‘রোনালদোর ক্ষুধা এখনো ট্রফি না পাওয়া তরুণের মতো’

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বলেছেন, ‘খেলোয়াড়টির মধ্যে পারফর্ম করার ক্ষুধা প্রচণ্ড।

সে সবকিছু জিতেও পারফর্ম করার ক্ষুধাটা যে কিছুই জেতেনি তার চেয়ে বেশি।’ মার্টিনেজ মনে করেন, পারফর্ম করার এ ক্ষুধাই ড্রেসিংরুমে রোনালদোকে গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য হিসেবে স্থান করে দিয়েছে।

আসন্ন বিশ্বকাপে পর্তুগাল দলে রোনালদোকে দলে রেখেছেন মার্টিনেজ। তবে মহাতারকা হলেও তার বয়স নিয়ে কথা ওঠেই। ৪১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপ দলে! এ নিয়ে মার্টিনেজের পরিষ্কার কথা—বয়স নয়, ফর্মের বিচারেই রোনালদোকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়েছে এবং সবার ক্ষেত্রেই তিনি এটাকে মানদণ্ড হিসেবে দেখেন।

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন রোনালদো। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আসর পর্যন্ত টানা ছয় আসরে খেলা হবে তার, যিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডধারী। আরো বহু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এ ফুটবল কিংবদন্তি।

বিশ্বকাপের দলে রোনালদোর থাকা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কোচিং করাই যে জাতীয় দলের হয়ে খেলে এবং বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কোনো আইকনিক ব্যক্তিকে কোচিং করাচ্ছি না।’

কোচ তাকে কোন ভূমিকায় দেখতে চান, সেটা নিয়েই ভাবছেন। মার্টিনেজের জন্য ক্যালকুলেশন সহজ। তিনি ট্রেনিং দেখেই বুঝে নেবেন, রোনালদোকে কীভাবে ব্যবহার করবেন। এ স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘বয়স তো সংখ্যা মাত্র। নিশ্চিতভাবেই জাতীয় দলে আমরা প্রতিদিন যা ঘটে সেটা থেকে পরদিনের সিদ্ধান্ত নিই। আপনি পরদিনের চেয়ে দূরের বিষয়ে চোখ দেবেন না।’

রোনালদোকে বিশ্বকাপ ম্যাচে ব্যবহারে বেশ কৌশলী হতে পারেন মার্টিনেজ। তাকে শুরুর একাদশে রাখতে পারেন, আবার বদলি হিসেবে খেলানো হতে পারে, কিংবা ট্যাকটিক্যাল শিফট এবং যেসব ম্যাচ অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে কিংবা টাইব্রেকারে গড়াবে সেসব মুহূর্তে তাকে ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করতে পারেন পর্তুগাল কোচ। মার্টিনেজ মনে করেন, আধুনিক ফুটবলে শুরুর একাদশের ধারণা বদলে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা পাঁচজন বদলি খেলোয়াড় পেয়েছি। মানে, বলতে পারেন আমাদের শুরুর একাদশ আর সমাপ্তির একাদশ। খুব একটা পার্থক্য নেই। বিভিন্ন ভূমিকা আছে দলে এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সবসময় এটা মেনে নেয়।’

২০২২ সালের বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন তখনকার কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস। এক টুর্নামেন্টের সঙ্গে অন্য টুর্নামেন্টের তুলনা করতে নারাজ মার্টিনেজ। দলের অন্যদের মতো রোনালদোর বেলায়ও যোগ্যতা আর ফর্ম দেখবেন তিনি। মার্টিনেজ বলেন, ‘জাতীয় দলে সব খেলোয়াড়কেই সমানভাবে দেখি আমরা। দলের জয় নিশ্চিত করতে গিয়ে কে কোথায়, কখন খেলবে, কীভাবে দলকে উপকৃত করতে পারবে, সেটি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কেউ যখন দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে সমর্থ হয় তখন তার খেলার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এটা খুবই সহজ কথা।’

রোনালদোর উপস্থিতিটা কেবল আলংকারিক হিসেবে দেখছেন না মার্টিনেজ। তার সময়ে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর ৩০ ম্যাচে ২৫ গোলের কথাও মনে করিয়ে দেন মার্টিনেজ, যা পর্তুগালে আগের যেকোনো কোচের সময়ের চেয়ে শ্রেয়তর গোলগড়। মার্টিনেজ জোর দিয়ে বলেন, ‘‌রোনালদোর আলোচনায় বয়সটা আনা উচিত নয়। এর চেয়ে বরং ডেটা, ট্রেনিং, দৃষ্টিভঙ্গি আর ফিটনেসটা দেখা উচিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেবল শারীরিক ফিটনেসের কারণেই রোনালদোর ক্যারিয়ারটা লম্বা হয়েছে তা নয়, বরং উন্নতির জন্য তিনি যে তাড়না অনুভব করেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও