নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী খোঁজার উদ্যোগ ‘ফেস অব টুমরো’র প্রথম আসরের গ্র্যান্ড সিনেমাটিক গালায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রাইসা ও লাবন। গত ১০ আগস্ট রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হয় জমকালো এ আয়োজন।
সেরা ২০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে চ্যাম্পিয়ন রাইসা ও লাবন পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা করে। প্রথম রানারআপ হয়েছেন সিফনা ও সৌমিক, তারা পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা করে। ১ লাখ টাকা করে পেয়েছেন দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মুনমুন ও তমাল।
নতুন প্রজন্মের শিল্পী তৈরি এবং বাংলাদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও মানুষের গল্পকে সিনেমাটিক স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রির উদ্যোগ ‘ফেস অব টুমরো’। পুরো উদ্যোগটি বৃহত্তর ‘চলো ঘুরে আসি’— আ বাংলাদেশ-সেন্ট্রিক ট্র্যাভেল, কালচার অ্যান্ড কমিউনিটি মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত।
সারা দেশ থেকে ৫ হাজার ৪৭১টিরও বেশি আবেদন থেকে একাধিক ধাপের অডিশন, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও সিনেমাটিক বুট ক্যাম্পের মাধ্যমে সেরা ২০ প্রতিযোগী নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতাটিকে শুধু ট্যালেন্ট হান্ট হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্বাচিত শিল্পীদের বাস্তব চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেয়ার জন্য তাদের যুক্ত করা হয়েছে ‘চলো ঘুরে আসি’ সিনেমাটিক ট্র্যাভেল ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম উদ্যোগে।
এর আওতায় দেশের বিভিন্ন লোকেশন ও গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এসব চলচ্চিত্রে নির্বাচিত শিল্পীরা অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
গালা নাইটের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ছিলেন জনপ্রিয় সঞ্চালক আইশা খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, সেন্সর বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, অভিনেতা মিশা সওদাগর, নির্মাতা ও অভিনেতা গাজী রাকায়েতসহ অনেকে।
প্রকল্পের প্রধান তিন বিচারক ছিলেন নির্মাতা অনিমেষ আইচ, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান এবং নাজনীন হাসান চুমকি।এর পাশাপাশি ১০ জন নির্মাতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ‘চলো ঘুরে আসি’-এর আওতায় নির্মিতব্য ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাতা, লোকেশন ও কাস্টিং-সংক্রান্ত পরিকল্পনাও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। তিনি ‘চলো ঘুরে আসি’-এর ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটিতে পারিশ্রমিক ছাড়াই অভিনয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া গ্র্যান্ড গালায় ছিল বর্ণিল সাংস্কৃতিক ও সিনেমাটিক পরিবেশনা।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি জানায়, ‘ফেস অব টুমরো’র মূল লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্পী খুঁজে বের করা নয়; বরং প্রশিক্ষণ, বাস্তব কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্টিস্ট ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে তাদের পেশাদার শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা।
আয়োজকদের মতে, ‘ফেস অব টুমরো’ প্রকল্পের সমাপ্তি নয়; বরং নতুন শিল্পীদের জন্য একটি বৃহত্তর পেশাগত যাত্রার সূচনা। ‘চলো ঘুরে আসি’-এর ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত শিল্পীদের সামনে আরো চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, টিভিসি, ওভিসি, ট্রাভেল কনটেন্টসহ বিভিন্ন পেশাগত কাজের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।