লাতিন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। হেড টু হেডে কেউ কাউকে পেছনে ফেলতে পারেনি। আজ এক দলের এগিয়ে যাওয়ার পালা। সেই এগিয়ে যাওয়া হবে অত্যন্ত গৌরবের। কেননা আজকের জয়টা এনে দেবে বিশ্বকাপ শিরোপার আনন্দ।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা, স্পেন হারিয়েছে ফ্রান্সকে। এবার শিরোপার ম্যাচে মুখোমুখি লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালদের দল। বিশ্বকাপে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দেখা হচ্ছে দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়নের। সব মিলিয়ে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ১৪টি ম্যাচে, যার বেশির ভাগই ছিল ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। এই ১৪ ম্যাচের মধ্যে উভয় দল জিতেছে সমান ছয়টি করে ম্যাচ, ড্র হয় বাকি দুটি।
বিশ্বকাপে মাত্র একবার দেখা হয় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দেশ দুটি। বার্মিংহামের ভিলা পার্কে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি গোল করেছিলেন লুইস আর্টিমে, স্পেনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন হোসে মার্টিনেজ সানচেজ (পিরি)। ওই হারের কারণেই সেবার নকআউট পর্বে ওঠা হয়নি স্পেনের। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে আর্জেন্টিনা উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে, আর তৃতীয় স্থান নিয়ে বিদায় ঘটে স্পেনের। কোয়ার্টার ফাইনালে অবশ্য ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টাইনরা।
এর বাইরে ১৩ বার দেখা হয় লাতিন ও ইউরোপ জায়ান্টদের। ১৯৫২ সালে প্রথমবারের মতো ফ্রেন্ডলি ম্যাচে মুখোমুখি হয় তারা। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ১-০ গোলে। দুই দলের প্রথম তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল লাতিন জায়ান্টরা। এরপর ধীরে ধীরে স্পেনের আধিপত্য বাড়তে থাকে। পরের ১১ ম্যাচের মধ্যে স্পেন জিতে যায় ছয়টিতে, ড্র হয় দুটি। সর্বশেষ তারা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আগে। মার্চের ওই ফ্রেন্ডলি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের লজ্জা দেয় ‘লা রোজা’রা। সেই হারের প্রভাব কি পড়েছিল বিশ্বকাপেও? তাই তো ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে যান লিওনেল মেসিরা, আর শেষ ষোলোয় তাদের ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিদায় করে দেয় ফ্রান্স।
২০১০ সালে তার আগের ফ্রেন্ডলিতে অবশ্য ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে স্পেনকে হারায় আর্জেন্টিনা। তখন স্পেন ছিল সদ্যই বিশ্বকাপ জয় করে আসা দল। এছাড়া দুই দলের কোনো ম্যাচেই তিন গোল হয়নি। ২-০, ১-০, ২-১, ১-১—এমন ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচগুলো।
ফ্রেন্ডলি ম্যাচের ফলাফলই বলে দেয়, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। এই প্রথম বৈশ্বিক আসরের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মোকাবেলা বলে দুই দলই নিজেদের সেরা নিংড়ে দিয়ে খেলবে। ফলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ক্ল্যাসিক এক ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।
আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত মোট ৮৭টি দেশের সঙ্গে ১ হাজার ১০৯টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে তারা জিতেছে ৬১৯ ম্যাচ, ড্র করেছে ২৬৭টি আর হারের স্বাদ পেয়েছে ২২৩টিতে। আলবিসেলেস্তেদের জয়ের হার ৫৬ শতাংশ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দেশ উরুগুয়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০৪টি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এছাড়া চিরবৈরী দেশ ব্রাজিলের সঙ্গে ১১১টি ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে ১০৮টি ম্যাচ খেলেছে আকাশি-সাদা জার্সিধারীরা। ১৯২০ সাল থেকে শুরু করে ৭৮৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে স্পেন জিতেছে ৪৬৮টি, হার ১৩৮টিতে। জয়ের হার ৫৯.৬২%।