মিডফিল্ডে জেরার্ড-ল্যাম্পার্ড-স্কোলস-বেকহাম। ডিফেন্সে রিও ফার্দিনান্দ-ক্যারাঘার-অ্যাশলি কোল। আক্রমণভাগে মাইকেল ওয়েন- ওয়েইন রুনিরা ছিলেন। তারকার ছড়াছড়ি দেখা যেতো বেঞ্চেও। বলা হচ্ছে ইংল্যান্ডের গোল্ডেন জেনারেশন বা ফুটবলে সোনালী প্রজন্মের কথা। কিন্তু আলো ছড়াতে একদমই পারেনি সে প্রজন্ম। আত্মকেন্দ্রিকতা ও অহংকারই সে ব্যর্থতার কারণ— এমন খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সে দলের অন্যতম তারকা লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিফেন জেরার্ড।
ইংল্যান্ডের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর ব্যর্থতার জন্য দলের প্রধান খেলোয়াড়দের ‘অহংকারী ও পরাজিত’ মনোভাবকে দায়ী করেছেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক খেলা থাকাকালীন তিনি কখনো কখনো বিষয়টিকে ‘ঘৃণা’ করতেন।
৪৫ বছর বয়সী জেরার্ড ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ১১৪টি ম্যাচ; অংশ নিয়েছেন ছয়টি বড় টুর্নামেন্টে। তবে তার সময়ে একবারও দল সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি।
রিও ফার্দিনান্দ প্রেজেন্টস পডকাস্টে অতিথি হিসেবে এসে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন লিভারপুলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ইংলিশ কোচের উচিত ছিল তাকে, চেলসির ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল স্কোলসকে সফলভাবে মাঝমাঠে খেলানো।
জেরার্ড বলেন, ‘আমরা সবাই ছিলাম অহংকারী ও পরাজিত মানসিকতার। এখন যখন আমি টিভিতে জেমি ক্যারাঘারকে পল স্কোলসের পাশে দেখি, তাদের মনে হয় ২০ বছরের বেস্ট ফ্রেন্ড। গ্যারি নেভিলের সঙ্গে ক্যারাঘারকে দেখলেও তাই মনে হয়। অথচ আমি সম্ভবত তোমার (রিও ফার্দিনান্দ) সঙ্গে এখন যতটা ঘনিষ্ঠ, ১৫ বছর ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সময় ততটা ছিলাম না।‘
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা ২০ বছর বয়সে বন্ধু হতে পারেননি! ‘কারণটা কি অহংকার ছিল? প্রতিদ্বন্দ্বিতা? ইংল্যান্ড দলের ভেতরের সংস্কৃতির জন্যই তেমনটা হয়েছিল। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ বা একাট্টা ছিলাম না। আমরা কোনো দলই ছিলাম না। কখনোই সত্যিকারের ভালো, শক্তিশালী দল হতে পারিনি।‘
৪৫ বছর বয়সী এই সাবেক লিভারপুল অধিনায়ক বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলে থাকাটা অনেক সময় ঘৃণা করতাম। রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা একা বসে থাকতে হতো। তখন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনের উপায় ছিল না। খেলাগুলো ভালো লাগত, প্রশিক্ষণ ভালো লাগত, কিন্তু দলের সঙ্গে কোনো বন্ধন ছিল না।’
জেরার্ড জানান, লিভারপুলে যেমন তিনি নিজেকে ‘বিশেষ’ মনে করতেন, ইংল্যান্ডে কখনোই সে রকম আচরণ পাননি। ‘লিভারপুলে আমি পরিবারের মতো ছিলাম। কিন্তু ইংল্যান্ডে কেবল ম্যাচটা খেলে ফিরে যেতে চাইতাম।’
বর্তমান ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের প্রশংসা করে জেরার্ড বলেন, ‘সাউথগেটকে অনেকেই অবমূল্যায়ন করে। কিন্তু তিনিই দলে একাত্মতা তৈরি করেছেন। আমাদের সময় প্রতিভা ছিল, কিন্তু আমরা দল ছিলাম না—ছিলাম শুধু প্রতিভাবান কয়েকজন ব্যক্তি। এমন দল কখনো সাফল্য পায় না।’
ইএসপিএন অবলম্বনে