সিলেট টেস্টে ২৪২ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলা তাওহীদ হৃদয়কে প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশ দলের ক্যারিবীয় কোচ ফিল সিমন্স। তিনি মনে করেন, হৃদয় খুব দ্রুত পরিণত হয়ে উঠছে।
হৃদয়ের ইনিংস নিয়ে সিমন্স বলেন, ‘অসাধারণ ইনিংস। অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। সীমানায় ফিল্ডার থাকার পরও সে (হৃদয়) জায়গা খুঁজে বের করে বাউন্ডারি মারছিল, ছক্কা মারছিল, এমনকি ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার পরও। ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে বোঝা যাচ্ছিল, সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তবু সব দিক বিবেচনায় এটি দুর্দান্ত ইনিংস। খেলার পরিস্থিতি বোঝা, ঠিক কোন শটটি খেলা উচিত, তা জানা, কিংবা শেষ তিন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে স্ট্রাইক ভাগাভাগি করার সময়জ্ঞান-এই ইনিংসে প্রতিটি কাজই অসাধারণ দক্ষতায় সামলেছে।’
শিষ্যকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ক্রিকেটারদের কাছে আমাদের চাওয়াটাই ছিল এমন, সুযোগ পেলে সেটার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। কেউ যখন মাঠে আছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তার। দলের যা প্রয়োজন সেটাই করতে হবে। সে ঠিক সেই মুহূর্তেই দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং দল হিসেবে আমাদের যা চাওয়া ছিল, তার সবই করে দেখিয়েছে।’
সিমন্স জানালেন, অতিমানবীয় ইনিংস খেলার পথে হৃদয়ের জন্য ছিল না বিশেষ কোনো বার্তা। তিনি বলেন, ‘নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যাটসম্যানদের কীভাবে খেলা উচিত, তা নিয়ে আমরা ড্রেসিংরুম থেকে বার্তা পাঠাই না। বাউন্ডারি লাইন পার হওয়ার পর মাঠের দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই। তাদের মাথায় এটাই ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি, উইকেটে যখন খেলছো, তখন সিদ্ধান্তও তোমার। আমি তো ড্রেসিংরুমে বসে নির্দেশনা দিতে পারব না। সে যা করেছে, নিজের বুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত থেকেই করেছে। মুশফিক ও তাইজুলদের সঙ্গে জুটি গড়ে ওভাবেই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ড্রেসিংরুমে এমন ক্রিকেটার আছে যারা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। এখানে (সিলেটে) গতবার যখন খেলেছিলাম, লিটন প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে নেমে সেঞ্চুরি করেছিল। আমাদের সবসময় এই বিশ্বাসটা থাকে, পরে যে নামছে, সে দলের চাহিদামতো পারফর্ম করতে প্রস্তুত।’
হৃদয়ের ব্যাটে এভাবে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের রহস্য জানা নেই সিমন্সের। তবে তার মতে, খুব দ্রুতই শিখছেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় হৃদয়ের সঙ্গে যখন কথা বলার সুযোগ হবে, প্রশ্নটা তাকেই করা ভালো। কারণ এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের রহস্যটা কেবল সে-ই ব্যাখ্যা করতে পারবে। তবে শুরু থেকে সে দারুণ ব্যাটিং করছিল। হ্যাঁ, ঢাকায় সে একাধিক বেপরোয়া শট খেলেছিল। কিন্তু ওটা ছিল তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট, তাই না? ফলে তাকে কাঠগড়ায় তোলা যায় না। আমার ধারণা, ও খুব দ্রুত পরিণত হয়ে উঠছে। আজ মাঠে সেটাই দেখলাম।’