গ্যালারি। নাম ‘ফেসেস অ্যান্ড ফ্যাসেটস: সত্যজিৎ রায় ইন কালার্স’।
ছবিগুলো সত্যজিৎ রায়ের কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন পরিসরের। একটি ছবিতে তাকে পিয়ানোর সঙ্গে দেখা যায়, একটি ছবিতে ‘ঘরে বাইরে’র সেটে। একটি আলোকচিত্রে দেখা যায় সত্যজিৎ রায় ছবি আঁকছেন, আরেকটিতে দেখা যায় বিজয়া রায়ের সঙ্গে নিজের স্টাডিতে। এমন আরো অনেক ছবি নিয়েই সেজেছিল দিল্লি আর্ট গ্যালারি।
কিন্তু নিমাই ঘোষের রঙিন ছবি নিয়েই কেন আয়োজন? প্রথমত, সাদাকালো ছবিগুলো আগে থেকেই জনপ্রিয়। রঙিন ছবিগুলোয় এক নতুন সত্যজিৎকে খুঁজে পাওয়া যায়। এ আলোকচিত্রগুলোয় সত্যজিতের অদেখা অংশ তুলে ধরার জন্য একটি ভিন্ন চিত্রভাষা রয়েছে। প্রদর্শনী প্রসঙ্গে দিল্লি আর্ট গ্যালারির সিইও আশিস আনন্দ বলেন, ‘সাদাকালো ছবিগুলো সত্যজিৎ রায়কে একজন আইকন হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। রঙিন ছবিগুলো অনেক বেশি আন্তরিক ও অন্তরঙ্গ। এর মধ্যে ঘরের উষ্ণতা, কাঠের রঙের পাশাপাশি সত্যজিৎ রায়ের হাত ও মুখের ওপর পড়া আলো তাকে নতুন করে পরিচয় করায়।’
ছবিগুলো সাজানোও হয়েছে চমৎকারভাবে। একটি ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের হেঁটে যাওয়া ধরা হয়েছে। তার দীর্ঘ দেহ ছবিতে স্পষ্ট। ছবিটি এমনভাবে রাখা হয়েছে যে শিল্পী ও ব্যক্তি সত্যজিতের উচ্চতা সেখানে বোঝা যায়।
নিমাই ঘোষ প্রায় ২৫ বছর সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গী ছিলেন। ছবিগুলোও সেই সময়কে ধরেছে। গুপি গায়েন বাঘা বায়েনের (১৯৬৯) সময়কার ছবি যেমন আছে, তেমনি আছে আগন্তুকের (১৯৯১) সময়ের ছবিও। সেটের ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে সত্যজিৎ রায়ের কাজের ধারাও আবিষ্কার করা যায়। আবার বিজয়া রায়ের সঙ্গে ছবিটিতে তার সাংসারিক পরিচয় যেমন পাওয়া যায়, তেমনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঠাকুর, ভিক্টর ব্যানার্জি, স্মিতা পাতিল প্রমুখের সঙ্গে সত্যজিতের ছবি একটা সময়কে তুলে ধরেছে। মোটকথা, এ ছবিগুলো হয়ে উঠেছে এক ব্যক্তি ও সময়ের ডকুমেন্টেশন।