সালমান রুশদির ভূমিকায় মঞ্চে আসছেন নাসিরুদ্দিন শাহ

রুশদির স্মৃতিকথার মূল আখ্যান এবার মঞ্চে তুলে আনছে মোটলি প্রডাকশনস। ‘২৭ সেকেন্ডস’ শিরোনামের এ নাটকে রুশদির ভূমিকায় অভিনয় করছেন নাসিরুদ্দিন শাহ।

২৭ সেকেন্ড: ঘড়ির কাঁটায় সময়টা ১ মিনিটের অর্ধেকেরও কম, আবার ১ মিনিটের চার ভাগের এক ভাগের চেয়ে একটু বেশি। এত অল্প সময়ে অসাধারণ কিছু ঘটে যাওয়ার কথা নয়। অবশ্য আপনি যদি কবিতা ভালোবাসেন, তাহলে ভিন্ন কথা। ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি তার স্মৃতিকথা ‘নাইফ: মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডার’-এ লিখেছেন, ‘আপনি চাইলে শেকসপিয়রের একটি সনেট আবৃত্তি করে পড়ে ফেলতে পারেন।’ গ্রীষ্মের দিনের সঙ্গে যার তুলনা করা সনেটের কথা বলেছেন রুশদি। কিন্তু সময়ের এমন ক্ষণস্থায়ী পরিসরকে ঘিরে তার এ রোমান্টিক স্মৃতিচারণ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় আরো এক ভয়াবহ ২৭ সেকেন্ডের স্মৃতিতে। ২০২২ সালের ১২ আগস্ট সকালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের চৌটাকোয়া ইনস্টিটিউটের উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চে নিজের আততায়ীর মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতায়। পরিহাসের বিষয়, সেদিন সেখানে তার আলোচনার বিষয় ছিল, ‘লেখকদের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখার গুরুত্ব।’ এবার সে ঘটনা ও রুশদিকে মঞ্চে নিয়ে আসছেন নাসিরুদ্দিন শাহ।

রুশদির স্মৃতিকথার মূল আখ্যান এবার মঞ্চে তুলে আনছে মোটলি প্রডাকশনস। ‘২৭ সেকেন্ডস’ শিরোনামের এ নাটকে রুশদির ভূমিকায় অভিনয় করছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। রুশদির স্ত্রী র‍্যাচেল এলিজা গ্রিফিথসের ভূমিকায় মালাইকা চৌধুরী। আরো কয়েকজন শিল্পী থাকছেন প্রযোজনাটিতে। আগামী মাসে পৃথ্বী থিয়েটার উৎসবে নাটকটির মঞ্চায়ন শুরু হবে।

এ প্রযোজনা সম্পর্কে হিন্দুস্তান টাইমসকে ই-মেইলে রুশদি লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই নাসিরের অভিনয়ের ভক্ত আমি। এ প্রযোজনার দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন, এতে আমি দারুণ আনন্দিত।’

জুহুর একটি হলঘরে সম্প্রতি নাটকটির মহড়া শুরু করেছেন শাহ ও অন্য অভিনয়শিল্পীরা। চিত্রনাট্যের খুঁটিনাটি নিয়ে তাদের নিবিড় অনুশীলন চলছে। এ মঞ্চরূপের পেছনে রয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ ও পরিচালক কৌশিক সেন। স্মৃতিকথাটিকে মঞ্চে রূপ দেয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহ শুরুতেই স্পষ্ট করে দেন, এটি কোনো ‘পুনর্নির্মাণ’ নয়। তার মতে, এটি একটি ‘নাটকীয় বাস্তবতার উপস্থাপনা’।

২০২৪ সালে বইটি প্রকাশের পর পরই নাটকটি নিয়ে কাজ শুরু হয়। রুশদির স্মৃতিকথা মঞ্চে রূপান্তরের স্বত্ব পেতে প্রথমে তার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কৌশিক সেন ও নাসিরুদ্দিন শাহ। নাটকটির সহপরিচালক অর্ঘ্য লাহিড়ী বলেন, ‘সালমান রুশদি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সাড়া দিয়েছিলেন। তবে একটি শর্ত ছিল। চিত্রনাট্যে তার বইয়ের ভাষা ব্যবহার করতে হবে। ফলে নাটকে চরিত্ররা যা কিছু বলছে, তার সবই সরাসরি বই থেকে নেয়া।’

চিত্রনাট্য প্রস্তুত হওয়ার পর সেটিকে আরো এক দফা পরিমার্জন করেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এরপর নাটকটির একটি পাঠপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পাঠপর্ব পর্যালোচনা করেন মোটলি প্রযোজনা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রত্না পাঠক শাহ।

নাটকটির কাঠামো নির্মাণের নেপথ্যে তাদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে লাহিড়ী বলেন, ‘নাটকটি কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে।’ বইটিতে রুশদির সঙ্গে তার আততায়ী হাদি মাতারের কথোপকথন রয়েছে একটি সম্পূর্ণ অধ্যায়জুড়ে। রুশদি আততায়ীকে সম্বোধন করেন ‘দ্য এ’ নামে। নাটকে এ চরিত্রে পর্যায়ক্রমে অভিনয় করছেন সাহির মেহতা ও বিজয় তিলানি। বইয়ে এ কথোপকথন আসলে রুশদির কল্পনায় নির্মিত এক অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রকাশ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরও