শনিবার আর্সেনালের পয়েন্ট নষ্টের পর, প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে কে নিজেদের দাপট প্রতিষ্ঠা করবে, সে প্রশ্নের উত্তর দিল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের ‘এল ক্লাসিকো’ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে যে লড়াইকে ডাকা হচ্ছে, সেই লিভারপুল-ম্যান সিটি ম্যাচটাই ছিল ডাগআউটে পেপ গার্দিওলার হাজারতম ম্যাচ, আর সেখানে তার শিষ্যরা কী দারুণ উপহারটাই না দিল! একপেশে লড়াইয়ে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পেপ গার্দিওলার দল বুঝিয়ে দিল, তারা লম্বা রেসের ঘোড়া। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষস্থানধারীর সঙ্গে সিটির ব্যবধান এখন মাত্র চার পয়েন্ট।
শুরু থেকেই আগ্রাসী সিটি লিভারপুলকে কোনোমতেই খেলার ছন্দে আসতে দেয়নি। এর মাঝেও ১৩ মিনিটে আরলিং হাল্যান্ডের পেনাল্টি বাঁচান লিভারপুলের গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলি। কিন্তু তাতেই থেমে থাকেননি নরওয়েজিয়ান তারকা। কয়েক মিনিট পরই নিখুঁত হেডে মৌসুমে নিজের ১৯তম গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষভাগে ভাগ্যের সহায়তা পেয়ে নিকো গনসালেজের শটে ভার্জিল ফান ডাইককে ছুঁয়ে বল জালে জড়ায়, ব্যবধান হয় ২-০।
মাঠে ঝড় তুলেছেন জেরেমি ডোকু। ছবি- দ্য গার্ডিয়ান
পুরো ম্যাচে আগুন ঝরিয়েছেন জেরেমি ডোকু। লেফট ফ্ল্যাংক দিয়ে অবিরাম দৌড়, ড্রিবল, আর শেষে দারুণ এক কার্লিং শটে ৩ গোলের লিড —গ্যালারি থেকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেলেন এই তরুণ বেলজিয়ান উইঙ্গার। চ্যাম্পিয়নস লিগে যে কনর ব্র্যাডলি সাক্ষাৎ দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছিলেন ভিনিসিউসকে, সেই কনরকে পরের ম্যাচেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখিয়ে দিলেন ডোকু।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দুটি সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেও লিভারপুলের হারের মূল কারণ ছিল সিটির শ্রেষ্ঠত্ব ও তীক্ষ্ণতা। বল পজিশন ও ফিজিক্যাল থ্রেটে সিটি ছিল যোজন-যোজন এগিয়ে। আর্নে স্লটের দল টানা চতুর্থ অ্যাওয়ে ম্যাচে হারল—২০১২ সালের পর এমনটা প্রথম।
ম্যানেজার হিসেবে ১০০০তম ম্যাচের আগে গার্দিওলাকে ক্লাবের পক্ষ থেকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। মাঠেও তার কৌশলগত দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মিডফিল্ডারদের অবস্থানের পরিবর্তন এবং ফ্লুয়েন্সি ছিল ভিন্ন মাত্রার। বামপাশে ডোকুর রাজত্ব তো ছিলই, বার্নাদো সিলভা মিডফিল্ডের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। গার্দিওলার ট্যাকটিক্সে সিটির খেলায় বারবারই চোখে পড়বে অতিরিক্ত একজন মিডফিল্ডারকে, আর মূলত সেটাই বিধ্বস্ত করেছে অল রেডদের মিডফিল্ডকে।
গার্দিওলার জন্য এটি কেবল একটি জয় নয়, বরং তার ফুটবল দর্শনের আরেকটি নিখুঁত প্রদর্শনী। ইতিহাদে সিটির পাসিং, পজিশনিং আর গতি লিভারপুলকে পুরোপুরি ছিটকে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে গার্দিওলার মুখে হাসি, গ্যালারিতে করতালি—একজন কিংবদন্তির ১০০০তম অধ্যায়ের সফল পরিণতি।