মিরপুর টেস্ট

সাদমানকে ৯৯ রানে রেখে দিনের খেলা শেষ

ইনিংসে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করা সাদমান ইসলাম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৫ বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দশম এবং ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটি। ৫ চারে বাঁ-হাতি এই ওপেনার ইনিংস সাজিয়েছেন। শান্ত’র বিদায়ে বড় জুটির আশায় থাকা বাংলাদেশ হোঁচটই খেলো বলা যায়। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সাদমানের ৫৯ রানের জুটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

৩ আপডেট
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

    সাদমানকে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে দিন শেষ বাংলাদেশের

    সাদমানকে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় রেখে মিরপুর টেস্টের প্রথমদিন শেষ বাংলাদেশ। তিন অঙ্কের ম্যাজিকথেকে মাত্র চার রান দূরে ছিলেন তিনি। তখনই আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। পরে শুরু হলেও ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ফলে অপেক্ষা বেড়ে গেল ৩১ বছর বয়সী ওপেনারের শতকের। আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান। বাংলাদেশ দিনের খেলা শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে।

    দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৯ রানে তানজিদ হাসানকে হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। এরপর সাদমান ও মুমিনুল হকের ৫৯ রানের জুটি প্রাথমিক চাপ সামাল দেয়। মুমিনুল ২৮ রান করে ফিরলে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

    দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ও শান্তর জুটি বড় হয়নি। ৪২ বলে ১৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রিভিউ নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। এরপর সাদমানের সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়।

    ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন সাদমান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত রান তুলছিলেন হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ৬৭ রান। চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। সাদমান ৭৯ ও হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    চা বিরতির পরও রান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন দুজন। তবে ক্র্যাম্পের কারণে বিপাকে পড়েন হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও জশুয়া বিশপের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আবারও ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন তিনি। ৮৪ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। হৃদয়ের জায়গায় ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। পরে আলোকস্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিকান দুইটি এবং সিলস একটি উইকেট পেয়েছেন।

  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

    খেলা বন্ধ

    মিরপুরে আলোকস্বল্পতায় আবারো খেলা বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে আলোকস্বল্পতায় প্রায় ৫০ মিনিট খেলা বন্ধের পর চালু হলে চার ওভার স্পিন বোলিং করানো হয়। পরে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন পেসার শামার জোসেফ। তবে আম্পায়ার জানিয়েছেন, পেসারদের বোলিং করার জন্য যথেষ্ট আলো নেই। তাই আবার খেলা বন্ধ। ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন সাদমান ইসলাম।

  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

    স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়

    মুশফিকুর রহিমের চোটে মিলল একাদশে ফেরার সুযোগ। ব্যাটিংয়ে শুরুটাও করলেন আশা জাগানিয়া। কিন্তু ফিফটির আশা জাগিয়ে পরে আর চালিয়ে নিতে পারলেন না তাওহিদ হৃদয়। পায়ের পেশির টানে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছেড়ে যেতে হলো মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানকে।

    মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর জুটি বাধেন সাদমান ইসলাম ও হৃদয়। দুজনের ব্যাটে দ্বিতীয় সেশনে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। পরে শেষ সেশনের শুরুতেই আসে হৃদয়ের চোটের ধাক্কা। চা বিরতির পর পঞ্চম ওভারে দ্রুত দুটি রান নিতে গিয়ে প্রথমবার বাম পায়ের পেশিতে টান অনুভব করেন হৃদয়। সঙ্গে সঙ্গে পিচের পাশেই শুয়ে পড়েন তিনি। লম্বা সময় নিয়ে চলে তার শুশ্রূষা। পরে উঠে দাঁড়িয়ে আবার শুরু করেন ব্যাটিং।

    কয়েক ওভার পর নন স্ট্রাইকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবার অস্বস্তি দেখা যায় হৃদয়ের চোখে-মুখে। পরে ৬৬তম ওভারে রস্টন চেইসের বলে স্কয়ার কাট করে সিঙ্গেল নিতে আবারও তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন ২৬ ছুঁইছুঁই ব্যাটসম্যান। আবারও তড়িঘড়ি করে ছুটে আসেন ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম। পিচের পাশে শুইয়ে হৃদয়ের পায়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রাথমিক শুশ্রূষা দেওয়া হয়। তবে এবার তেমন সুবিধা করা যায়নি। উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি হৃদয়ের পক্ষে। তাই মাঠের বাইরে থেকে আনা হয় স্ট্রেচার। সেটিতে করেই মাঠের বাইরে নেওয়া হয় হৃদয়কে। আহত হয়ে ফেরার আগে ৩ চারে ৮২ বলে ৪২ রান করেন হৃদয়।

মিরপুর টেস্টে দিনের ৭০তম ওভার শেষে আলোকস্বল্পতার পর খেলা শুরু হয়েছে। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করেছে বাংলাদেশ। ৯৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন সাদমান ইসলাম, অপর অপরাজিত ব্যাটার লিটন দাসের সংগ্রহ ৭ রান। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন সাদমান ইসলাম

এর আগে,ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মিরপুরে পেসারদের জন্য শুরুটা ছিল দাপুটে। গতি আর সুইংয়ের মিশেলে সফরকারী পেসাররা স্বাগতিক ওপেনারদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন। তবে পরে স্পিনাররা এসেও বেশ টার্ন পেয়েছেন উইকেটে। এসবের মাঝে ২ উইকেটে ৯৬ রান তুলে বাংলাদেশ প্রথম সেশনের খেলা শেষ করে।

ইনিংসে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করা সাদমান ইসলাম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৫ বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দশম এবং ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটি। ৫ চারে বাঁ-হাতি এই ওপেনার ইনিংস সাজিয়েছেন। শান্ত’র বিদায়ে বড় জুটির আশায় থাকা বাংলাদেশ হোঁচটই খেলো বলা যায়। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সাদমানের ৫৯ রানের জুটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ওয়ারিকানের বলটি হালকা বাঁক খেয়েছে, তবে স্টাম্প ও ইম্প্যাক্ট লাইনে থাকা ডেলিভারি শান্ত’র পায়ে আঘাত করার পর ‍শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। রোস্টন চেজ রিভিউ নিলে দেখা যায় বল মিডল-লেগ স্টাম্পে গিয়ে লাগত। ফলে ৪২ বলে ১৬ রান করে ফিরলেন শান্ত। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম আউট হন জেইডেন সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা বলে কানা লাগিয়ে।

বলটি বেরিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে কাভার দিয়ে খেলার চেষ্টা ছিল তানজিদের (৭)। কিন্তু ব্যাটের কানা স্পর্শ করে সেটি স্লিপে থাকা জাস্টিন গ্রিভসের হাতে জমা পড়ে। ৯ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর সাদমান ও মুমিনুল হকের জুটি স্বাচ্ছন্দ্যেই আগাচ্ছিল। কিন্তু এরপর ধৈর্যচ্যুতি ঘটল মুমিনুলের। হাওয়ায় ভাসানো বল ক্রিজ ছেড়ে মিড-অফে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। কিন্তু ব্যাটে ঠিকঠাক না হওয়ায় সেটি শামার জোসেফকে ফাঁকি দিতে পারেনি। মুমিনুল ৫১ বলে ২৮ রান এবং তার সঙ্গে সাদমানের জুটি ভাঙে ৫৯ রানে।

আরও