ভিন্নধর্মী কাজের প্রতি বরাবরই আগ্রহী অভিনেত্রী কাজী নওশাবা। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনায়ও নিজের কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন। বর্তমানে তার নির্দেশনায় নির্মিত একটি সিনেমার কাজও এগিয়ে চলছে। সে ধারাবাহিকতায় এবার নতুন আরেকটি সিনেমায় অভিনেত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন নওশাবা। মুনতাসির আকিবের নির্মাণে ‘চিরকুট’-এ অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রটি অতিথি হলেও গল্পের মোড় ঘোরাতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।
নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন, বন্ধুত্ব, প্রেম-ভালোবাসা ও আবেগের গল্প নিয়ে নির্মাণ হয়েছে চিরকুট। একটি সত্য ঘটনার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সে সময়ের ক্যাম্পাস জীবন ও পরিবেশ। ফিল্ম ম্যানিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মুনতাসির আকিব।
চিরকুটে নওশাবার চরিত্র প্রসঙ্গে মুনতাসির আকিব বলেন, ‘এ গল্পে নওশাবার চরিত্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরো গল্পের যে মোড়, সেটা মূলত নওশাবার চরিত্র থেকেই আসে। বলা যায়, তিনি এ গল্পের একটি হুক পয়েন্ট। যদিও তিনি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনয়ও খুব দারুণ ছিল।’
চিরকুটে যুক্ত হওয়ার কারণ জানিয়ে নওশাবা বলেন, ‘প্রথমত, এটি আকিবের প্রথম সিনেমা। সিনেমাটি নিয়ে তার সঙ্গে অনেক গল্প হতো। ও আমাকে বলে, ‘‘আপু, তোমাকে থাকতেই হবে।’’ আমি শুধু আকিবের জন্যই ছবিটা করেছি। অবশ্যই রাজশাহীর জন্যও।’
রাজশাহীর সঙ্গে নওশাবার দীর্ঘদিনের সম্পর্কও এ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। এর আগে শহরটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে থিয়েটার করেছেন তিনি। সে কাজের নির্দেশনাও দিয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাশাপাশি শিল্পকলার অধীনে একটি নির্দেশনা কোর্স করতেও সেখানে গিয়েছিলেন এ অভিনেত্রী।
নওশাবার ভাষায়, ‘রাজশাহী শহরটা আমার ভীষণ ভালো লাগে। রাজশাহীর মানুষ, খাবার, পদ্মা নদী—সবকিছুর প্রতিই আমার ভালো লাগা আছে। সে টানও আমি সামলাতে পারিনি, যার কারণে সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছি।’
নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে গল্পের পটভূমি হিসেবে বেছে নেয়ার পেছনে রয়েছে একটি সত্য ঘটনা। ২০২০ সালে কভিডের সময় গল্পটি হাতে পান নির্মাতা। এরপর ২০২১ ও ২০২২ সালে চলে চিত্রনাট্য তৈরির কাজ। ২০২৪ সালের শেষ দিকে শুরু হয় শুটিং। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬—এ তিন বছর বিভিন্ন পর্যায়ে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে।
সিনেমার গল্প প্রসঙ্গে আকিব বলেন, ‘গল্পটি খুবই আবেগঘন। নব্বইয়ের দশকের একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে এটি নির্মিত। গল্পের ভিন্নতা ও বিশেষত্বই আমাকে এ সিনেমা নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। সিনেমাটির গল্পে আমাদের দেশের মানুষের আবেগ ও জীবনযাপনের ছাপ রয়েছে। অনেক সময় বিভিন্ন দেশ, উপন্যাস বা অন্য সিনেমার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। তবে চিরকুট সে জায়গা থেকে আলাদা। এটি বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি সিনেমা। একই সঙ্গে এটি একটি সরল ও নির্মল প্রেমের গল্প।’
নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘সিনেমায় আমার চরিত্র একটি অতিথি চরিত্র। তবে চরিত্রটি গল্পে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রাখে। এ সিনেমা একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। এমন প্রেম এখন হয়তো খুব বেশি দেখা যায় না। চিরকুট লেখা, চোখে চোখ রাখা, অপেক্ষা করা—এসব এখন অনেকটাই মোবাইল ফোনে হয়ে গেছে। সে জায়গা থেকে অফলাইনের প্রেম, ভালো লাগা ও নীরবতাকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে।’
সিনেমাটি নির্মাণে নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাসের আবহ পর্দায় তুলে ধরতে নির্মাতাকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সে সময়ের পোশাক, ক্যাম্পাসের পরিবেশ, জীবনযাপন ও দৈনন্দিন নানা অনুষঙ্গ পর্দায় তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ সিনেমার ক্যাম্পাসের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০-২৫০ শিক্ষার্থীও অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন।
চিরকুটে নওশাবার সঙ্গে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মিমি, সুমন পাটোয়ারী, তেহজিব, আবদুল্লাহ আল সেন্টু, সঞ্জিব আহমেদ, শাওন আশরাফ, ইকবাল, আজমল মিঠু, সিয়াম নাসির, শিমুল, সাদি খান, শামীম আহসান, মাহিরা হাসান ও ইব্রাহিম সুজনসহ অনেকে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে চিরকুট।