টানা তিন টেস্ট হেরেই অ্যাশেজ খুইয়েছে ইংল্যান্ড। অবশেষে সম্মান ফিরে পাওয়ার মিশনে কিছুটা হলেও সফল হলো বেন স্টোকসের দল। প্রায় দেড় দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড। মেলবোর্ন টেস্টে ১৭৫ রানের লক্ষ্য চার উইকেট হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় টানা ১৯ ম্যাচের জয়খরা কাটাল ইংল্যান্ড।
অস্বাভাবিকভাবে মাত্র দুই দিনেই শেষ হওয়া এ ম্যাচ ছিল টেস্ট ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। সিরিজে একাধিক টেস্ট দুই দিনে শেষ হওয়ার ঘটনা পঞ্চমবারের মতো ঘটল, আর অস্ট্রেলিয়ায় এর আগে এমনটা দেখা গেছে মাত্র দু’বার। দুই দিনে রেকর্ড ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি দর্শক মাঠে এলেও ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বক্সিং ডে টেস্টের কোনো দিনের টিকিটই যে খুব বেশি অবিক্রিত থাকে না।
প্রথম দিনেই ২০ উইকেট পতনের পর মেলবোর্ন টেস্ট পরিণত হয় বোলারদের স্বর্গরাজ্যে। কিউরেটর ১০ মিলিমিটার ঘাস রেখে দিয়েছিলেন টেস্টের শুরুতে। তাতেই ব্যাটারদের দক্ষতা নিয়ে বিস্তারিত লেখার রসদ পেয়ে যায় বিশ্লেষক ও সমালোচকরা। দ্বিতীয় দিনে ৪২ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাটিং শুরু করা অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩২ রানে। ব্রাইডন কার্স ও বেন স্টোকসের তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে অজি ব্যাটিং লাইনআপ। কার্স ও স্টোকস মিলে ভাগ করে নেন সাতটি উইকেট।
ব্যাট হাতে ‘বাজবল’ বিপ্লব নিয়ে কথা হলে এবার বুমেরাংয়ের দিকেও আসতে পারে ইঙ্গিত। তবে স্টোকসের দল তাদের ট্রেডমার্ক স্টাইল বাদ দেয়নি। জয়ের জন্য ১৭৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই মারকুটে মেজাজে ছিলেন জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেট। মাত্র ৭ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫১ রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। ডাকেটের উদ্ভাবনী ‘স্কুপ’ আর ক্রলির দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভগুলো জানান দিচ্ছিল, ম্যাচটি দ্রুত শেষ করতেই নেমেছে ইংল্যান্ড। তবে মাঝপথে ক্রলি ও ডাকেটের বিদায়ের পর কিছুটা চাপে পড়েছিল সফরকারীরা।
তরুণ জ্যাকব বেথেল ৪০ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। যদিও জয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে জো রুট ও বেন স্টোকস দ্রুত আউট হলে গ্যালারিতে কিছুটা স্তব্ধতা নেমে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪টি ‘লেগ বাই’ ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দেয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই প্রথম টেস্ট যেখানে কোনো ব্যাটার ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাননি।
এই জয়ের ফলে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জা এড়ালো ইংল্যান্ড। মাত্র দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মেলবোর্নের গ্যালারি সাক্ষী হলো এক ঐতিহাসিক ইংলিশ গর্জনের।