ট্রাম্পকে সমর্থনের অভিযোগ

ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে যাচ্ছে ফেয়ারস্কয়ার

সংস্থাটি জানায়, ইনফান্তিনো ‘বারবার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন’ করছেন— এ বিষয়ে তারা আইওসিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবে। এর মাধ্যমে ফিফার নিজস্ব নৈতিকতা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে ঘিরে চলমান বিরোধ আরো তীব্র হতে যাচ্ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গ করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো— এমন অভিযোগ দাখিলের পরিকল্পনা করেছে ফেয়ারস্কয়ার। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)-র দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি। খবর রয়টার্স।

সংস্থাটি গতকাল জানায়, ইনফান্তিনো ‘বারবার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন’ করছেন— এ বিষয়ে তারা আইওসিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবে। এর মাধ্যমে ফিফার নিজস্ব নৈতিকতা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে ঘিরে চলমান বিরোধ আরো তীব্র হতে যাচ্ছে।

ইনফান্তিনো ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য।

ফেয়ারস্কয়ার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফার এথিকস কমিটির কাছে একটি অভিযোগ করেছিল। সেখানে বলা হয়, ইনফান্তিনো একাধিকবার প্রকাশ্যে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ও নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সংস্থাটি আরো বলেছে, অভিযোগে তারা ইনফান্তিনোর ভূমিকা তদন্ত করতে এথিকস কমিটিকে অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে, ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ চালু, সেই পুরস্কার ট্রাম্পকে দেয়ার সিদ্ধান্ত এবং এসব প্রক্রিয়া ফিফার বিধি অনুযায়ী হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগ অনুযায়ী, ইনফান্তিনো ফিফার নৈতিকতা বিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন, যেখানে দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।

এই বিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করলে ন্যূনতম ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২ হাজার ৩৭৮ মার্কিন ডলার) জরিমানা এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার শাস্তি হতে পারে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, প্রতি বছর ‘পিস প্রাইজ’ দেয়ার সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে সেই পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত ফিফা কাউন্সিল নিয়েছিল, নাকি ইনফান্তিনো একাই নিয়েছিলেন—সেটিও তদন্ত করা উচিত।

ফেয়ারস্কয়ারের ভাষ্য, যদি ইনফান্তিনো কোনো সাংবিধানিক বা বিধিগত ক্ষমতা ছাড়াই এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটিকে ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অভিযোগ পেলে তদন্ত করবে আইওসি

আইওসির সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি গত মঙ্গলবার বলেন, এখন পর্যন্ত এথিকস কমিশনের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পৌঁছায়নি। তবে অভিযোগ এলে কমিশন অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

ফেয়ারস্কয়ার জানিয়েছে, ফিফার তদন্ত শাখার সচিবালয় গত ডিসেম্বরেই অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত শুরু হয়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফিফা।

রয়টার্সের দেখা এক চিঠিতে ফিফা জানিয়েছে, তদন্ত শাখার চেয়ারম্যানের নির্দেশে সচিবালয় ফিফার নৈতিকতা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে পারে।

তবে শুধু অভিযোগ দাখিল করলেই যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া অভিযোগকারী তদন্ত প্রক্রিয়ার পক্ষভুক্ত হন না এবং গোপনীয়তার কারণে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয় না।

বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে ফেয়ারস্কয়ার ফিফায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবিতে ‘রিবুট’ নামে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করে।

গত সপ্তাহে সংস্থাটি জানায়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফিফার এথিকস কমিটিকে চিঠি দিয়েছেন।

এছাড়া নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা কমিটিকে অনুরোধ করেছে, পিস প্রাইজ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইনফান্তিনো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা-সংক্রান্ত ফিফার বিধি লঙ্ঘন করেছেন কিনা, তা মূল্যায়ন করতে।

বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও বিতর্ক

বিশ্বকাপ চলাকালে আরো একটি বিতর্কের জন্ম দেয় ফিফা। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলার অনুমতি দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি ৪-১ গোলে হেরে যায়।

ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোকে বালোগুনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইনফান্তিনো দাবি করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না।

আরও