ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে এখনো সিনেমায় কাজ হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন। তার দাবি, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিষয়ে জনমত বদলালেও চলচ্চিত্রশিল্পের একটি অংশ এখনো তার সক্রিয়তাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন সিনেমা ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর প্রচারে গিয়ে সারান্ডন বলেন, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থানের কারণে ইন্ডাস্ট্রির কিছু অংশ এখনো তাকে এড়িয়ে চলছে।
তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের রাজনীতির সঙ্গে জায়নিস্ট আন্দোলনের সম্পর্কের বিষয়ে বয়ানটি পুরোপুরি বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে কত অর্থ দেয়, সেটি মানুষের জন্য বড় ধরনের উপলব্ধির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে আসলে কেউই তেমন জানত না।’
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি বেড়েছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে।
তবে ৭৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কারণে পেশাগতভাবেও তাকে এখনো মূল্য দিতে হচ্ছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমার কাছ থেকে কয়েকটি সিনেমার কাজ কেড়ে নেয়া হয়েছে। কারণ কিছু ট্যালেন্ট এজেন্সি এখনো বলছে, যেন আমাকে কাজে নেয়া না হয়।’
তিনি বলেন, ‘তবে ক্ষমতার কাঠামো এমনই। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাধারণ মানুষ এখনো আমাকে স্বাগত জানায় বলেই মনে হয়।’
‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অস্কার পুরস্কার পান সুসান সারান্ডন। তার আলোচিত অন্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে দ্য রকি হরর পিকচার শো, বুল ডারহাম ও থেলমা অ্যান্ড লুইস।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবস্থানের কারণে ২০২৩ সালে দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সি (ইউটিএ) সুসান সারান্ডনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ওই বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার এক মাস পর ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নিয়ে সারান্ডন বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন।
সেসময় তিনি বলেছিলেন, ‘এই সময়ে অনেক মানুষ ইহুদি হওয়ার কারণে ভয় পাচ্ছেন এবং তারা এই দেশে একজন মুসলিম হওয়ার অনুভূতি কিছুটা হলেও বুঝতে পারছেন।’
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রভাব এ বছরের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবেও পড়েছে। ফিলিস্তিনি পরিচালকদের নির্মিত সিনেমাগুলো উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ায় আয়োজকদের ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানিয়েছেন অধিকারকর্মীদের একটি অংশ।
তবে উৎসবের শৈল্পিক পরিচালক আলবের্তো বারবেরা বলেছেন, এটি সম্ভব নয়। কারণ ইতালি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি। অবশ্য উৎসবে এমন কয়েকটি সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে, যেগুলোয় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সারান্ডন বলেন, ইসরায়েলের কট্টর সমালোচকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় চলচ্চিত্র স্টুডিওগুলোর মধ্যে এখনো বিশেষ ধরনের অনীহা রয়েছে।
এসময় ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর পরিচালক আন্দ্রেয়া পাল্লাওরোকে সিনেমাটিতে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান সারান্ডন।
ইতালীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা বার্নার্দো বের্তোলুচ্চির শেষ চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এ সারান্ডন একজন বয়স্ক গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি তার সংগীতজীবনে আবারো ফিরতে চায় এবং এ জন্য মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা এক সংগীত প্রযোজককে নিয়োগ করে।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার গোল্ডেন লায়নের জন্য প্রতিযোগিতা করা ২১টি সিনেমার একটি ‘দ্য ইকো চেম্বার’। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর উৎসবের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।