তরুণ কণ্ঠশিল্পী মাশা ইসলাম। কণ্ঠ ও গায়কি দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। ছোটবেলা থেকেই গানের তালিম নিয়েছেন। ছায়ানটে শিখেছেন নজরুলগীতি। তবে গান করেন বিভিন্ন জনরার। সম্প্রতি ‘দাগি’ সিনেমায় গেয়েছেন ‘একটুখানি মন’। চরকি অরিজিনাল ‘দুই দিনের দুনিয়া’র ‘টেকা পাখি’ জনপ্রিয় হয়েছিল। ১২টির বেশি ভাষায় গাইতে পারেন মাশা। সম্প্রতি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজনে এসেছিলেন বণিক বার্তায়। তার সংগীতযাত্রা ও আসন্ন কাজ নিয়ে কথাও বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান
বাংলা নতুন বছর শুরু হচ্ছে। নতুন বছরের পরিকল্পনা দিয়েই আলাপ শুরু করি।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছরের তেমন কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই। তবে নিজের কিছু গান আছে। সেগুলো নিয়ে আরো কাজ করতে চাই। গানগুলো এ বছর প্রকাশ করার ইচ্ছা। বলা যায়, এটাই নতুন বছরের পরিকল্পনা।
আমরা মাশার প্লেব্যাক শুনেছি, কভার শুনেছি, নিজের লেখা গানও শুনেছি। মাশার যাত্রার শুরুটা জানতে চাই।
অনেক ছোট থেকেই গুনগুন করে গাইতাম। পরিবারের মানুষ মনে করলেন যে আমি গাইতে পারব। তারপর ছায়ানটে ভর্তি হওয়া, তালিম নেয়া। এর পরের যা, বলা যায় নিজে থেকেই শেখা। নিজে নিজে শেখা।
আপনার পরিবারের কেউ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত?
আমার বাবা গান গাইতে খুব পছন্দ করেন। গান বা সংগীত তার প্রফেশন নয়, তবে বলা যায়, তার প্যাশনের জায়গা। আমার মধ্যে বোধ হয় জেনেটিক্যালি বিষয়টা এসেছে।
আট বছর বয়সে ছায়ানটে ভর্তি হওয়া, নজরুলগীতি শেখা প্রায় ১০ বছর। নজরুলগীতি সেভাবে কেন শুনি না মাশার কণ্ঠে?
প্রথম যখন পারফর্ম করি বা পারফর্ম করার বিষয়টা শুরু হয়, তখন তবলা হারমোনিয়ামের সঙ্গেই গেয়েছি। নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীতই গাওয়া হতো। এরপর যখন পেশাগতভাবে স্টেজ শো বা কনসার্ট করা শুরু হয়, তখন অনেক ধরনের গান গাইতে হয় তো, সেখানে তবলা-হারমোনিয়াম থাকে না। ওই সেটআপটা থাকে না। তাই কম গাওয়া হয়। কিন্তু আসলে নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গেই বড় হয়েছি।
ছোটবেলায় একবার আপনাকে মঞ্চে তুলে গান গাইতে বলা হলো, আপনি মাউথপিস ফেলে পালালেন। তারপর কবে আবার মনে হলো এবার মাউথপিস তোলা যায়? দুটো সময়ের পার্থক্য নিজের কাছে কেমন ছিল?
অনেক বড় একটা বদল তো অবশ্যই। যেটা আসলে হয়েছিল, আমাদের পরিবারের কোনো একটা অনুষ্ঠান ছিল। এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাদের স্টেজে তুলে গাইতে বা আবৃত্তি করতে বলা হয়। ওই রকমই একটা দিন ছিল। আমি তখন অনেক ছোট। এত বড় স্টেজ দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মাউথপিসটা সুন্দর করে রেখে একপাশ দিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর বড় হলাম। গানের সঙ্গে থাকলাম। একটা সময় স্টেজ আমার প্রিয় জায়গা হয়ে উঠল। এরপর আর ওই ভয়টা কাজ করে না। দ্বিধাও কাজ করে না।
ক্লাস ফাইভে থাকতে ইংলিশ ফর টুডের অডিও বুকে কণ্ঠ দেয়া, এরপর অনেক দিন সেটার সঙ্গে থাকাও সাহায্য করেছে নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ অবশ্যই। স্টুডিওতে মাইকের সামনে যখন এ কাজগুলো করি, বলা যায় সেটা গুটি গুটি পায়ে এগোনোর মতো ছিল। আমার শিল্পের কাছে এভাবেই পৌঁছেছি। ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতে করতেই অনেক কিছু শিখেছি।
সিসিমপুর...
সিসিমপুরও একটা বড় অংশ আসলে। নিয়মিত সেখানে গাইতাম। পরে স্টুডিও হোক বা স্টেজ—কাজগুলো সহজ হয়ে গিয়েছিল।
প্লেব্যাকের প্রসঙ্গে আসি। ২০১৮ সালে বেঙ্গলি বিউটিতে কণ্ঠ দেয়া, এরপর অনেকটা বিরতির পর লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান। সেটা কেন?
আসলে ওভাবে কখনো তো চিন্তা করিনি, একটার পর একটা কাজ করব। আমাকে যখন কেউ ডেকেছেন, তাদের মনে হয়েছে আমাকে দিয়ে একটা গান করাবেন, তখনই সেটা করেছি। কখনো এমন চিন্তা করিনি যে একটার পর একটা করে যেতে হবে।
প্রায় ১২ বা ১৩টা ভাষায় আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে গাইতে পারেন। কীভাবে আয়ত্ত করলেন?
শুনে শুনেই। আমার কাছে মনে হয়, লিসেনিং ইজ দ্য বেস্ট প্র্যাকটিস।
আচ্ছা। আপনার নতুন প্রজেক্ট সম্পর্কে জানতে চাই।
দাগি সিনেমায় একটা গান এল। এরপর শুরুতেই যেটা বললাম, আমার নিজের গানগুলোয় সময় দেব। এছাড়া নজরুলগীতি, গজল নিয়ে কিছু করার ইচ্ছা আছে।
তরুণ শিল্পীদের জন্য কোনো বার্তা...
খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমার মনে হয়, নিজের কাজটায় বিশ্বাস করা, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখা জরুরি।
আপনার শ্রোতা-ভক্তদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে আমরা শেষ করতে পারি।
পহেলা বৈশাখে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আশা করি, আমাদের নতুন বছরটা সুন্দর কাটবে। সবাই আমরা ভালো থাকব, সবার জন্য ভালো কিছু করব। এটাই আশাবাদ।