জুভেন্টাসের পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করার রেকর্ড গড়লেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস দিয়েছে এমন তথ্য।
ফোর্বসের ‘২০২০ সেলিব্রেটি ১০০ লিস্ট’-এ চতুর্থ স্থানটি রোনালদোর। গত এক বছরে কর ও অন্যান্য ফি বাদে তার আয়ের পরিমান ছিল ১০৫ মিলিয়ন ডলার। গত বছর খুবই অল্প ব্যবধানে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে হারিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী রোনালদো। মেসি এ সময় আয় করেন ১০৪ মিলিয়ন ডলার।
অবশ্য সক্রিয় খেলোয়াড় হিসেবে রোনালদোই প্রথম ১০০ কোটি ডলার উপার্জনকারী ক্রীড়াবিদ, এমন কিন্তু নয়। তার আগে এমন কীর্তি আছে গলফার টাইগার উডস ও বক্সার ফ্লয়েড মেওয়েদারের। দলগত খেলায় অবশ্য রোনালদোই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড করলেন।
১৭ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে মাঠে দুর্দান্ত প্রতাপ দেখিয়েছেন রোনালদো, যা তাকে এনে দিয়েছে কাড়ি কাড়ি অর্থ। বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে বেতন, বোনাস থেকে তিনি আয় করেছেন ৬৫ কোটি ডলার, জুভেন্টাসের সঙ্গে ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করলে যা পৌঁছবে ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।
ফোর্বস বলছে, রোনালদোর আয়ের বাকিটা এসেছে তার তারকাখ্যাতিকে উপজীব্য করে। নাইকির সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে তার রয়েছে আজীবন চুক্তি, যা তাকে বছরে এনে দেয় ২ কোটি ডলার। এছাড়া ক্লিয়ার শ্যাম্পু, হারবালাইফ ও অ্যাবটের সঙ্গেও অংকের চুক্তি রয়েছে সিআরসেভেন খ্যাত এই ফুটবলারের। নিজেও ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। খুলেছেন সিআর৭ নামের ব্র্যান্ড, যাতে রয়েছে অন্তর্বাস, জুতা, সুগন্ধি ও ডেনিম ওয়্যার সামগ্রী।
চার সন্তানের পিতা এ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাথলিট, ইনস্টাগ্রামে তার রয়েছে ২০ কোটিরও বেশি অনুসারী। এখান থেকেও বিপুল অর্থ আয় করেন রোনালদো। তার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ব্যবসা করে ক্লাবও। রোনালদোকে কেনার পর তার নামে জার্সি বাজারে ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ লাখ ২০ হাজার কপি বিক্রি হয়ে যায়, যার বাজারমূল্য ৬ কোটি ডলার!
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো তিনটি শীর্ষ ক্লাবে খেলেছেন রোনালদো। তার শোকেসে রয়েছে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি লা লিগা ও একটি সিরি-এ এবং পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাসহ অসংখ্য মুকুট।পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ২০১৬ সালে জিতেছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর ট্রফি জিতেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
সূত্র: ইউরো নিউজ