২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংবাদ বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিবাদে প্রায় ১৭ হাজার ভক্ত তাদের বিশ্বকাপের টিকিট বাতিল করেছেন। তবে এই তথ্যের গভীরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে সত্যের চেয়ে অতিরঞ্জনই বেশি। খবর মার্কা।
সম্প্রতি এক্স এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে #BoycottWorldCup এবং #BoycottWorldCup2026 হ্যাশট্যাগগুলো ট্রেন্ডিং হতে শুরু করে। বিশেষ করে লেবানিজ কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা এবং অধ্যাপক এলিয়ট জনসনের মতো পরিচিত ব্যক্তিদের পোস্ট এই বিতর্ককে উসকে দেয়। মোহাম্মদ সাফা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইসিই বা অভিবাসন দপ্তরের কড়াকড়ির কারণে তিনি তার টিকিট বাতিল করেছেন। এসব ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও প্রতিবাদ দ্রুতই অনলাইনে বড় আকার ধারণ করে, যা অনেকের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করে যে, ব্যাপক হারে টিকিট বাতিল হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'রয়্যাল নিউজ' প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, রাতারাতি ১৬ হাজার ৮০০ টিকিট বাতিল হয়েছে। এই সংবাদটি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কায় প্রকাশিত হলে তা দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
বাস্তবতা হলো, ফিফার টিকিট বিক্রির নীতি অত্যন্ত কঠোর। একবার টিকিট কেনা হয়ে গেলে তা সাধারণত বাতিল বা অর্থ ফেরতের সুযোগ থাকে না। ফলে ‘১৭ হাজার টিকিট বাতিল’ হওয়ার তথ্যটি প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যাটি আসলে টিকিট বিক্রির তৃতীয় ধাপে যারা লটারির জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের মধ্যে কিছু মানুষের আবেদন প্রত্যাহার করার বিষয় হতে পারে, যা মোট চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
তাছাড়া, ১৭ হাজার টিকিট একযোগে বাতিল হওয়ার দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। ফিফা বা কোনো সরকারি সংস্থা এমন কোনো সংখ্যা নিশ্চিতও করেনি। সে সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোও গণহারে টিকিট বাতিলের কোনো প্রমাণ পায়নি।
ফিফা জানিয়েছে, তারা এরইমধ্যে ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে ১৫ কোটিরও বেশি টিকিটের আবেদন পেয়েছে। এছাড়া, মোট টিকিটের সংখ্যার তুলনায় চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৩০ গুণ বেশি। অর্থাৎ, যদি কয়েক হাজার মানুষ টিকিট বাতিলও করেন, তবে তা বিশাল এই চাহিদার সমুদ্রে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না।
তবে টিকিট বাতিল না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতির কারণে কিছু দেশের ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। ইরান, হাইতি বা ভেনিজুয়েলার মতো দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। অনেক ভক্ত তাই যুক্তরাষ্ট্রে খেলা না দেখে কানাডা বা মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।