এক যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী নাদীয়া আফরিন মিম। দীর্ঘ এ সময়ে নাটকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সময়ের সঙ্গে অভিনয়ের প্রতি তার ভাবনা ও কাজের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। নতুন কাজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়ে পড়াশোনাও করছেন এ অভিনেত্রী। নিজের কাজ, অভিনয় নিয়ে ভাবনা, বর্তমান ব্যস্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
এ মুহূর্তে আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?
এ মুহূর্তে আমি নতুন কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। অভিনয় করছি, পাশাপাশি অভিনয় নিয়ে পড়াশোনাও করছি। কারণ অভিনয় একটা ফুলটাইম জব। প্রতিদিন শুট থাকুক আর না থাকুক, অভিনয় নিয়ে ভাবতে হয়, নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। পাশাপাশি নিজের কিছু বিজনেস ভেঞ্চারেও সময় দিচ্ছি। সব মিলিয়ে কাজের মধ্যেই সময় কেটে যাচ্ছে।
অভিনয়ে দীর্ঘ এ পথচলাকে আজকের জায়গা থেকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
এতখানি পথ আসতে পারাটাও একটা সৌভাগ্যের বিষয়। তবে অভিনয়ের এ পথচলাকে আমি খুব একটা দীর্ঘ বলব না। মাত্র ১২ বছর হয়েছে। দেয়ার এখনো অনেক কিছু বাকি। এ ১২ বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, আমি বড় হয়েছি, অনেক কিছু বুঝতে শিখেছি এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল হয়েছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ববোধও বেড়েছে। এখন প্রতিটি মুহূর্তেই নিজেকে আরো দায়িত্বশীল মনে হয়।
ক্যারিয়ারের একটা সময়ে পর্দায় আপনাকে তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তখন নিজেকে কীভাবে ব্যস্ত রেখেছিলেন?
একজন শিল্পী আসলে সবসময় ব্যস্ত। পর্দায় দেখা যাচ্ছে কিনা, সেটার ওপর একজন শিল্পীর ব্যস্ততা নির্ভর করে না। আমি তখনো কাজ করেছি, নিজেকে নিয়ে ভেবেছি, বই পড়েছি, সিনেমা দেখেছি, পরিবারকে সময় দিয়েছি, পাশাপাশি অভিনয়টা আরো ভালোভাবে শেখার চেষ্টা করেছি। নিজের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন কিছু শেখা কিংবা নিজের কাজ নিয়ে ভাবাও এ পথচলারই অংশ। আসলে শিল্পীরা সবসময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে যে ইন্ডাস্ট্রিকে দেখেছেন আর আজকের ইন্ডাস্ট্রিকে দুটোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায় দেখেন?
আমরা যখন শুরু করেছি, তখন যতটুকু গুছিয়ে কাজ হতো, এত বছর পর এসেও নাটক ইন্ডাস্ট্রিতে ততটুকু গুছিয়ে কাজ হচ্ছে না। গল্প থেকে শুরু করে পরিচালনা, সংলাপ, সিনেমাটোগ্রাফি কিংবা চরিত্র কোনো জায়গায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখছি না। বাকি শৈল্পিক পরিবর্তনের কথা বাদই দিলাম। একটা ইন্ডাস্ট্রি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে গেলে কাজের প্রতিটি জায়গায় তার প্রভাব পড়ার কথা। কিন্তু সে জায়গায় আমাদের আরো অনেকটা পথ যেতে হবে।
এ অঙ্গনে টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী বলে মনে করেন?
আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মসম্মানবোধ। একজন শিল্পীকে অনেক ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কাজের জায়গায় নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়, নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়। এসবের মধ্যেও নিজের প্রতি সম্মানটা ধরে রাখা খুব জরুরি। নিজের কাজ ও নিজের অবস্থানের প্রতি সে সম্মানবোধ থাকলে অনেক কিছুই সামলে নেয়া সম্ভব।
বড় পর্দায় নিজেকে দেখার পরিকল্পনা আছে কি?
বড় পর্দাই তো স্বপ্ন। একজন অভিনয়শিল্পীর পরিচয়ের সার্থকতাও অনেকটা বড় পর্দায়। তাই বড় পর্দায় কাজ করার ইচ্ছা সবসময় আছে। বলা যায়, বড় পর্দায় কাজের ইচ্ছা নিয়েই প্রতিটা সকাল শুরু করি। শুধু বড় পর্দায় কাজ করলেই হবে না, ভালো কোনো কাজের অংশ হতে চাই। এমন গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেখানে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে আরো ভালোভাবে প্রকাশ করার সুযোগ থাকবে।
বড় পর্দায় কী ধরনের গল্প বা চরিত্র কাজ করার ইচ্ছা?
চরিত্র নির্দিষ্ট করে আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। একটা গল্প পড়ার পর কিংবা চরিত্রটা সম্পর্কে জানার পরই বোঝা যায় সেটি আমাকে কতটা টানছে। তবে আমি ড্রামা, থ্রিলার, মিস্ট্রি—এ ধরনের জনরার গল্পে অভিনয় করতে চাই। বিশেষ করে এমন চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেটা প্রতিটি পদে আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে। শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকার জন্য কোনো চরিত্র করতে চাই না। চরিত্রটার মধ্যে যদি অভিনয়ের জায়গা থাকে, নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশ করার সুযোগ থাকে এবং আমাকে নতুন কিছু শেখায়, তাহলে সে কাজের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হবে।
দেশের কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাটা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে?
সিনেমার ক্ষেত্রে সমসাময়িক সব সফল পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করার ইচ্ছা আছে। কারণ প্রত্যেক পরিচালকের কাজের ধরন আলাদা এবং তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও নিশ্চয়ই আলাদা হবে। তবে তানিম নূরের জন্য আমার একটু দুর্বলতা বেশি। তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাটা একটু আলাদা করে আছে।
অবসরে আপনার পছন্দের ব্যস্ততা কী?
বই পড়ি, কুকুর-বিড়াল পালি, গাছ লাগাই, সিনেমা-সিরিজ দেখি। এগুলো করতে করতেই আমার অবসর সময় শেষ হয়ে যায়। বই পড়া, সিনেমা-সিরিজ দেখা কিংবা গাছ লাগানোর মতো কাজগুলো নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ দেয়। আবার কুকুর-বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটাতেও ভালো লাগে। তাই আলাদা করে অবসর সময় বের করে কী করব, সেটা ভাবতে হয় না। পছন্দের কাজগুলো করতে করতেই সময় চলে যায়।
আগামী দিনের ক্যারিয়ারে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?
নিজেকে নিজের যোগ্যতার থেকেও অনেক ওপরে দেখতে চাই। একজন শিল্পীর শেখার আসলে কোনো শেষ নেই। তাই সামনে যত কাজ করব, তত বেশি শিখব এবং নিজেকে আরো পরিণত একজন অভিনেতা হিসেবে তৈরি করতে চাই। শুধু বেশি কাজ করার চেয়ে ভালো কাজের মাধ্যমে একটা জায়গা তৈরি করতে চাই। পরিচয়টা সবসময় অভিনেতা হিসেবেই চাই।