টেইলর সুইফট

এক ঘণ্টারও বেশি বসে ক্যাফেতে, অটোগ্রাফ নিতে আসে মাত্র একজন

সাক্ষাৎকারটির একটি মজার স্মৃতি হলো— ওই সময় ক্যাফেতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় একসঙ্গে বসে ছিলন টেইলর সুইফট ও সাংবাদিক ক্রিস উইলম্যান। আর এ সময়ের মধ্যে মাত্র একজন ব্যক্তি গায়িকার অটোগ্রাফ নিতে এগিয়ে এসেছিলেন। তখনো তার জনপ্রিয়তা মূলত কান্ট্রি সংগীতের শ্রোতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পপসংগীতের জগতে তার পরিচিতি সবে তৈরি হতে শুরু করেছে

টেইলর সুইফটের অভিষেক অ্যালবামটি ছিল সেলফ টাইটেলড, যা প্রকাশ হয় ২০০৬ সালের ২৪ অক্টোবর। আর দেখতে দেখতে সেই অ্যালবামের ২০ বছর পূর্ণ হলো।

ওই সময় টেইলর সুইফটের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। কান্ট্রি সংগীতের তরুণ এ শিল্পী একদিন বিশ্বসংগীতের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠবেন, তা হয়তো তখন খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন। অথচ সেই অ্যালবাম থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক যাত্রা, যা পরবর্তী সময়ে কান্ট্রি সংগীতের গণ্ডি ছাড়িয়ে পপসংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে।

অ্যালবামটির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্কিন সাময়িকী এন্টারটেইনমেন্ট উইকলির সাবেক এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিং থেকে টেইলর সুইফটের শুরুর দিনের কথোপকথন প্রকাশ করেছেন। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ইউনিভার্সাল সিটির একটি ইন-এন-আউট বার্গারের দোকানে নেয়া হয়েছিল সেই সাক্ষাৎকার। তখন সুইফটের বয়স ১৮, আর তার প্রথম অ্যালবামের সাফল্য ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছিল।

সাক্ষাৎকারটির একটি মজার স্মৃতি হলো— ওই সময় ক্যাফেতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় একসঙ্গে বসে ছিলন টেইলর সুইফট ও সাংবাদিক ক্রিস উইলম্যান। আর এ সময়ের মধ্যে মাত্র একজন ব্যক্তি গায়িকার অটোগ্রাফ নিতে এগিয়ে এসেছিলেন। তখনো তার জনপ্রিয়তা মূলত কান্ট্রি সংগীতের শ্রোতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পপসংগীতের জগতে তার পরিচিতি সবে তৈরি হতে শুরু করেছে। এমটিভি তখন ‘টিয়ারড্রপস অন মাই গিটার’ গানের পপ রিমিক্স প্রচার করে। এর লক্ষ্য ছিল তাকে আরো বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা।

ওই সাক্ষাৎকারে সুইফটের কথায় উঠে আসে নিজের গান নিয়ে আত্মবিশ্বাস এবং ন্যাশভিলের সংগীতজগতে গীতিকার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তখন তার দুটি গান চার্টে জায়গা করে নিয়েছিল—‘আওয়ার সং’ কান্ট্রি চার্টে শীর্ষে, আর ‘টিয়ারড্রপস অন মাই গিটার’ পপসংগীতের শ্রোতাদের মধ্যেও পরিচিতি পাচ্ছিল।

কোন গানটি পরিবেশন করবেন, এমন প্রশ্নে সুইফটের উত্তর ছিল বেশ বাস্তববাদী। তিনি বলেছিলেন, চার্টে যে গানটি এক নম্বরে থাকবে, সাধারণত সেটিই বেছে নেবেন। ‘আওয়ার সং’ তখন টানা ছয় সপ্তাহ কান্ট্রি চার্টের শীর্ষে ছিল। সুইফটের ভাষায়, ‘এই এক নম্বর অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব সুবিধা নিতে চাই।’

গানটি তার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল অন্য কারণেও। স্কুলের নাইন গ্রেডে পড়ার সময় প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠানের জন্য গানটি লিখেছিলেন তিনি। ফলে নিজের লেখা গান দিয়ে প্রথমবার চার্টের শীর্ষে পৌঁছানো ছিল তার জন্য বড় অর্জন। সুইফট বলেছিলেন, ন্যাশভিলের গীতিকারদের কাছ থেকে তিনি সব সময়ই স্বীকৃতি পেতে চেয়েছেন। গীতিকারদের ভোটে নির্বাচিত সংগীতশিল্পী হিসেবে পুরস্কার পাওয়াও তার কাছে ছিল বিশেষ সম্মানের।

শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে সুইফট বলেছিলেন, গানগুলো মানুষের মনে এতটা দাগ কাটতে পেরেছিল, সেটাই তার সৌভাগ্য।

প্রথম অ্যালবামের ২০ বছর পূর্তিতে সুইফট নতুন কোনো বিশেষ সংস্করণ প্রকাশ করে দিনটি উদ্‌যাপন করছেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে অ্যালবামটি ঘিরে ভক্তদের উৎসাহ কমেনি। ‘আওয়ার সং’, ‘টিয়ারড্রপস অন মাই গিটার’-এর মতো গানগুলো মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হয়ে ওঠার আগে সুইফট ছিলেন নিজের গান দিয়ে স্বীকৃতি অর্জনে ব্যস্ত এক তরুণ শিল্পী।

আরও