শেষের বাঁশি বাজালেন রেফারি। এ শেষ শুধু আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচের নয়; আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও। যদিও চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলেছে অনেক আগেই। উপলক্ষটা কেবলই ছিল প্রিয় সমর্থকদের সামনে থেকে বিদায় নেয়ার।
কিন্তু শেষের মঞ্চেও দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন লিওনেল মেসি। বিদায়ী ম্যাচে আফ্রিকান দেশ বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করলেন। দেশের হয়ে ১২৬তম গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেন রোজারিওর খুদে জাদুকর।
এস্তাদিও মনুমেন্তালে নিজেদের কিংবদন্তি তারকার জন্যই ছিল পুরো আয়োজন, যেখানে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয়ে সেই উৎসবের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদায়ী ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোলের প্রতিটিতেই নিজের ছোঁয়াটা রেখেছেন এলএম টেন। পেনাল্টিতে শেষ গোলটি করার আগে নিকোলাস ওটামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে করিয়েছেন বাকি দুই গোল।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। মেসির ৪৮তম মিনিটে নেয়া কর্নার থেকে বল পান বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা আরেক তারকা ডিফেন্ডার ওটামেন্দি। বিদায় রাঙানোর জন্য গোলটির চেয়ে ভালো কিছু হতে পারত না। মেসির পাঠানো বল তিনি ভলিতে জালে জড়িয়েছেন। মিনিট দুয়েক পর তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৬১ মিনিটে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলেও বলের জোগানদাতা একজনই। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ‘১০ নম্বর’ নিকো পাজ। আর ম্যাচের শেষ গোলটা হলো বিদায়ী মহাতারকার পা থেকে। অগাস্তিন গিয়াই বেনিনের বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ৭১ মিনিটে সফল স্পট কিক নেন মেসি, ওপরের কোনা দিয়ে তিনি জোরালো শট নিতেই সতীর্থদের ঘেরা বৃত্তে উদযাপনে মাতেন।
২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন ১৮ নম্বর জার্সি পরে। গতকাল ২০৮তম ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিটি তুলে রাখলেন তিনি, যেখানে ১২৬ গোল ও ৬৯টি অ্যাসিস্ট লেখা হলো তার নামের পাশে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি জিতেছেন ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা।