এখনো বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আছে: শরিফুল

ম্যাকাই টেস্টে গতকাল প্রথম দিন ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গতি বোলার মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৬৪ রানে। পরে শরিফুল ইসলামও ৬ উইকেট নেন ৩৫ রানে।

তাতে অজিরা ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে। তারা ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শেষ করে। স্বাগতিকরা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে ম্যাচে রেখেছেন ২৫ বছর বয়সী বামহাতি বোলার শরিফুল। দিন শেষে তিনি প্রতিপক্ষ দলের বোলার মিচেল স্টার্কের প্রশংসা করার পাশাপাশি বলেছেন, ‘এখনো বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আছে।’

২২ বলে ৫ উইকেট শিকার করা স্টার্কের প্রশংসা করে শরিফুল বলেন, ‘ওনার বোলিং আমার ভালো লাগে। দেশে আমার আদর্শ মুস্তাফিজ ভাই, তবে সুইংয়ের জন্য ওনাকেও (স্টার্ক) পছন্দ করি। একই ম্যাচে উনিও ৬ উইকেট পেয়েছেন, আমিও পেয়েছি—এটি খুব ভালো লাগার বিষয়।’

স্টার্ক ৬ উইকেট পেলেন, আপনিও ৬ উইকেট পেলেন এবং দুজনই বামহাতি পেসার। বামহাতিরা কি একটু সুবিধা পাচ্ছেন? শরিফুল বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তো ওইপাশ থেকে বল করছিলাম, বাতাসটা বিপরীতে ছিল, যে কারণে বলটা সুইং করছিল। আপনারা খেলা দেখেছেন। নতুন বলে সবসময় সুইং করছিল, প্রায় ২০-২৫ ওভার পর্যন্ত। ওরা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েছে।’

শরিফুল গত ১৪ জুন মিরপুরে এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে ৪৮ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। যদিও কুপার কনোলির ১৪৯ রানের লড়াকু সেঞ্চুরিতে ম্যাচটি জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এবার অজিদের মাঠে টেস্টে ৬ উইকেট নিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও তার ৬ উইকেটেই ম্যাকাই টেস্টে ম্যাচে টিকে আছে বাংলাদেশ।

গতকাল প্রথম দিনের খেলা শেষে টেস্টে প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে শরিফুল বলেন, ‘অনুভূতি অবশ্যই ভালো। প্রথমত, ধন্যবাদ জানাই আল্লাহ–তায়ালাকে। গতবার যেটা পেয়েছিলাম, ওটাও ভালো লেগেছিল। সত্যি আরো ভালো লাগত, যদি ম্যাচটা (মিরপুরের ওয়ানডে) জিততাম। ৫ উইকেট পেয়েছি বলে আমি এখনই খুব খুশি নই। যদি ম্যাচ জিতি তবে অনেক খুশি হব।’

ম্যাচের একদিনেই পড়েছে ১৮ উইকেট, দুই ইনিংস প্রায় শেষ। তিনদিনের মধ্যেই ফল আসতে পারে এ টেস্টে। শরিফুলের আশা, পরের ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ঘুরে দাঁড়াবেন। তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, এখনো তো খেলা শেষ হয়নি। কেবল প্রথম দিন গেল। ব্যাটিংয়ে আজ আমাদের একটি খারাপ দিন গেছে। তবে তারাও তাদের কন্ডিশনে অনেক সংগ্রাম করছে। দেখা যাক কী হয়, আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’

প্রথমে ড্রেসিংরুমে বসে স্টার্কের বোলিং দেখছিলেন শরীফুল। সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনিও ভালো করেছেন। দিন শেষে শরিফুল বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে সবসময় ফাস্ট বোলাররা ভালো করে। স্টার্ক অনেক দিন ধরে খেলছেন এবং ভালো করছিলেন। আমি দেখছিলাম কোন লেংথে বল করলে সুবিধা পাওয়া যায়।’

শরিফুল এখনো জয়ের আশা ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো খেলার মধ্যে আছি। ইনশা আল্লাহ, আমরা চেষ্টা করব দ্বিতীয় ইনিংসটি যাতে আমাদের পক্ষে থাকে। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে।’

আরও