ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু আজ

‘আয়ের ভাগ’ ইস্যুতে ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়রা

ক্লে কোর্টের একমাত্র গ্র্যান্ড স্লাম প্রতিযোগিতা ফ্রেঞ্চ ওপেনের ১২৫তম আসর শুরু আজ।

বিশ্বের শীর্ষ তারকারা যখন শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন তখন কিনা বিতর্ক তৈরি হয়েছে পেমেন্ট ইস্যু নিয়ে। টুর্নামেন্টের আয়ের ১৫ ভাগ খেলোয়াড়দের দেয়া হচ্ছে, যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তারকা খেলোয়াড়রা। এর প্রতিবাদে তারা শুক্রবার প্রাক-টুর্নামেন্ট সংবাদ সম্মেলনে একজোট হয়ে কম কথা বলেছেন।

টুর্নামেন্টে মেয়েদের এককের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কোকো গাফ গুনে গুনে দশটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেছেন, তিনি শেষ করলেন। তার কথায়, ‘আমাকে যেতে হবে। আমি দুঃখিত। পরে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

১০ জন শীর্ষ খেলোয়াড় ১৫ মিনিটের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন শেষ করেছেন। তাদের আয়ের ১৫ শতাংশ অর্থ দেয়া হবে বলে এ নিয়ে নিজেদের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশে ‘প্রতীকী’ হিসেবে ১৫ মিনিট করে কথা বলেছেন। এমনকি শীর্ষ র‍্যাংকধারী খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কা তো টুর্নামেন্ট বয়কটের মতো হুমকিও দিয়ে রেখেছেন।

বিষয়টি নিয়ে কোকো গাফ বলেন, ‘এটা বলছে যে আমরা সবাই এক কাতারে রয়েছি এবং শুধু কথা বলার চেয়ে ঐক্যবদ্ধ কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া ভালো। এটাই আমাদের প্রথম কোনো সত্যিকারের পদক্ষেপ।’

তার মতোই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আছেন আরিনা সাবালেঙ্কা, ইয়ান্নিক সিনার ও ইগা সিয়ানতেক। তাদের আন্দোলনের নাম ‘ওয়ার্ক-টু-রুল’।

২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা ৫ মিনিট ব্রডকাস্টার টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে কথা বলেছেন, আর ১০ মিনিট কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সম্মান করি বলেই আমি এখানে এসেছি। আমরা একটি দাবি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ এবং এটা ঠিক যে একেবারে কথা না বলার চেয়ে ১৫ মিনিট তো ভালো। আমি হাজারবার বলেছি, আপনাদের ওপর আমাদের অনেক সম্মান, তবে এখানে যা ঘটছে তা আপনারা জানেন। আপনাদের ধন্যবাদ।’

এটিপি ও ডব্লিউটিএর নিয়মিত টুর্নামেন্টগুলোতে আয়ের ২২ শতাংশ খেলোয়াড়দের দেয়া হলেও ফেঞ্চ ওপেন দিচ্ছে ১৫ শতাংশ। গত ইউএস ওপেনে ২০ শতাংশ ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ১৬ শতাংশ প্রাইজমানি বাড়ানো হলেও এবার ফ্রেঞ্চ ওপেনে তা বাড়ানো হয়েছে ১০ শতাংশ। এবার ফ্রেঞ্চ ওপেনে এককে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় পাবেন ২৮ লাখ ইউরো।

২০২৫ সালে আসরটি আয় করেছিল ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, যা আগের আসরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। অথচ প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছিল মাত্র ৫.৪ শতাংশ।

এবার ফ্রেঞ্চ ওপেনের মোট প্রাইজমানি ৬ কোটি ১৭ লাখ ইউরো, যা গত আসরের চেয়ে ৫৩ লাখ ইউরো বেশি। খেলোয়াড়রা বলছেন, এবারের আসর থেকে প্রায় ৪০ কোটি ইউরো আয় করবে আয়োজকরা। সেখানে খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি দেয়া হবে ১৫ শতাংশেরও কম। খেলোয়াড়রা এটিপি, ডব্লিউটিএ ও অন্যান্য থাউজ্যান্ড টুর্নামেন্টের মতো ২২ শতাংশ প্রাইজমানি দাবি করলেও তা পূরণ হচ্ছে না।

২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লাম চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ ১৫ মিনিটের কাছাকাছি (১৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড) কথা বলে অন্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি। ৩৯ বছর বয়সী খেলোয়াড় অবশ্য সবসময়ই এ বিষয়ে সোচ্চার থেকেছেন। এখানে তিনি লিভ গলফ আর পিজিএ ট্যুরের তুলনা করে বলেছেন, যেন খেলোয়াড়রা আয়ের ন্যায্য ভাগটা পান।

সব খেলোয়াড় অবশ্য প্রতিবাদ করছেন না। ১১ ম্যাচের জয়রথে থাকা মার্তা কস্তিউক রুয়েন ফ্রান্স ও মাদ্রিদে ক্লে কোর্টের শিরোপা জিতে ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে আসলে কখনই আলোচনায় ডাকা হয়নি। আমি এখনো শীর্ষ ১০-এর খেলোয়াড় নই, হয়তো এ কারণে।’ তার মতো ফরাসি খেলোয়াড়রাও এ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হননি। যদিও শীর্ষ দশে ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড় নেই।

আর্থার ফিলস ১৯ র‍্যাংকধারী, আর গতবারের সেমিফাইনালিস্ট লোইস বোইসন আছেন মেয়েদের ৫০ নম্বরে।

কোর্টের লড়াইয়ে এবার ফেভারিট সাবালেঙ্কা ও সিনার। ছেলেদের এককে গতবারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ চোটের কারণে খেলবেন না বলে সিনারের কাজটা সহজ হতে পারে। আর সাবালেঙ্কাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন কোকো গাফ।

আরও