‘কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব’ শুরু ২৭ মার্চ

বাংলার ক্যালেন্ডারে মার্চ মানেই ইতিহাস আর আবেগের গভীরতা। স্বাধীনতার অগ্নিগাথা।

সে আবহেই সমুদ্রের শহর কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসব। ২৭ মার্চ শুরু হওয়া এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব।

লাবণী সৈকতের উন্মুক্ত প্রান্তরে প্রস্তুতি চলছে অস্থায়ী এক সিনেমা হলের। বিস্তীর্ণ আকাশ আর সমুদ্রের মাঝে দুই দিনব্যাপী উৎসবে প্রদর্শিত হবে একাধিক চলচ্চিত্র, যেগুলো মূলধারার আলোচনার বাইরে থেকেও সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্গত গল্পগুলোকে বহন করে।

২৭ মার্চ বিকাল ৫টায় একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন হবে। এরপর প্রদর্শিত হবে বন্ধন বিশ্বাস পরিচালিত ‘ছায়াবৃক্ষ’, অপূর্ব রানা পরিচালিত ‘জলরং’ এবং বড়ুয়া সুনন্দা কাকন পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো। ২৮ মার্চ উৎসবের সমাপনী দিনে দর্শক দেখবেন সবুজ খান পরিচালিত ‘বেহুলা দরদী’, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত ‘ময়নার চর’ এবং তানভীর হাসান পরিচালিত ‘মধ্যবর্তী’। এ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমেই প্রথম কক্সবাজার চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামবে।

কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাব বিশ্বাস করে, সিনেমা কেবল পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা, একটি সম্মিলিত অনুভূতি। আজকের দিনে যখন মোবাইল স্ক্রিনের ভেতর আবদ্ধ হয়ে পড়ছে সিনেমা দেখা, তখন এ উৎসব যেন সে অভিজ্ঞতাকে আবার মানুষের মধ্যে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস। বড় পর্দায়, খোলা আকাশের নিচে, একসঙ্গে বসে একটি গল্প দেখা, এ সহজ অথচ গভীর অভিজ্ঞতাই এখানে মূল আকর্ষণ। কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের ছোট পর্দায় সিনেমা দেখার এ যুগে বাংলা সিনেমার সমসাময়িক গল্পগুলোকে বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’

উৎসবটি বিনামূল্যে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ আয়োজনের আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এটি হয়ে উঠেছে একটি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক প্রয়াস। ফলে এটি কেবল একটি ক্লাবের উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইঙ্গিতও বহন করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের লাবণী বিচ পয়েন্ট উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

কক্সবাজার এতদিন কেবল পর্যটনের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে ধীরে ধীরে এটি নিজেকে গড়ে তুলছে একটি সম্ভাবনাময় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। কক্সবাজার ফিল্ম ক্লাবের প্রত্যাশা, এ আয়োজন ধারাবাহিকতা পেলে এ সৈকতই হয়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ। যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্মাতা ও দর্শক একত্র হবে গল্পের টানে।

আরও