ফিফা অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ

আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মরক্কোর যুবারা

৭৬ শতাংশ বল পজেশনের সঙ্গে গোলে ২০টি শট নিয়েও জাল খুঁজে পেল না আর্জেন্টাইনরা।

মরক্কোর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক মিডফিল্ডার ইয়াসির জাবেরি। পর্তুগালের শীর্ষ লিগে এফসি ফামালিকাওর হয়ে খেলা এই তরুণ প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে দুটি দুর্দান্ত গোল করেন।

চিলির সান্তিয়াগোতে লেখা হলো ফুটবলের নতুন ইতিহাস। রোববার রাতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে মরক্কো। যেকোনো পর্যায়ের ফুটবলে এটাই মরক্কোর প্রথম বিশ্বকাপ জয়।

এ জয় শুধু মরক্কোর জন্যই নয়, পুরো আফ্রিকা মহাদেশের জন্য নিয়ে এসেছে এক বিশাল গর্বের উপলক্ষ। ২০০৯ সালে ঘানার পর প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে এই ট্রফি তুলল মরক্কো।

মরক্কোর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক মিডফিল্ডার ইয়াসির জাবেরি। পর্তুগালের শীর্ষ লিগে এফসি ফামালিকাওর হয়ে খেলা এই তরুণ প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভেঙে দুটি দুর্দান্ত গোল করেন। ২-০ গোলের এই লিডই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে আফ্রিকার দলটি। আর সেটাই হয়ে দাঁড়ায় ফাইনাল জেতার জন্য যথেষ্ট।

টুর্নামেন্ট জুড়েই মরক্কোর যুবাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। নকআউট পর্বে একে একে কঠিন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের মতো দলগুলোকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় হাকিমি-জিয়েশদের উত্তরসূরিরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ছ’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারানো তাদের মুকুটে যোগ করল নতুন পালক।

আর ব্যর্থ হলো আর্জেন্টিনার সপ্তম শিরোপার স্বপ্ন। বলে রাখা ভালো, ফাইনালের এ হারটিই পুরো আসরে আর্জেন্টিনার প্রথম পরাজয়। কিন্তু মরক্কোর অদম্য গতির সামনে তাদের সেই স্বপ্নভঙ্গ হলো। অপরাজিত হিসেবে ফাইনালে আসা দিয়েগো প্লাসেন্তের দলকেই ভাবা হচ্ছিল ফেবারিট। কিন্তু ৭৬ শতাংশ বল পজেশনের সঙ্গে গোলে ২০টি শট নিয়েও জাল খুঁজে পেল না আর্জেন্টাইনরা।

ফাইনালের আগে থেকেই আর্জেন্টিনা পাচ্ছিল না তাদের সেরা দুই খেলোয়াড়কে— বায়ার লেভারকুসেনের ক্লদিও এচেভেরি এবং রিয়াল মাদ্রিদের ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। এই দুই তারকাকে ছাড়াই ফাইনালে পৌঁছানো আর্জেন্টিনার জন্য বড় অর্জন হলেও শেষ বাধা আর পেরোনো হলো না।

আরও