বার্মিংহাম টেস্টে ভারত খেলতে এসেছিল এমন এক টেস্ট হেরে, যেটি হারা তাদের একেবারেই উচিত ছিল না। তবে লিডসকে পেছনে ফেলে এসে এবার স্টোকস বাহিনীকেও ধরে ফেলল শুবমান গিলের ভারত। বিরাট কোহলি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রোহিত শর্মা ছাড়া ২০১০-১১ সালের ডারবান টেস্টের পর এটিই তাদের প্রথম জয়। আর জয়টিও এল জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়াই! বিষয়টির মাহাত্ম্য বোঝাতে বলা ভালো, লিডস টেস্টেই বলা হয়েছিল— ভারত দলে আছে জাসপ্রিত বুমরাহ ও ১০ জন ব্যাটার!
সিরিজে পিছিয়ে পড়ে বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী করার কথাই ভারতের ভাবার কথা। কিন্তু ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে গিয়ে আরেকটি ‘রক্ষণাত্মক’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সমালোচনার মুখে পড়ে ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট। তবে এজবাস্টন টেস্টে ছিল পিচ এবং বলের এক নতুন সংমিশ্রণ খুঁজে পায় শুবমান বাহিনী। ৩০ ওভারের মতো নতুন বলের উইন্ডো তৈরি করেছিল ভারতের পেস আক্রমণ। আর ভারত এই টেস্ট জিতেছে মূলত নতুন বলে দুর্দান্ত সাফল্যের জোরে।
দুই ইনিংস মিলিয়ে প্রথম নতুন বলে ভারত ১০ উইকেট নিয়েছে ২৪৩ রানে, আর দ্বিতীয় নতুন বলে ৯ দশমিক ৩ ওভারে ৫ উইকেট এসেছে মাত্র ৫৭ রানে। এর বিপরীতে ইংল্যান্ড তাদের দুই নতুন বল দিয়ে ৯৩ ওভারে পেয়েছে মাত্র ৮ উইকেট। সেখানেই জিতে গেছে ভারত আর হেরেছে ইংল্যান্ড। নতুন বলে ৩০০ রান খরচায় ইংলিশদের ১৫ উইকেট নিয়েছে ভারত। আর ৩৯৯ রান খরচ করে ইংল্যান্ড পেয়েছে ৮ উইকেট।
টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে লাগে পাঁচ দিনের কঠোর পরিশ্রম এবং পরিপূর্ণ বোলিং ইউনিট। কিন্তু এজবাস্টনে ভারত জয় পেয়েছে মাত্র তিনটি ছোট উইন্ডোতেই। বিশেষ করে, প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে ভারত ছিল প্রাণঘাতী। ৩১ থেকে ৮০ ওভারের মাঝে, জেমি স্মিথ ও হ্যারি ব্রুক মিলে গড়েছিলেন ২৪৪ রানের পার্টনারশিপ। তাদের দেখে মনেই হচ্ছিল না যে, তাদের পক্ষে কোনো ভুল শট খেলা সম্ভব!
সবগুলো নতুন বলের পরিসংখ্যান যোগ করলে দেখা যায়, ভারতীয় পেসাররা তাদের ২০ দশমিক ৮৭% ডেলিভারিতেই ইংলিশ ব্যাটারদের ফলস শট খেলতে বাধ্য করেছে। আর ইংল্যান্ড পেরেছে মাত্র ১৪ দশমিক ৮৮% ডেলিভারিতে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—ভারত কম সিম এবং সামান্য বেশি সুইং করিয়েছে।
বুমরাহর পরিবর্তে একাদশে আসা আকাশ দীপকে নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ ছিল যে, তিনি কতটা বাজেভাবে ফেল করবেন। কিন্তু এজবাস্টনে ভারতের জয়ের নায়ক শুবমান গিল হলে পার্শ্বনায়ক অবশ্যই দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেয়া আকাশ দীপ। ডানহাতি এই পেসার ক্রিজ ব্যবহার করেছিলেন দারুণভাবে। ফোর্থ স্ট্যাম্প চ্যানেলে বল করার সময় ক্রিজটাকে সবচেয়ে চওড়া বানিয়ে বল করেছেন আকাশ দীপ।
এই টেস্টে আরেকজন বেশ ‘ওয়াইড ক্রিজ’ ব্যবহার করেছেন। তিনি ইংলিশ পেসার জশ টাং। টাং নিজেও স্বীকার করেছেন, এই অ্যাঙ্গেল ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেছে। যেমন ওলি পোপ।
টাং পরে নিজেই কেএল রাহুলকে আউট করেন এমন এক বলে, যেটা ভেতরে ঢোকার পথে সিম করে বেরিয়ে যায়। আকাশ দীপ তাকে ছাপিয়ে যান জো রুটকে একইভাবে বোল্ড করে।
ভারত স্টাম্প লক্ষ্য করে বেশি বল করেনি। উইকেটে গতি বেশি ছিল না। কিন্তু নতুন বলে বেশিবার গুড লেংথে বল করেছে ভারতীয় পেসাররা।
বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলি বাজবলের স্বভাব ধরে রাখলেও এই ধরনের নতুন বলবান্ধব পিচে উইকেট হাতে রাখাটাও বেশ কার্যকর। ভারতের বোলাররা ভালো করেছেন। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ঝুঁকি কখনোই কম ছিল না। টেস্ট ম্যাচ প্রায় সব সময় বোলাররাই জেতান। কিন্তু এজবাস্টনের ব্যাটিংবান্ধব পিচে অনেক ক্ষেত্রেই ফলাফল না আসারই কথা।
কিন্তু ইংল্যান্ডের ব্যাটিংই ফলাফল তৈরি করছে। ব্যাটিং হয়তো আপনাকে টেস্ট জেতাতে পারে না, কিন্তু মাঝে মাঝে আপনাকে হারিয়ে দিতেই পারে। ক্যাটালিস্ট হিসেবে নতুন বলে ভারতের টোটকাটাও দারুণ কাজে লেগেছে।