নরওয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই পরাজয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার।
আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পর শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান টেলিভিশন গ্লোবোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, আমি চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।
২০১০ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ঠিক এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। সেই ম্যাচেই করেছিলেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। প্রায় ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল একই ভেন্যুতে।
নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি ছিল ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের ৮০তম আন্তর্জাতিক গোল। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেই ক্যারিয়ার শেষ করছেন। কিংবদন্তি পেলের চেয়ে তার গোল তিনটি বেশি।
এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে তার ম্যাচসংখ্যা ১৩০, যা ব্রাজিলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার ওপরে আছেন শুধু সাবেক অধিনায়ক কাফু, যার ম্যাচসংখ্যা ১৪২।
তবে এবারের বিশ্বকাপে চোট তার পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ডান পায়ের কাফের চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শেষ ১৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও বদলি হিসেবে ৬৭তম মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ছিলেন নেইমার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বারবার ইনজুরির কারণে তার প্রভাব কমে যায়। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলও এখন নতুন প্রজন্মের হাতে দল গড়ার পথে হাঁটছে।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, এটি আমার জন্যও বড় অভিজ্ঞতা এবং অত্যন্ত হতাশাজনক একটি ফল। আমরা সবাই খুব কষ্ট পেয়েছি। তবে এই দলটি অসাধারণ ছিল। খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতেই হবে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয় না আমরা হারার যোগ্য ছিলাম, কিন্তু ফুটবলে কখনো কখনো এমন বাস্তবতা মেনে নিতেই হয়।
তিনি আরো বলেন, পরাজয়ের তিক্ততা সামলাতে হয়। আমি এর সঙ্গে পরিচিত। তবে এই হার থেকেই আমরা নতুন চক্রের জন্য শক্তি নেব। সমর্থকদের মতো আমরাও গভীরভাবে হতাশ। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই হতাশা থেকে সঠিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো।
নরওয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন আর্লিং হালান্ড। তার দুই গোলেই ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে।