সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে নাটকটির ৬৩তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বের বিস্ময় মহীয়সী নারী হেলেন কেলারের জীবন, কর্ম, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নাটকটি রচনা করেছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু এবং নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। এতে একক অভিনয় করেছেন জুয়েনা শবনম। প্রযোজনা-ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন শাখাওয়াত শ্যামল এবং মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ণ।
নাটকের গল্পে দেখা যায় দৃষ্টি, বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও প্রবল আত্মবিশ্বাস আর শিক্ষয়িত্রী অ্যান স্যুলিভানের অতিমানবিক প্রেরণায় সব নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ান হেলেন কেলার। নাটকে শিক্ষয়িত্রী অ্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে উঠে আসে চার্লি চ্যাপলিন, মার্ক টোয়েন, জন এফ কেনেডি ও আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যে তার জীবন সমৃদ্ধ হওয়ার গল্প।
একই সঙ্গে নাটকটিতে পাশ্চাত্যের হেলেন কেলারের জীবনে প্রাচ্যের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা রবীন্দ্রদর্শনের প্রবল প্রভাবের প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয়েছে। নারীজাগরণ ও মানবতাবাদের পক্ষে এবং যুদ্ধ, ধ্বংস, সহিংসতা, বর্ণবাদ ও আণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে হেলেন কেলারের স্পষ্ট অবস্থানও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এ গবেষণাগার পদ্ধতিতে নির্মিত আধুনিক বাংলা নাট্যরীতির প্রযোজনাটিতে।
দেশে নিয়মিত প্রদর্শনীর পাশাপাশি নাটকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের আমন্ত্রণে এবং ভারতের চারটি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে এটি মঞ্চস্থ হয়। এছাড়া ছয়টি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল থিয়েটার ফেস্টিভ্যালেও নাটকটি প্রচার হয়েছে।
দেশীয় মঞ্চের সীমানা ছাড়িয়ে আগামী ৬ জুন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে স্বনামখ্যাত নাট্যসংগঠন ‘রেনেসাঁ ড্রামা সোসাইটি’র আমন্ত্রণে নাটকটি মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে।