অভিজ্ঞতা, স্কোয়াডের গভীরতা, বড় মঞ্চে খেলার অভ্যাস—সব দিক থেকেই এগিয়ে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। কিন্তু নরওয়ের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে আর্লিং হালান্ড। যতক্ষণ তিনি মাঠে, ততক্ষণ অসম্ভবও অসম্ভব নয়। তাই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে নরওয়ের স্বপ্নেরও যেন শেষ নেই।
ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর থেকেই নরওয়ে শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। সেই ম্যাচে হালান্ডের জোড়া গোল প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলেই তিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। আর সেটাই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। হ্যারি কেইন বনাম হালান্ডের লড়াই যতটা আলোচনায়, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন দুই কোচের জন্য—উইংয়ে কাদের খেলাবেন?
টমাস টুখেল এখনো যেন নিজের সেরা দুই উইঙ্গার খুঁজে পাননি। অ্যান্থনি গর্ডন, মার্কাস র্যাশফোর্ড, বুকায়ো সাকা ও ননি মাদুয়েকে—চারজনকেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে এ চারজনের কেউই এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সময়ের ৫৭ শতাংশের বেশি খেলেননি, কেউ তিনটির বেশি ম্যাচেও শুরু থেকে নামেননি। প্রতিপক্ষের ধরন অনুযায়ী টুখেল তার পরিকল্পনা বদলেছেন বারবার।
গর্ডন, র্যাশফোর্ড, সাকা ও মাদুয়েকে—চারজনই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উইঙ্গার। গর্ডনের প্রধান শক্তি গতি, মাদুয়েকে আক্রমণে ধারাবাহিকভাবে বল এগিয়ে নেয়ায় কার্যকর, র্যাশফোর্ডের দৌড় প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে, আর সাকা সুযোগ তৈরিতে দলের অন্যতম ভরসা। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের আগে উইংয়ে কাদের দিয়ে শুরু করবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি টুখেল।
নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেনের চিন্তাটাও আলাদা। তার দলের আক্রমণভাগের কেন্দ্র অবশ্যই হালান্ড, কিন্তু তাকে কার্যকর রাখতে পাশে কাদের রাখা হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন। এ বিশ্বকাপে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ মাত্র একবার শুরু থেকে খেলেছেন। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে হালান্ডের দুই গোলেই সহায়তা করে নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাকেই প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে।
বিশ্বকাপে গোলের সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যানে তিনি টুর্নামেন্টের সেরাদের একজন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ হতে যাচ্ছে জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে। গত কয়েক বছর ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছেন তারা। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই তাদের প্রথম মুখোমুখি। নতুন প্রজন্মের দুই মহাতারকার এ লড়াইকে এরই মধ্যে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ দুই তারকার সম্পর্কও বেশ পুরনো। ২০২০ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে তাদের বন্ধুত্বের শুরু। পরে হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটিতে চলে গেলেও যোগাযোগ বজায় ছিল। বন্ধুত্ব মাঠের বাইরে থাকলেও শনিবার রাতে কেউ কাউকে ছাড় দেবেন না।
ইংল্যান্ডের ওপর চাপ যে বেশি, সেটিও স্বীকার করেছেন হালান্ড। নরওয়ে সেই চাপের সুযোগ নিতে পারবে বলেও মত তার। গত বছর তিনি মজা করে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নরওয়ের মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ। এবারো নিজের দলের সম্ভাবনাকে খুব বেশি বাড়িয়ে দেখাতে রাজি নন। বরং সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপরই রাখতে চান তিনি। হারানোর কিছু নেই, পাওয়ার আছে অনেক কিছু। আর সামনে যখন হালান্ডের মতো এক দুর্দান্ত গোলশিকারি থাকেন, তখন প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, স্বপ্ন দেখার অধিকার তো আছেই। তিনি আছেন বলেই নরওয়ের রূপকথা এখনো জীবন্ত।