একটি চরিত্র কখনো কখনো অভিনয় ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিতে পারার সক্ষমতা রাখে। বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের জন্য ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর সিল্ক স্মিথা তেমনই এক চরিত্র। দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সিল্ক স্মিথার রঙিন ও ট্র্যাজিক জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সেই সিনেমা বিদ্যাকে এনে দিয়েছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেই মাইলফলক স্পর্শের দেড় দশক পর ফের যখন প্রযোজক একতা কাপুর ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন, তখন আবারো বিনোদন জগতে জল্পনা—ফিরছেন কি বিদ্যা?
বিদ্যা বালান অবশ্য শুরুতেই একটি বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন—সিল্কের গল্প তো প্রথম পর্বেই শেষ। তবে অভিনয়ের সেই দুর্নিবার ক্ষুধা ও চ্যালেঞ্জ নেয়ার তাড়না তার আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়ের লোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সেই ক্ষুধা ও আকাঙ্ক্ষা আজও আমার মধ্যে প্রবল। আমি একজন লোভী অভিনেত্রী। কোনো চরিত্র আমাকে অনুপ্রাণিত করলে, এক মুহূর্ত না ভেবেই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ি।’
একতা কাপুরের নতুন সিকুয়াল ঘোষণার খবরে উচ্ছ্বসিত হলেও বিদ্যার অবস্থান স্পষ্ট; নতুন গল্পটি যদি প্রথমটির চেয়েও শক্তিশালী এবং অর্থবহ হয়, তবেই তার ফেরা সার্থক হবে। তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার ম্যানেজার মারফত একতার ঘোষণার কথা শুনেছি। “দ্য ডার্টি পিকচার” প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন কোনো গল্প তুলে ধরার পথ খুলে দেয়। একতা যদি প্রস্তাব নিয়ে আসেন, আমি অবশ্যই খুশি হব।’
২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এ বিদ্যার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, ইমরান হাশমি ও তুষার কাপুর। সিনেমাটি সিল্ক স্মিথার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এর বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে ছিল চলচ্চিত্র শিল্পে একজন নারীর উত্থান, দর্শকের আকাঙ্ক্ষা, খ্যাতির মূল্য এবং একই সঙ্গে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক বিচার। বিদ্যার অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল, সিল্ককে নিছক বিতর্কিত বা আবেদনময়ী চরিত্রে আটকে না রেখে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দুর্বলতা ও আত্মপরিচয়ের সংকটকে সামনে আনা। এ চরিত্রের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের অভিনয়জীবনের এক নতুন পরিসর তৈরি করেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া