ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো অপরাধজগতের মানুষ, কখনো প্রতিবাদী চরিত্র, আবার কখনো কমেডি চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। আজ ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা পাটেকরের বেশ কিছু সিনেমা দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। সেসবের মধ্যে পাঁচটি সিনেমা নিয়ে এই আয়োজন—
‘পরিন্দা’
বিদু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত ‘পরিন্দা’ মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। অপরাধজগতের গল্পের এই সিনেমায় নানা পাটেকর অভিনয় করেন আন্না চরিত্রে। অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত সিনেমাটিতে আন্না মুম্বাইয়ের অপরাধজগতের এক প্রভাবশালী গ্যাংস্টার। এই সিনেমার জন্য ১৯৯০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার পান নানা পাটেকর। একই সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কারেও সেরা সহ-অভিনেতা হন তিনি।
‘ক্রান্তিবীর’
মেহুল কুমার পরিচালিত ‘ক্রান্তিবীর’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। এতে নানা পাটেকর অভিনয় করেন প্রতাপ নারায়ণ তিলকের চরিত্রে। শুরুতে লক্ষ্যহীন এক মানুষ পরে সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পথ বেছে নেয়—সিনেমার গল্পে তার এই পরিবর্তনই গুরুত্বপূর্ণ। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৯৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান নানা পাটেকর। একই বছর ফিল্মফেয়ার পুরস্কারেও সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পান এ অভিনেতা।
‘অগ্নিসাক্ষী’
পারথো ঘোষ পরিচালিত ‘অগ্নিসাক্ষী’ মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে। জ্যাকি শ্রফ ও মনীষা কৈরালার সঙ্গে অভিনীত এই সিনেমায় নানা পাটেকর অভিনয় করেন বিশ্বনাথের চরিত্রে। বিয়ের পর শিবাঙ্গীর জীবনে বিশ্বনাথের ফিরে আসা এবং তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভয় ও অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। বিশ্বনাথের চরিত্রে ছিল গভীর আসক্তি ও নিয়ন্ত্রণপ্রবণতা। এই অভিনয়ের জন্য ১৯৯৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার পান নানা পাটেকর।
‘আব তক ছাপ্পন’
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আব তক ছাপ্পন’ পরিচালনা করেন শিমিত আমিন। এতে নানা পাটেকর অভিনয় করেন মুম্বাই পুলিশের এনকাউন্টার কর্মকর্তা সাধু আগাশের চরিত্রে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো এই পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। এ সিনেমার জন্য ২০০৫ সালে বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি।
‘ওয়েলকাম’
নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারে ‘ওয়েলকাম’ আলোচিত একটি কমেডি সিনেমা। এখানে উদয় শেঠি চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়। আনিস বাজমি পরিচালিত ২০০৭ সালের এই সিনেমায় তিনি উদয় শেঠি চরিত্রে অভিনয় করেন। উদয় একজন গ্যাংস্টার, তবে তার প্রধান চিন্তা নিজের বোনের বিয়ে দেওয়া। অনিল কাপুর অভিনীত মাজনু ভাইয়ের সঙ্গে তার জুটি সিনেমাটির হাস্যরসের অন্যতম কেন্দ্র। পরে ২০১৫ সালের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সিনেমাতেও একই চরিত্রে ফিরে আসেন তিনি।