লা লিগায় ওসাসুনার কঠিন প্রতিরোধের সামনে পড়লেও শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়ার জোড়া গোলে জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেল।
পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা ২১টি শট নিলেও ওসাসুনা শট নিতে পেরেছে মাত্র ৩টি। বার্সেলোনার জন্য এ সন্ধ্যাটা হতাশা উপহার দিতে যাচ্ছে, এমন মনে হওয়াও ছিল স্বাভাবিক। ঠিক তখনই ৭০তম মিনিটে প্রথম আঘাত হানেন রাফিনিয়া। পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত শটে তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে একটি ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে ঠিক তার পায়ে আসে, আর গোলপোস্টের কাছে থাকা রাফিনিয়া সহজেই বল জালে ঠেলে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে ২৩তম মিনিটে অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে মার্কাস রাশফোর্ডের ক্রস থেকে হেডে গোল করেছিলেন ফেরান তোরেস। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সেই গোল বাতিল করে দেন। কারণ, শর্ট কর্নারের সময় বিল্ডআপে রাফিনিয়ার গোড়ালি সামান্য অফসাইডে ছিল।
পরে লামিন ইয়ামালের বিপজ্জনক ক্রস থেকে ফেরান আরো একবার গোলের সুযোগ পান, কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই ফরোয়ার্ডের ফার্স্ট টাচের চেষ্টা ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
ওসাসুনা রক্ষণাত্মক কৌশল নিলেও কাউন্টার অ্যাটাকে কিছুটা হুমকি তৈরি করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই ভিক্টর মুনোজ আলেহান্দ্রো বালদেকে গতিতে পরাস্ত করে দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করেন। গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে একা পেয়েও শটটি বাইরে মেরে দেন মুনোজ।
অবশেষে বার্সেলোনার আধিপত্যের পুরস্কার আসে। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি ড্রাইভ করে বল এগিয়ে নিয়ে রাফিনিয়াকে দেন। তিনি গোলরক্ষক সার্জিও হেরেরাকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।
ওসাসুনার প্রতিরোধ ভেঙে দেয়ার পর, ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সহজ ট্যাপ-ইন গোলে দলের সফলতা নিশ্চিত করেন।
সাত সপ্তাহ আগেও এল ক্লাসিকোতে ২-১ গোলে হারের পর বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৫ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু টানা সাতটি লিগ ম্যাচে জয় পাওয়ায় তারা এখন ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেল।
অবশ্য, রিয়াল মাদ্রিদ যদি আজ আলাভেসের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি জেতে, তবে পয়েন্টের ব্যবধান কমে চারে নেমে আসবে।