দেশের যেকোনো খারাপ পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসতে দেখা যায় জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশে চলমান বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এ অভিনেতা। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি, যার কারণে শুটিংয়ে ফিরতে পারছেন না এখনই। অপেক্ষা করছেন সঠিক সময়ের। তবে চলতি সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা বলছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে সংগঠনগুলো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ করে, তারা যেন কোনো রাজনৈতিক দলের না হয়। রাজনৈতিক দলের হলে সে কখনো তার অভিনয়শিল্পীদের দাবিগুলো নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে পারবেন না।’
সেন্সর বোর্ড নিয়ে সিয়াম বলেন, ‘সেন্সর নিয়ে তো অনেক প্রশ্ন আছেই। সেন্সরের কারণে অনেক ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। সিনেমার গল্প বলার সময় বাধ্যবাধকতা থাকায় স্বাধীনভাবে নির্মাণ সম্ভব হয় না। সিনেমা তো একটা আর্ট। সিনেমা এগোবে গল্পের প্রয়োজনে। পরিচালক চাইলেও পর্দায় অনেক কিছু দেখাতে পারেন না। পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের সে স্বাধীনতা দিতে হবে। সিনেমায় কাজের জন্য যদি কোর্টে যাওয়া লাগে বা লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়, সেগুলো তো একজন শিল্পীর জন্য খুব ভয়ংকর।’
বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাই এক হয়ে কাজ করলেই শুধু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে জাগরণ তৈরি করা সম্ভব। এখানে অনেকেই আছেন, যাদের উপার্জন নির্ভর করে এ ইন্ডাস্ট্রির ওপর। যারা চাকরিজীবী, তারা দুদিন পরে তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এখন যদি সিনেমায় কাজ না হয়, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যু্ক্ত মানুষের অর্থের জোগান হবে না। তারা তো চুরি-ডাকাতি করবেন না। তারা ক্রিয়েটিভ সেক্টরে কাজ করেন। তাদের সে কাজের জায়গা করে দিতে হবে। একটা প্রডাকশন যদি কাজ শুরু করতে না পারে, তাহলে আরো ২০০ জন মানুষ আয় করতে পারবে না। তাদের আয়ের রাস্তাটা বন্ধ হয়ে থাকবে।’
শিল্পীদের মধ্যে রয়েছে বিভাজন। সব শিল্পীর সংঘবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সিয়াম বলেন, ‘আমাদের শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যটা হলো বিভাজনের বিষয় নিয়ে কেউ একটা কথাও বলেনি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আলাদা চিন্তা-চেতনা আছে। কিন্তু খেলার সময় তো তারা বাংলাদেশের জন্য খেলে। তারা যখন মাঠে খেলতে নামে, সেখানে তো কারো কোনো দ্বিমত নেই। তেমনি আমরা যখন একটা সিনেমায় কাজ করি, (আর্ট, ক্যামেরা,লাইট ও মিউজিক) সবাই একটা চিন্তা নিয়েই মাঠে নামি, ভালো সিনেমা নির্মাণ করা, যেন বাংলাদেশের দর্শক সিনেমা দেখে এবং পছন্দ করে। রাজনৈতিক পরিচয় দেয়ার সময় পার করে এসেছি, এখন সবাইকে এক উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে। একজন আরেকজনের মধ্যে বিভাজন সারা জীবন থাকবে। কারো সাদা পছন্দ আবার কারো কালো। কিন্তু কাজের মধ্যে এসে বৈষম্য করা যাবে না। এ জায়গাগুলো সংস্কারে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যারা মুরুব্বি আছেন এবং শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেন, এমন সংগঠনগুলোকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা অভিনয় শিল্পীদেরদাবি, চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরবে। ইন্ডাস্ট্রিতে একটা সিনেমা এলে আমরা যদি সাপোর্ট করতে না পারি, তাহলে আমরা শুধু পেছাতেই থাকব, কখনো এগোতে পারব না।