লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর প্রথম রানারআপ নাজাহ নাওয়ার। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আগেই অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল তার। নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদের ‘অ্যানি’তে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন নাজাহ।
সে স্বপ্ন পূরণের পথ হিসেবে লাক্স সুপারস্টারকেই বেছে নেন নাজাহ। ছোটবেলা থেকেই তার মনে হতো, এ মঞ্চেই মিলবে অভিনয়ের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার প্রতি তৈরি হয় আলাদা আগ্রহ। শেষ পর্যন্ত প্রথম রানারআপের খেতাব জেতেন তিনি। বর্তমানে তার দুটি কাজ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। একটি আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদের ‘অ্যানি’, অন্যটি শিহাব শাহীনের ‘ক্যাফে আমব্রেলা’।
লাক্সে আসার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে নাজাহ বলেন, ‘আমি একদম ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করতে চেয়েছি। তখন থেকেই মনে হতো, লাক্সে আসতে পারলে হয়তো অভিনয় করার সুযোগটা পাব। লাক্স আমাকে সেই জায়গাটা দেবে। সে কারণেই লাক্সে আসার প্রতি আমার একটা আলাদা আগ্রহ ছিল। তবে অভিনয় করার যে ভালোবাসা, আর অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা সেটা আমার একদম ছোটবেলা থেকেই। আর লাক্স আমাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে।’
প্রতিযোগিতার পুরো যাত্রাটাই ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। অনেক প্রত্যাশা ও চাপ সামলে নিজেকে স্থির রেখে এগিয়েছেন সামনের দিকে। তার ভাষায়, ‘প্রতিযোগিতার সময় অনেক চাওয়া ও প্রত্যাশা ছিল। তার পরও সবকিছুর মধ্যে নিজেকে শান্ত রেখে নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা আর ধৈর্যেরও পরীক্ষা ছিল। বিশেষ করে যখন মনে হয়েছে, আমি হয়তো পারব না, তার পরও নিজেকে এগিয়ে নিয়ে কাজটা শেষ করেছি।’
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন নাজাহ। তবে ফলাফল নিয়ে এখন কোনো আক্ষেপ নেই তার। কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করতে চান। নাজাহ বলেন, ‘তখন একটু খারাপ লেগেছিল, কারণ প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, একটা খেতাব পুরো যাত্রাকে নির্ধারণ করে না। এখন আমি সামনে কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।’
লাক্সের পরিচিতিকে সুবিধা ও চাপ দুটোই মনে করেন নাজাহ। তার ভাষায়, ‘লাক্সের এ পরিচিতি আমাকে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছার এবং অনেক ভালো কাজের সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে একটা বাড়তি প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। তবে আমি এটাকে চাপ হিসেবে না দেখে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে চাই, যেন সামনে আরো ভালো কাজ করতে পারি।’
‘অ্যানি’ ও ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র মুক্তি সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, উত্তেজনা আর চাপ—দুটোই আমি খুব বেশি করে অনুভব করছি। কারণ আমি আসলে অপেক্ষা করছি আমার কাজ দেখার জন্য যে কেমন করেছি। দর্শক আমাকে কীভাবে দেখবেন, আমার কাজ কেমন লাগবে—এসব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রত্যাশা আছে।’
‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় প্রথমবারের মতো রোমান্টিক গল্পে অভিনয় করতে গিয়ে শুরুতে খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন নাজাহ। তিনি বলেন, ‘শুরুতে একটু অস্বস্তি ছিল। কারণ প্রথমবারের মতো কোনো সহশিল্পীর সঙ্গে এভাবে রোমান্টিক গল্পে অভিনয় করেছি, তাই একটু দ্বিধা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সবাই অনেক সহযোগিতা করেছেন—আমার সহশিল্পী, পরিচালক সবাই।’
‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় কাজ করতে গিয়ে পরিচালক শিহাব শাহীনের কাছ থেকে অভিনয়ের নানা কিছু শিখেছেন নাজাহ। তার ভাষায়, ‘শিহাব শাহীন স্যারের সঙ্গে কাজ করে অভিনয় নিয়ে অনেক কিছু নতুনভাবে উপলব্ধি করেছি। উনি খুবই খুঁতখুঁতে একজন নির্মাতা, আর ওনার নির্দেশনায় কাজ করতে গিয়ে ছোট ছোট অভিব্যক্তি বা প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব আরো ভালোভাবে বুঝেছি।’
অন্যদিকে ‘অ্যানি’তে আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকেও বিশেষ বলে মনে করেন নাজাহ। তিনি বলেন, ‘ওনার মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার। ওনি পরিচালক হিসেবে খুবই ভিন্ন রকমের একজন মানুষ। উনার চিন্তাধারা, কাজের ধরন—সবকিছুতেই একটা আলাদা ব্যাপার আছে।’
ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন দুই নির্মাতার সঙ্গে কাজ পাওয়াকে চাপ হিসেবে না দেখে কৃতজ্ঞতা হিসেবেই দেখেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এ সুযোগ লাক্সের কারণেই এসেছে। তাই আমার কোনো দ্বিধা নেই। বরং আমি কৃতজ্ঞ। এখন আমার কাজ হলো, এ সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে সামনে নিজেকে প্রমাণ করা।’
লাক্স সুপারস্টার থেকে অভিনয়ে আসা শিল্পীদের মধ্যে আলাদা পরিচয় গড়তে চান নাজাহ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আলাদা পরিচয় তৈরি করার একমাত্র উপায় হলো কাজ। লাক্স আমার যাত্রার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এ প্লাটফর্মের জন্যই আমি অনেক মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছি। এখন আমি এ খেতাব সঙ্গে নিয়েই সামনে আমার কাজের মাধ্যমে একটা পরিচিতি তৈরি করতে চাই, যাতে মানুষ আমাকে একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবেও চেনে।’
ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার গল্পে নিজেকে আটকে রাখতে চান না নাজাহ। তার ভাষায়, ‘আমি আসলে কোনো একটা নির্দিষ্ট ধরনের গল্পের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। ভালো গল্প আর আকর্ষণীয় চরিত্র হলে কাজ করতে চাই। নিজেকে একজন বহুমুখী অভিনেত্রী হিসেবে তৈরি করতে।’