‘ম্যান অন মিশন’ মোডে থাকা কার্লোস আলকারাজ প্রায় অপ্রতিরোধ্য। টেনিস ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই তার একের পর এক গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ে সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে। নিউইয়র্কের আথার অ্যাশ স্টেডিয়ামে আরো একবার সেটাই প্রমাণ করলেন তিনি। টেনিসের অন্যতম বড় মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ বাছাই ইয়ানিক সিনারকে উড়িয়ে দিলেন ৬-২, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪ সেটে।
এই জয়ের মাধ্যমে ২২ বছর বয়সী আলকারাজ শুধু দ্বিতীয় ইউএস ওপেনই জেতেননি, বরং দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বের এক নম্বরের আসনও নিজের করে নিলেন। এখন পর্যন্ত ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। ওপেন যুগে এত কম বয়সে এই কীর্তি কেবল বিয়র্ন বর্গই করেছিলেন। আলকারাজ এখন সেই তালিকায় মাত্র চতুর্থ পুরুষ খেলোয়াড়, যিনি তিন ধরনের কোর্টেই একাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন।
ওপেন যুগে প্রথমবার একই ক্যালেন্ডার বছরে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালই দেখল একই দ্বৈরথ। এই ত্রয়ীর শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রইলেন আলকারাজ। সামগ্রিকভাবে এখন তিনি সিনারের বিপক্ষে ১০-৫ এগিয়ে। শেষ আটবারের দেখায় সাতটিতেই তার জয়।
প্রায় তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে আলকারাজ যেন যা চাইছিলেন তাই করতে পারছিলেন। শক্তিশালী সার্ভিস, দারুণ ফোরহ্যান্ড, পাশাপাশি গতির পরিবর্তন, স্পিন ও ট্র্যাজেক্টরির বৈচিত্র্যে সিনারকে ছন্নছাড়া করে দিলেন। কখনো স্লাইস, কখনো হঠাৎ নেটে উঠে আসা, কখনো অপ্রত্যাশিত ড্রপশট—সবকিছুর মিশ্রণে প্রতিপক্ষকে ছন্দে ফিরতে দেননি একবারও।
তবে দিনের আখ্যানের বড় অংশ ছাপিয়ে গেলেন আরেকজন—ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির কারণে আথার অ্যাশ স্টেডিয়াম ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা, প্রবেশে দেরি হয় দর্শনার্থীদের। ম্যাচও শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা পর। এমনকি ট্রফিও রাখা হয় ট্রাম্পের স্যুইটে, যা আগে কখনো হয়নি। প্রথম সেট শেষে যখন স্ক্রিনে ট্রাম্পকে দেখানো হয়, দর্শকদের বড় অংশ তখন প্রবলভাবে তাকে দুয়ো দেন।
প্রথম সেটে একেবারে দম বন্ধ করে দেয়ার মতো টেনিসের পর দ্বিতীয় সেটে ভুল করতে থাকেন আলকারাজ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিনারও নিজের ফার্স্ট সার্ভ ঠিক জায়গায় ফেলতে শুরু করেন। ফলাফল—৩-৬ সেটে হার ও ম্যাচে সমতা। উইম্বলডনের মতো পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিলেও এবার আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়নি।
তৃতীয় সেট থেকে ফের গতি ফিরে পান আলকারাজ। সার্ভিস, ফোরহ্যান্ড ও বৈচিত্র্য—সবকিছু আবার ছন্দে চলে আসে। দ্রুত তৃতীয় সেট জিতে নিয়েই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ম্যাচের। চতুর্থ সেটে সিনার লড়াই চালালেও আলকারাজের দাপুটে খেলার সামনে শেষপর্যন্ত টিকতে পারেননি। একসময় দর্শকদের দাঁড় করিয়ে দেয়া অসাধারণ কয়েকটি র্যালি খেললেও সিনারকে হার মানতে হলো আলকারাজের সামনে।