চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল: বুদাপেস্টের পথে ফেভারিট কারা

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের লড়াই।

এবারের ড্র ফুটবল ভক্তদের উপহার দিয়েছে ক্ল্যাসিক সব দ্বৈরথ, যেখানে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ লড়বে ফর্মে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে পাড়ি দিতে হবে লিভারপুল বাধা। আর্সেনাল বনাম স্পোর্টিং সিপি এবং বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদের লড়াইগুলোও উত্তাপ ছড়াচ্ছে ফুটবল মহলে।

উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ঠাসা রাউন্ড অব সিক্সটিন শেষে নির্ধারিত হয়ে গেছে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের লাইনআপ। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের ফাইনালের টিকিট পেতে ইউরোপের আটটি সেরা দল এখন মুখোমুখি সংঘাতের অপেক্ষায়। এবারের ড্র ফুটবল ভক্তদের উপহার দিয়েছে ক্ল্যাসিক সব দ্বৈরথ, যেখানে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ লড়বে ফর্মে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে পাড়ি দিতে হবে লিভারপুল বাধা। আর্সেনাল বনাম স্পোর্টিং সিপি এবং বার্সেলোনা বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদের লড়াইগুলোও উত্তাপ ছড়াচ্ছে ফুটবল মহলে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ: রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বায়ার্ন মিউনিখ

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের লড়াই। ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করে মাদ্রিদ এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। তবে ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে বায়ার্ন মিউনিখ আবির্ভূত হয়েছে বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে বিধ্বংসী দল হিসেবে। হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত ফর্ম এবং জামাল মুসিয়ালা ও আলফোনসো ডেভিসের প্রত্যাবর্তন বায়ার্নকে আরো শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য রিয়াল মাদ্রিদকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের ক্ষমতা রাখে।

চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ও লিভারপুলের ‘রিভেঞ্জ মিশন’

গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এবারও নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ লিভারপুল, যারা গত মৌসুমে পিএসজির কাছেই শেষ ষোলোতে হেরে বিদায় নিয়েছিল। আর্নে স্লটের লিভারপুলের জন্য এটা প্রতিশোধ নেয়ার মোক্ষম সুযোগ। পিএসজির প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ওসমানে ডেম্বেলে এবং কাভিশা কাভারাসখেইয়াকে। বিপরীতে হাঙ্গেরিয়ান তারকা ডমিনিক সোবোসলাইয়ের জাদুকরী পারফরম্যান্সের ওপর ভরসা রাখছে অলরেডরা, বিশেষ করে ফাইনালটি তার নিজের শহর বুদাপেস্টে হওয়ায় তার অনুপ্রেরণা থাকবে তুঙ্গে।

বার্সেলোনা ও আতলেতিকো

স্প্যানিশ ডার্বি ইউরোপীয় মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে লা লিগার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ২০১৫ সালের পর প্রথম শিরোপার খোঁজে থাকা বার্সেলোনার জন্য দিয়েগো সিমিওনের রক্ষণাত্মক ফুটবল ভাঙা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। হান্সি ফ্লিকের বার্সা এবার প্রাগম্যাটিক ফুটবল বা বাস্তববাদী কৌশলে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। তবে আতলেতিকোর হুলিয়ান আলভারেজ এবং জুলিয়ানো সিমিওনেদের কাউন্টার অ্যাটাক করার ক্ষমতা বার্সার রক্ষণের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। ফ্লিকের হাইলাইন ডিফেন্স বার্সা শিবিরের জন্য বহুদিন ধরেই মাথাব্যথার কারণ, বিশেষত ইনিগো মার্তিনেজ ক্লাব ছাড়ার পর থেকে।

তারকা বনাম তারকা

এই পর্যায়ে নজর থাকবে কয়েকজন ফলাফল নির্ধারক খেলোয়াড়ের দিকে। রিয়ালের ভিনিসিউস জুনিয়র এরইমধ্যে নকআউট পর্বে নিজের প্রভাব দেখিয়েছেন। বায়ার্নের হয়ে হ্যারি কেইন আছেন দুর্দান্ত ফর্মে আর তাকে থামানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

বার্সেলোনার মাঝমাঠে পেদ্রির সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে আতলেতিকোর রক্ষণভাগ ভাঙতে। রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামালের দিকে দৃষ্টি থাকবে প্রতিপক্ষ থেকে দর্শক— সবার। অন্যদিকে পিএসজির আক্রমণে উসমান ডেম্বেলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজাইরে দুয়ের দিকেও থাকবে নজর।

উদীয়মান তারকা

এবারের আসরে তরুণ প্রতিভাদের জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে। বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক পাউ কুবারসি এবং ১৮ বছরের হোল্ডিং মিডফিল্ডার মার্ক বেরনাল দেখাচ্ছেন দারণ পরিপক্বতা। মিডফিল্ডে পেদ্রি একঝন বার্সার বড় ভরসার নাম। বায়ার্নের লেনার্ট কার্লও ১৮ বছর বয়সে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের অধিকাংশেরই বাজি বায়ার্ন মিউনিখের পক্ষে। তাদের মতে, বায়ার্নের স্কোয়াড ডেপথ এবং বর্তমান ছন্দ তাদের শিরোপার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে। তবে আর্সেনালের রক্ষণাত্মক জমাটবদ্ধতা এবং সহজ ড্র তাদের ফাইনালের পথে একটি বড় দাবিদার করে তুলেছে। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদকে এই আসরে কখনোই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের ঐতিহ্যই বড় শক্তি।

সব মিলিয়ে, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই শুরু হচ্ছে প্রকৃত লড়াই। তারকা, কৌশল আর চাপ—সবকিছুর মিশেলে এবারও ইউরোপিয়ান ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক রোমাঞ্চকর সমাপ্তি।

আরও