ধর্মেন্দ্রকে দেখুন, দিনে ২-৩ ঘণ্টা ব্যায়াম করুন— সালমানকে পরামর্শ দিয়েছিলেন গোবিন্দ

গোবিন্দর ভাষায়, আমি বলেছিলাম, দিনে দুই-তিন ঘণ্টা ব্যায়াম করো। ধর্মেন্দ্রকে দেখো। ধর্মেন্দ্রর পর তুমিই একমাত্র নায়ক, যাকে ঈশ্বর বাবা-মা, ভাইবোন, সুন্দর চেহারা ও দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব—সবকিছু দিয়েছেন

২০০৭ সালের ‘পার্টনার’ সিনেমার শুটিং শুরুর আগে সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন ছিল মানসিক যন্ত্রণা ও অস্থিরতায় ভরা। তখন তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এ সিনেমার অন্য নায়ক গোবিন্দ। মজার বিষয় হলো, সেই সময় গোবিন্দের নিজের ওজন ছিল ১১৪ কেজি! আর তিনিই কিনা বলছিলেন ব্যায়ামের পরামর্শ।

সম্প্রতি এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ বলেন, সালমান তখন বেশ চুপচাপ ও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের দিকে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিতে তিনি সালমানের সঙ্গে কথা বলেন।

গোবিন্দ বলেন, ‘সালমান তখন অনেক যন্ত্রণা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কেউ যখন নিজের সমস্যা নিয়ে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে—তা প্রেম, আশা কিংবা প্রত্যাশা, যে কারণেই হোক—তাকে অন্য কেউ সহজে সেই অবস্থা থেকে বের করে আনতে পারে না। সালমানও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল।’

সেই আড্ডাতেই সালমানকে গোবিন্দ বলেন, ‘সালমান, তুমি বাইরের দিকে অনেক তাকিয়েছ। এবার নিজের ভেতরের দিকে তাকাও।’

গোবিন্দ জানান, তখন তার নিজের ওজন ছিল ১১৪ কেজি। রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই তিনি ‘পার্টনার’-এ অভিনয় করছিলেন। তাই রসিকতা করে সালমানকে বলেছিলেন, ‘আমি যখন ওজন কমাব, তত দিনে তো চরিত্রাভিনেতা হয়ে যাব! “পার্টনার”-এর মতো সিনেমায় কমেডি চরিত্রই করে যাব।’

এরপর সালমানকে তিনি আরও সরাসরি বলেন, ‘তুমি নায়ক, কিন্তু এখন তোমাকে নায়কের মতো দেখাচ্ছে না। তোমাকে অসুখী, বিষণ্ন লাগছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসো।’

সালমান তখন জিজ্ঞেস করেন, কী করা উচিত। জবাবে গোবিন্দ তাকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন।

গোবিন্দর ভাষায়, ‘আমি বলেছিলাম, দিনে দুই-তিন ঘণ্টা ব্যায়াম করো। ধর্মেন্দ্রকে দেখো। ধর্মেন্দ্রর পর তুমিই একমাত্র নায়ক, যাকে ঈশ্বর বাবা-মা, ভাইবোন, সুন্দর চেহারা ও দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব—সবকিছু দিয়েছেন। মানুষের দিকে তাকালেই যেন তারা বলে ওঠে, “এই তো নায়ক”—এমন আভা তোমার মধ্যেই আছে।’

গোবিন্দ আরো জানান, তিনি তখন সালমানকে বলেছিলেন, আগামী ১০ বছর তিনি বলিউড শাসন করবেন। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছিল।

আরও