শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল অভিনেতা শামস সুমনের

শামস সুমনের বাবা মা দুজনই সেসময় রেডিওতে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিমনা পরিবারে বড় হয়েছেন তিনি।

১৯৬৫ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন শামস ইবনে ওবায়েদ। তার ছোটবেলা মানেই ছিল রাজশাহীর পদ্মার পাড়, রাজশাহী সরকারি স্কুল, সাইকেল, ঘুরে বেড়ানো, কবিতা পড়া কিংবা বক্তৃতা দেয়া। ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু রাজশাহী রেডিওতে কিশোর বয়সে শ্রুতিনাট্য করতে করতে সে ইচ্ছে পরিবর্তন হয়ে অভিনেতা হওয়ার ঝোঁক পেয়ে বসে। বলছিলাম জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমনের কথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বোকা প্রেমিকের চরিত্র থেকে শুরু করে গ্রামের লোকাল মাস্তান, ভিন্নধর্মী চরিত্রের সঙ্গে মিশে গিয়ে ছোট পর্দার দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেতা শামস সুমন। শুধু ছোট পর্দাই নয়, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘চোখের দেখা’, ‘আয়না কাহিনী’ এ মত ভিন্ন গল্পের চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। মঞ্চনাটকেও একসময় রেখেছেন নিজের ছাপ। সর্বশেষ তাকে দেখা যায় সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ–এর যৌথ পরিচালনায় নির্মিত ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমায়।

একসময়ের এই তুখোড় অভিনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননেরও সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালের পর থেকেই অভিনয় থেকে দূরে থাকা শামস সুমন মাঝে ‘রেডিও ভূমি’তে স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শামস সুমনের বাবা মা দুজনই সেসময় রেডিওতে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিমনা পরিবারে বড় হয়েছেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে ‘উন্মেষ’ নামক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের একটি নাটকের অংশে কাজ দিয়ে এই জগতে প্রবেশ তার। এরপর একের পর এক নিজের অভিনয় দিয়েই দর্শককে মুগ্ধ করে গেছেন তিনি। তার জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুদর্শনা’, ‘মেঘের ভেলা’, ‘অতন্দ্র প্রহর’ ও আরো অনেক।

গতকাল ১৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে দ্রুত তাকে ল্যাবএইড হাসপাতাল-এ নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

আরও