পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ আসরেও বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হলেন। সোমবার রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। প্রায় ৯০ মিনিট সমানে সমান লড়ার পর যোগ করা সময়ের গোলে হেরে যায় পর্তুগাল। বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগাল মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ বলেছেন, বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য ছিল পর্তুগালের এবং তারা আরেকটি সুযোগ হারিয়েছেন।
ফার্নান্দেজ বলেন, ‘এখন আর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার কিছু নেই, কারণ আমরা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছি। কিন্তু আমরা একটি সুযোগ হারিয়েছি। বিশ্বকাপ যারাই খেলে না কেন, প্রত্যেকেই জিততে চায়। আমাদেরও লক্ষ্য ভিন্ন ছিল না—প্রত্যেক বিশ্বকাপের মতোই এবারো পর্তুগাল সুযোগ হারাল।’
বিশ্বকাপ জয়ের মতো সব রসদই ছিল পর্তুগালের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই কেবল নয়, দলটিতে রয়েছেন ইউরোপ মাতানো একঝাঁক তারকা। নুনো মেন্দেস, হোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, গনসালো রামোসরা ছিলেন রবার্তো মার্টিনেজের তাঁবুতে, যারা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে। পর্তুগিজরা ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগ জিতেছে স্পেনকে হারিয়ে। চারবারের মধ্যে দুবার তারা এ টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছে। ২০১৬ সালে ফ্রান্সকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ের কীর্তিও আছে রোনালদো, ব্রুনোদের।
ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিজেরও ম্যানইউর হয়ে দারুণ এক মৌসুম কেটেছে। তিনি প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘জানি, পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। তবে আমাদের প্রত্যাশা সবসময়ই উঁচুতে থাকে। আমি এটা বলতে পারি, আমাদের দলটির বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্যতা আছে। আমাদের দলটি অসাধারণ। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমাদের আরো অনেকদূর যাওয়ার যোগ্যতা ছিল।’
মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেন জিতে গেলে বিদায় নেয় পর্তুগাল। এ নিয়ে ফার্নান্দেজ বলেন, ‘অবশ্যই অবিশ্বাস্য একটি দলের কাছে আমরা হেরে বিদায় নিয়েছি—আমরা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলের কাছে হেরেছি, যারা কিনা ঠিক আমাদের মতোই একটি ভালো দল। সামগ্রিক মূল্যায়নটা অবশ্যই ইতিবাচক হতে পারে না—এটা হতো যদি আমরা শেষ পর্যন্ত যেতে পারতাম—যা আমরা পারিনি।’
গ্রুপ পর্ব থেকেই ধুঁকছে পর্তুগাল। ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেই প্রথমে সামনে পায় ক্রোয়েশিয়াকে। গনসালো রামোস যোগ করা সময়ে গোল করে পর্তুগালকে জয় এনে দেন সেই ম্যাচে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে মূল একাদশে জায়গা পাননি সেই রামোস। এ যাত্রায় পর্তুগিজরা হেরেই যায়। হারের কারণ নিয়ে ফার্নান্দেজ বলেন, ‘সম্ভবত আমরা সবার সেরাটা দিতে পারিনি, এ কারণে আমরা আগেভাগেই বিদায় নিলাম। তবে আমরা বিশ্বাস হারাইনি। শীর্ষ একটি দলের কাছে হেরেছি এবং ইতিবাচক একটি মানসিকতা নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। আমার মনে হয়, নিজেদের প্রতি আমাদের আরো বেশি সৎ ও সত্যবাদী হওয়া উচিত। আমাদের উচিত নিজেদের স্টাইলে খেলা, নিজেদের মতো খেলা এবং এভাবেই অন্য দলগুলোর কাছে আরো বেশি সম্মান আদায় করে নেয়া।’
আগের বিশ্বকাপের মতোই এবারো প্রশ্ন ছিল, রোনালদোর কি শুরুর একাদশে থাকা উচিত? ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা এ মহাতারকা সব ম্যাচেই ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং তিন গোল নিয়ে তিনি আসর শেষ করেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ৯০ মিনিট খেলে লক্ষ্যে দুটি শট নিতে পেরেছেন সিআরসেভেন।
ম্যাচের আগের দিন রোনালদো ঘোষণা করেছেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। হারের পর পর্তুগাল অধিনায়ক দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, তিনি জাতীয় দলের ওপর কীভাবে ও কতটা প্রভাব রেখেছেন। তার কথায়, ‘ক্রিস্টিয়ানোর আগে, পর্তুগাল কিছুই জেতেনি। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমি খুশি। পর্তুগালের হয়ে আমার জেতা সবচেয়ে বড় শিরোপা ২০১৬ সালের ইউরো, যা আমার কাছে, সত্য বলতে কি, বিশ্বকাপের মতোই সমান মর্যাদার।’