মে মাসে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হয় কর্তব্য। ওয়েব ফিল্মটিতে অভিনয় করেন সাইফ আলী খান, রসিকা দুগাল, জাকির হোসেন প্রমুখ। তবে নজর কেড়েছেন আরেক অভিনেতা। হরপাল নামে এক কিশোরের ভূমিকায় ‘কর্তব্য’য় অভিনয় করেছেন যুধবীর আহলাওয়াত। কর্তব্য মুক্তির পরপরই তিনি আইএমডিবিতে ট্রেন্ডিং তারকাদের তালিকায় উঠে আসেন। এখানেই শেষ নয়, জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিজয়, ঐশ্বরিয়া রাই, জুনিয়র এনটিআর এবং শাহরুখ খানকেও ছাড়িয়ে যান। তাকে নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও বাড়ে। সেই সঙ্গে জানা যায় ১৬ বছরের কিশোর চরিত্রে অভিনয় করা হরপালের বয়স আসলে ৩৩ বছর।
ভারতীয় গণমাধ্যম কড়ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুধবীর জানান জীবনে বেশ জটিলতার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। এর মধ্যে তিনি পরিবারের সমর্থনেই এতোটা এগিয়ে যেতে পেরেছেন। হরিয়ানার বাসিন্দা যুধবীর বলেন, ‘আমার বাবা এখন আর বেঁচে নেই। ছয় ভাইবোন আর মা সবসময় আমার পাশে ছিল। তাদের সমর্থন না পেলে আমি গত ১০ বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে পারতাম না। তারা আমাকে আর্থিকভাবে, মানসিক সব দিক থেকেই সহায়তা করেছে।’
মুম্বাইয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে যে এক দশক সময় লেগেছে, সেটিকে তিনি কখনোই ‘সংগ্রাম’ হিসেবে দেখেননি। তার ভাষায়, ‘এটা আমার কাছে সংগ্রাম ছিল না, শেখার সময় ছিল। আমি বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে হয় আপনি জয়ী হবেন, নয়তো শিখবেন। আমি শুধু শিখেছি।’
যুধবীরের বাবা জ্ঞান সিং আহলাওয়াত সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সদস্য ছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই পরিবারে শৃঙ্খলার পরিবেশ ছিল। তবে বড় ভাইদের মতো তিনি ছয় ফুট লম্বা ছিলেন না। বরং তার উচ্চতা কম ছিল এবং মুখে ছিল শিশুসুলভ ছাপ। সেই কারণেই স্কুল ও কলেজজীবনে তাকে সহপাঠীদের বিদ্রূপ ও বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি বদলেছে। কিন্তু তখন আমাকে নিয়ে অনেক হাসাহাসি হতো। স্কুল-কলেজে অন্য ছেলেরা আমার চেয়ে লম্বা ছিল, তারা আমাকে নিয়ে মজা করত।’
যুধবীর আহলাওয়াত
তবে বাইরের মানুষের বিদ্রূপ সত্ত্বেও পরিবারের সমর্থন কখনো কমেনি। যুধবীর বলেন, ‘আমার পরিবার অসাধারণভাবে পাশে ছিল। ভাইয়েরা বলত, ‘তুমি যা করতে চাও করো, বাকিটা আমরা সামলে নেব।’ বাবাও একই কথা বলতেন।’
ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কলেজে একটি যুব উৎসবে পুরস্কার জেতার পরই উপলব্ধি করেন, অভিনয় ও শিল্পকলার প্রতিই তার প্রকৃত টান রয়েছে। এরপর অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে দিল্লির একটি অভিনয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। তিন বছর পর তাপসী পান্নু ও ভূমি পেডনেকারের সঙ্গে ‘সান্ড কি আঁখ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার।
এরপরও অডিশনের লড়াই চলতে থাকে। যুধবীর জানান, দেখতে অনেক কম বয়সী লাগার কারণে শুরুতে তিনি নিজের প্রকৃত বয়স গোপন রাখতেন। তিনি বলেন, ‘যখনই অডিশনের ডাক পেতাম, নিজের আসল বয়স বলতাম না। অডিশনে নির্বাচিত হওয়ার পরই পরিচালককে জানাতাম, আমার প্রকৃত বয়স কত।’
এক দশক মুম্বাইয়ে কাজ করছেন যুধবীর। এর মধ্যে অনেক সুযোগ হারিয়েছেন। কাজ করেও তার কৃতিত্ব পাননি। রণবীর কাপুর অভিনীত শমশেরায় ছিলেন যুধবীর। কিন্তু তার রোল ও স্ক্রিন টাইম ছেঁটে ফেলা হয়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল ২২ দিন শুটিং করতে হবে। কিন্তু ডাকা হয় মাত্র পাঁচ দিনের জন্য। সেই পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিন ভ্যানিটি ভ্যানে বসে কাটিয়েছি, শুটিং করেছি মাত্র দুই দিন। শেষ পর্যন্ত ছবিতে আমার ছিল মাত্র একটি দৃশ্য। শুরুতে আমাকে অন্য একটি চরিত্রের জন্য নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে সেই চরিত্র অন্য একজন অভিনেতাকে দেওয়া হয়।’
একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয় অনিল কাপুর প্রযোজিত ‘থার’-এ। সেখানে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও সম্পাদনার সময় তার পুরো চরিত্রই বাদ পড়ে যায়।
তবে সেই সব হতাশা এখন অনেকটাই অতীত। ‘কর্তব্য’র সাফল্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছেন, তা নিয়েই এখন উচ্ছ্বসিত যুধবীর।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস