আমির খানের ক্যারিয়ার বৈচিত্র্যময়। কিন্তু তা আরো বৈচিত্র্যময় হতে পারত। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য লেজেন্ড অব ভগৎ সিং’ সিনেমায় যদি তিনি অভিনয় করতেন। রাজকুমার সন্তোষী এ সিনেমার জন্য প্রথমে আমিরের কাছেই গিয়েছিলেন। তিনি তখন চরিত্রটি করতে রাজি হননি। পরে সেটি ছেড়ে দেয়ায় আফসোস করেছেন। কপিল শর্মার শোয় তিনি এ কথা প্রকাশ করেন। সঙ্গে যোগ করেছেন, কেন সিনেমাটিতে অভিনয় করেননি।
আমিরের মতে, ভগৎ সিং একজন তরুণ ছিলেন এবং তার গল্পেও তারুণ্য বিশেষ হয়ে ধরা পড়ে। তাকে যখন এ সিনেমার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়, তখন তার বয়স ৩৬ বছর। তিনি চাননি এত বছর বয়সের কেউ চরিত্রটি করুক।
এ নিয়ে আমির বলেন, ‘ভগৎ সিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন ঐতিহাসিক চরিত্র। মানুষ হিসেবেও তিনি স্বতন্ত্র। মাত্র ২২-২৩ বছর বয়সে তিনি যেভাবে দেশের জন্য, আদর্শের জন্য কাজ করেছেন তা বিস্ময়কর। আজ আমরা এমন কিছু চিন্তাও করতে পারি না। তার সাহস ছিল। কোনোকিছুতে ভয় ছিল না। খুবই দুষ্প্রাপ্য মানব চরিত্র তিনি।’
এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা সব অভিনেতারই ছিল। অনেকেই ভগৎ সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সন্তোষীর এ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন। কিন্তু আমির করতে চাননি বয়সের কারণে। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স তখন ৪০-এর দিকে যাচ্ছে। আমার মনে হয়নি ভগৎ সিংয়ের মতো একটি চরিত্র আমি ওই বয়সে করলে খুব ভালো দেখাবে। তারুণ্যের সে ছাপ আমার মধ্যে আসত না। এ কারণে সন্তোষীকে বলেছিলাম, তরুণ কোনো অভিনেতাকে এর জন্য কাস্ট করতে।’
অবশ্য সন্তোষী তা করেননি। তিনি নিয়েছিলেন অজয় দেবগনকে। সিনেমার জন্য অজয় দেবগন পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আমির তার ক্যারিয়ারে এ পুরস্কার পাননি। মজার ব্যাপার, এর তিন বছর পর মুক্তি পায় ‘মঙ্গল পাণ্ডে’, যেখানে আমির খান মঙ্গল পাণ্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ‘রঙ দে বাসান্তি’। রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার রঙ দে বাসান্তিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন চন্দ্রশেখর আজাদের চরিত্রে। মৃত্যুর সময় আজাদের বয়স ছিল ২৪ বছর আর এ চরিত্রে অভিনয় করা আমিরের বয়স ছিল ৪০।
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা