একসময় শেষ মুহূর্তের গোলে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে এনে যারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল, সেই লিভারপুল এখন তাদের নিজস্ব 'হাই-ওয়্যার অ্যাক্ট'-এর শিকার। সাত দিনের ব্যবধানে তিন ম্যাচে হারের পর প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান হারিয়েছে আর্নে স্লটের দল।
গত সপ্তাহে চেলসির বিপক্ষে ৯৫তম মিনিটে এস্টেভাও উইলিয়ানের গোল এবং তার আগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৯৭তম মিনিটে এডি এনকেতিয়ার আঘাত — দুই ম্যাচেই শেষ মুহূর্তে হেরে যায় লিভারপুল। মাঝখানে চ্যাম্পিয়নস লিগে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ০–১ ব্যবধানে পরাজয় যোগ হয়েছে তাদের দুঃসময়ের তালিকায়।
নতুন মৌসুমে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের সাইনিং করা লিভারপুল এখনো খুঁজে পাচ্ছে না নিজেদের তাল। নতুন খেলোয়াড় ফ্লোরিয়ান ভার্টজকে স্ট্রাইকারদের পেছনে খেলানোর কারণে মাঝমাঠ দিয়ে দলটি আরো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এখনো দলের মূল খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেননি এই জার্মান। আর ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ইসাক এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি বলেই মনে হচ্ছে।
নতুন ফুলব্যাক জেরেমি ফ্রিমপং ও মিলোস কেরকেজের আক্রমণাত্মক প্রবণতাও পাল্টা আক্রমণে দলকে আরো বিপদে ফেলছে।
কোচ স্লট বলেছেন, ‘শেষ দুই ম্যাচে আমাদের সুযোগ ছিল, কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।‘ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু ভাগ্য নয় — বরং আত্মবিশ্বাস ও ভারসাম্যেরও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দলের তারকা মোহামেদ সালাহও যেন কিছুটা ছন্দ হারিয়েছেন। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি, আর আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে তার খেলায়।
এ মৌসুমে লিভারপুলের ম্যাচে এখনো পর্যন্ত ৮০ মিনিটের পর মোট ১০টি গোল হয়েছে, যার মধ্যে আটটিই নির্ধারণ করেছে ম্যাচের ফল। মৌসুমের শুরুতে যেসব গোল তাদের জয় এনে দিয়েছিল, এখন সেগুলোই পরিণত হয়েছে পরাজয়ের কারণে।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে কিছুটা সময় পাবে স্লটের দল। এ বিরতিকে নিজেদের পুনর্গঠন ও মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিরতির পর লিভারপুল স্বাভাবিকভাবেই ২৪১ মিলিয়ন পাউন্ডের আক্রমণাত্মক প্রতিভা ইসাক ও ভার্টজ থেকে আরো অনেক কিছু আশা করবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভরসা রেখে কতদিন টিকে থাকতে পারবে লিভারপুল!