শেষ হলো নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা

বিশ্বকাপে প্রথমবার গোলহীন আর্লিং হালান্ড

দক্ষিণ ফ্লোরিডার তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও হালান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাপমাত্রার অনুভূতি ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ১৫ মিনিট বাকি থাকতেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাক্কেন

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্লিং হালান্ডকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে উঠল ইংলিশরা। আর এ হারের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে নরওয়ের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান।

টুর্নামেন্টে প্রথম চার ম্যাচে সাত গোল করা হালান্ড এবার প্রথমবারের মতো গোলশূন্য থাকলেন। পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছেন, যার একটি ছিল লক্ষ্য বরাবর। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ তাকে বলই পেতে দেয়নি, ফলে ম্যাচজুড়েই ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ।

দক্ষিণ ফ্লোরিডার তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও হালান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাপমাত্রার অনুভূতি ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ১৫ মিনিট বাকি থাকতেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাক্কেন।

ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, ‘এটা ছিল অভাবনীয় এক যাত্রা।’

তিনি স্বীকার করেন, ম্যাচ যত গড়িয়েছে ততই তার শক্তি ফুরিয়ে যাচ্ছিল।

কোচ সলবাক্কেন বলেন, ‘তাকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল না। ও পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। হয়তো আরো ১০ মিনিট আগেই বদলি করা উচিত ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ওর পায়েও চোট লাগে। ক্লান্তি আর সেই চোট মিলিয়ে ও যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছে।’

ইংল্যান্ডের পরিকল্পনাই ছিল হালান্ডকে বল থেকে দূরে রাখা। ম্যানচেস্টার সিটিতে তার সঙ্গে খেলা ফুটবলারদের অভিজ্ঞতাও সেই কৌশল নির্ধারণে কাজে লাগে। সেই পরিকল্পনা সফলও হয়।

অন্যদিকে হালান্ডের সাবেক বরুসিয়া ডর্টমুন্ড সতীর্থ জুড বেলিংহাম জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক হন। ম্যাচ শেষে দুই তারকা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। এরপর ধীর পায়ে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান হালান্ড।

বিশ্বকাপে আসার আগেই হালান্ড ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। তবে এই আসরে তার লম্বা দেহ, স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে আরো জনপ্রিয় করে তুলেছে।

হালান্ড বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই বিশ্বকাপ আমার জীবনই বদলে দিয়েছে।’

হারলেও নরওয়ের ইতিহাসে এটিই সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে আরো ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই সামনে এগোতে চান হালান্ড।

তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, আমরা নরওয়েকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে তুলে ধরতে পেরেছি।’

আরও