এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে পদক জিততে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। আজ শনিবার নিশিনে ব্রোঞ্জ ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে ৬৩ রানে হেরেছে লিটন কুমার দাসের দল। আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে সিংহলিজরা। জবাব দিতে নেমে লিটনরা ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে অলআউট।
অথচ শ্রীলংকার দলটি একেবারেই নতুন মুখে গড়া। দলটিকে পরিচিত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় বলতে ছিলেন কেবল নুয়ান তুষারা। বিপরীতে বাংলাদেশ দল গড়ে সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান রহমানের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে। এশিয়াডের ক্রিকেট হলেও মূল দল নিয়েই খেলতে যায় বাংলাদেশ। অথচ পূর্ণশক্তির এই দলটিকে হেসেখেলে হারাল শ্রীলংকার ‘বি’ টিম।
শেখ মেহেদী হাসান ১২ রানের মধ্যেই শ্রীলংকার দুই ওপেনারকে ফেরান। পরে আরেক ধাক্কায় ২১ রানের মধ্যে নেই সিংহলিজদের ৪ উইকেট। সেখান থেকে দুর্দান্ত লড়াইয়ে তারা ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে নেয়। ৩২ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শ্রীলংকাকে ভালো সংগ্রহ এনে দেন থারিন্ডু রত্নায়েকে। এছাড়া সাহান আরাচ্চিগে ৩৭ বলে ৩৩ রান করেন। মুস্তাফিজ, সাইফ ও মেহেদী উভয়ই দুটি করে উইকেট নেন। যদিও বেশ ব্যয়বহুল ছিলেন মুস্তাফিজ। তিনি চার ওভারে খরচ করেন ৪৩ রান।
১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে শূন্য রানে বিদায় নেয় বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার—সাইফ, তানজিদ ও লিটন। তাতে একটি পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৪/৩। এই ধকল আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে পারভেজ (২০), তাওহীদ (১১) ও ইয়াসির আলী (২১) এবং শেষ দিকে নাসুম (২৬) ও রিশাদ (১০) চেষ্টা করলেও তাতে লাভ হয়নি, বিপর্যস্ত তরীকে আর টেনে তোলা যায়নি। তুষারা, থারিন্ডু, বিজয়কান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
২০১০ সালে গুয়াংজুতে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম আসরে স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশের ছেলেরা। এরপর সর্বশেষ দুটি আসরে (২০১৪ ও ২০২৩) ছেলেদের ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ জিতেছে টাইগাররা। এবার তারা দেশে আসছে খালি হাতে।