দুই দশকের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল পেলেন মাইকেল বি. জর্ডান। ৯৮তম অস্কারের মঞ্চে ‘সিনার্স’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। ১৯৩০-এর দশকের মিসিসিপির প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই অতিপ্রাকৃত হরর সিনেমায় ‘স্মোক’ ও ‘স্ট্যাক’ নামের যমজ চরিত্রে তার দ্বৈত অভিনয় দর্শক ও সমালোচক উভয়কেই মুগ্ধ করেছে।
পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগপ্রবণ জর্ডান বলেন, আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি কারণ আমার আগে সিডনি পয়টিয়ার, ডেনজেল ওয়াশিংটন, হ্যালি বেরি, জেমি ফক্স, ফরেস্ট হুইটেকার ও উইল স্মিথের মতো দিকপালরা পথ তৈরি করে দিয়েছেন। এই কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লেখাতে পারাটা আমার কাছে পরম সম্মানের।
‘সিনার্স’ পরিচালক রায়ান কুগলারের সঙ্গে জর্ডানের পথচলা শুরু হয় ২০১৩ সালে ‘ফ্রুটভেইল স্টেশন’ সিনেমা দিয়ে। এরপর ‘ক্রিড’ বা ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমায় তারা জুটি বেঁধেছেন। মঞ্চ থেকে পরিচালকের উদ্দেশে জর্ডান বলেন, তুমি অসাধারণ একজন মানুষ। তুমিই আমাকে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ ও জায়গা করে দিয়েছ।
সেরা অভিনেতার এই দৌড়ে জর্ডানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিমোথি শ্যালামে (মার্টি সুপ্রিম), লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার), ইথান হক (ব্লু মুন) এবং ওয়াগনার মৌরা (দ্য সিক্রেট এজেন্ট)। পুরস্কারের মৌসুমে টিমোথি শ্যালামে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের চমক হিসেবে জর্ডান বাজিমাত করেন।
উল্লেখ্য, মাইকেল বি. জর্ডান অস্কারের ইতিহাসে ষষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে এ সম্মান অর্জন করলেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ‘দ্য ওয়্যার’, ‘অল মাই চিলড্রেন’ এবং ‘ফ্রাইডে নাইট লাইটস’ এর মতো টেলিভিশন সিরিজ দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। প্রয়াত বন্ধু চ্যাডউইক বসম্যানের সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্বের কথা প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। পপ-কালচারের জনপ্রিয়তায় ২০২০ সালে ‘পিপল’ ম্যাগাজিন তাকে ‘সেক্সিয়েস্ট ম্যান অ্যালাইভ’ খেতাবেও ভূষিত করেছিল।